craziness

Sexuality:Instead of suppressing or acting on impulse, become consciously aware of it

সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যাক্তি কে? যার হাতে অনেক ক্ষমতা, যার আঙ্গুলের ইশারায় সবাই চলে সে? নাকি যার অনেক অর্থ-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি সে? অনেকেরই ধারণা ক্ষমতাবান হলো সেই যে নিজের খেয়াল খুশিমতো যেকোন কিছু করার অবাধ স্বাধীনতা রাখে। কিন্তু ক্ষমতা ব্যাবহার করলেই যে কেউ ক্ষমতাবান হয়ে যায় না। ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকা ও ক্ষমতাবান হওয়া এক না। যে ব্যাক্তি যত ক্ষমতাধর সে তত কম ক্ষমতা প্রয়োগ করে। অক্ষম ও দূর্বল যারা তারাই ক্ষমতা প্রয়োগে স্বেচ্ছাচারিতা দেখায়। ক্ষমতাধর সেই ব্যাক্তি যে শত্রুর মুখোমুখি হতে পারে নাজুক (vulnerable) অবস্থায়, কোনরকমের অস্ত্র ও পাহারাদার(guard) ছাড়াই। ক্ষমতাবান ব্যাক্তি নিজের বুক পেতে দিতে পারে শত্রুর কাছে, কারন সে ভয়ে তাড়িত নয়, তার আস্থা মানুষের মানবিকতায়, মানুষের মহানুভবতায়।

মানুষের যৌন কামনা-বাসনা (sexual desire) স্বাভাবিক হলেও এই ব্যাপারে জনমানুষের মধ্যে ট্যাবু কাজ করে। ভয়, লজ্জা, অপরাধবোধ, পাপবোধ, অনাকাক্ষিত তাড়ণা বলে মানুষ যৌনতা (sexuality) নিয়ে খুবই কম খোলামেলা হয়ে থাকে। যৌন আবেগ উত্তেজনা সচেতনে পরিহার ও দমন করে যায়। অথচ এই যৌন তাড়নাকে বুঝতে পারলে মানুষের জীবন অনেক সৃষ্টিশীল, সুন্দর ও গঠনমূলক হতে পারে। যৌন তাড়না আসলে আদিম শক্তির উৎস (raw source of power), একে ঠিকমতো channel করতে শিখলে মানুষ সৃষ্টিশীল হয়ে ওঠে। যৌন তাড়না মূলত reproduction এর সাথে সরাসরি জড়িত, যেজন্য এই শক্তি যেকোন ধরণের সৃজনশীলতারও উৎস। যখন মানুষ সে শক্তির যথাযথ ব্যবহার শেখে তখন দেখা যায় জৈবিক তাড়নায় সে আর আগের মতো তেমন তাড়িত হচ্ছে না। যারা এই শক্তিকে ব্যাবহার করতে শেখেনি মূলত তারাই কোনরকমের চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই যৌন কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। মূলতঃ সেই ব্যাক্তি যৌন আবেদনময় যে তার যৌনতার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে জানে। এক কথায় বলা চলে- Instead of suppressing their sexual desire or acting on impulse, they become consciously aware of it. যে ব্যাক্তি যৌনতার ব্যাপারে স্বেচ্ছাচারী সে মূলত (vulnerable) অতি দূর্বল ও নাজুক প্রকৃতির, কারন যৌন তাড়নার উপর তার নিজের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই; বরং অস্বাভাবিক যৌন তাড়নাই অচেতনে তাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

মহাদেব শিবকে নীলকণ্ঠ বলা হয় এই কারনেই যে তিনি সমুদ্রমন্থনের সময় হলাহল পান করেছিলেন, যাতে করে সমগ্র সৃষ্টি ও ত্রিভুবন রক্ষা পায়। যদিও এটা একটা প্রতীকী ব্যাপার, মূল ব্যাপার হল আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে ভালো-মন্দ দুইই আছে; যাকিনা মানব জীবনের অবধারিত নিয়তি। মনোবিদ্যার ভাষায় আঁধারটুকুকে বলা হয় shadow side/ dark side; যাকিছু অনাকাক্ষিত, অগ্রহণযোগ্য সেইসব চিন্তা ও আবেগীয় অনুভূতিগুলো মূলত এই অংশে পড়ে। যেসব চিন্তা, আবেগ, ও ব্যাবহার পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য সেগুলো আমরা চেপে রাখি(surpressed)। চেপে গেলেই সমস্যার সমাধান হয় না সব সময়, চেপে যাওয়া অংশগুলো আস্তে আস্তে জমতে থাকে; এবং এক সময় তা সুযোগ পেলেই বের হয়ে আসতে চায়। সেটা আমাদের দৈনন্দিন কার্যকলাপে নানাভাবে বের হয়ে আসে নানারকমের অসংগতিপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়ে আমাদের নিজেদেরই অজান্তে। অনেক সময় যারা যৌন আবেদনময় তাদের প্রতি আগ্রাসী আচারন হয়েও বের হয়ে আসে। যে নিজের যৌন তাড়নাকে ভয় ও লজ্জা করে, মূলত সেই অন্যের যৌন আবেদনকে ভয় করে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায়, অন্যকে নিন্দামন্দ করে নিজেকে পবিত্র দাবী করে থাকে। যেজন্য সে অনেক সময় অন্যদের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করে, bullying ও shaming করে থাকে। যে নিজের যৌন তাড়নাকে বুঝতে শেখে, এবং কোন রকমের harsh judgement or shame ছাড়া পর্যবেক্ষণ করতে শেখে, তার যৌন পীড়িত হয়ে অন্ধ আবেগে যৌন কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। মহাদেব শিব মূলত এই awareness এর ব্যাপারটাই আমাদের দেখিয়ে দেয়। নেতিবাচক যেকোন আবেগ যদি আমরা compassion নিয়ে পর্যবেক্ষণ করি, লজ্জা বা ভয়ে দমন না করে; তাহলে সেইসব নেতিবাচক চিন্তা বা আবেগগুলো disarm হয়ে যায়, charged না হয়ে। এর ফলে হয় কি, সেইসব নেতিবাচক আচরণ / ব্যাবহারের উপরে আমাদের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে; আর ফলস্বরুপ আমাদের উপর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত আবেগ-অনুভূতিগুলো নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

মিউনিখের এক বাঙালী মসজিদে গিয়েছিলাম, খুব সুন্দর দেখতে একটা মেয়ে রমাযানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য এবং এই সময়ে আমাদের করনীয় কি এইসব বেশ গুছিয়ে বয়ান করেছিলো। আমি মুগ্ধ হয়েই শুনছিলাম। সেই মেয়েটির মাকে দেখলাম কন্যার সাবলীল বয়ানে যারপরনাই খুশি, তার খুশি দেখে আমিও খুশি হয়ে তাকে আলিঙ্গনে অভিনন্দন জানালাম। কিন্তু এর মধ্যে টয়লেট সারতে সেই সাথে আমার ছেলে ও বরের খোঁজ নিতে আমি মসজিদের পর্দা তুলে একটু বামদিকে (ডানদিকে টয়লেট, বামদিকে পুরুষদের বসার জায়গা) তাকাচ্ছিলাম; ঠিক সে সময় সেই মেয়েটির মা ফোবিয়াগ্রস্তের মতো এসে আমাকে বাঁধা দিচ্ছে ওদিকে তাকাতে,ও পর্দার বাইরে যেতে। নারী পুরুষকে আলাদা করার সেই পর্দার উন্মোচন হয়ে অনাকাক্ষিত কিছু ঘটে যেতে পারে এরকম একটা ভাবসাব তার আচরণে। অথচ সেই মসজিদের মূল প্রবেশ পথ ধরে সবাই সেখানে প্রবেশ করে এক সাথে, এমনকি টয়লেট পর্যন্ত সবার শেয়ার করে ব্যাবহার করতে হয়। মহিলার সেই আচরণে আমার করুণা হল; যে মা নিজের মেয়ের যৌনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও শংকাগ্রস্ত থাকে সব সময়, সেই মেয়েটিকে কি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সারাক্ষণ বসবাস করতে হয় তা সহজেই অনুমেয়। অবিশ্বাস, সন্দেহ, উৎকণ্ঠার মধ্যে মেয়েটিকে সারাক্ষণ নিজের আবেগ অনুভূতি তো দমন করতে হয়ই; উপুর্যুপরি নিজের মাকে আশ্বস্ত করতে হয় সারাক্ষণ যে ,সে এখনও যৌন কার্যকলাপে লিপ্ত হয়নি কোনভাবে। তবে এই মেয়ের যৌন কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী; যদি তা না হয় তাহলে এক পর্যায়ে এসে মেয়েটি মারাত্নকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং এক্ষেত্রে উভয় ঘটনাই স্বাভাবিক পরিণতি(outcome)।

কেনো ধর্মীয় বিধি-নিষেধ বিষয়ে জ্ঞান রাখা, ধর্মীয় বাণী তোতাপাখির মতো মুখস্থ করাই যথেষ্ট(enough) নয়, কিংবা লোক দেখানো শালীনতা ও(Modesty) খুব একটা কার্যকরি নয় । এইটা আমরা বুঝতে পারি যারা ধর্মীয় বাণী কিংবা ধর্মীয় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করায় জীবনপাত করে, অন্যদেরকে ধর্মোপদেশ দেয় কিন্তু (preaching) তারা নিজেরাই যখন কাজের বেলায় পাজি হয়ে গিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় নৈতিকতা বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়। আমাদের দেশের বর্তমানের জামায়াতের আমীর ও নেতাদের স্ক্যান্ডালই এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। তাদের কথায় আর কাজে দিনরাত তফাৎ। এক্ষেত্রে তাদের এই নিয়ে নুন্যতম অনুতপ্ত হতেও দেখা যায় না, বিপরীতে যা হয় তাহলো অনেক যত্নে গড়া সামজিক image exposed হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাময়িকভাবে বিব্রত হওয়া। অথচ এমন পরিস্থিতিতে যেকোন একজন সাধারণ মানুষের সীমাহীন অনুশোচনায়(remorse)ভোগার কথা, এবং গণ অবমাননার পর স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরে আসতে অপারগ হওয়ার কথা। আর যেকোন ধর্মগ্রন্থে ও কুরআন-হাদিসে এইসব লোকদেরই ইঙ্গিত করা হয়েছে যারা ধর্মের নামে অধর্ম করে বেড়ায়। এইসব দ্বিচারী লোকই একদিকে অন্যের মেয়ে, বউ, মায়ের দিকে লোভাতুর চোখে তাকায়, সুযোগ খোঁজে ভোগ করার অন্যদিকে নিজের পরিবারের লোকজনকে সারাক্ষণ কড়া পাহারায় রাখে যাতে করে অন্যরা এসে তাদের থেকে সুযোগ লুটে নিতে না পারে, এমনকি নিজের পরিবারের কেউ যাতে নিজে থেকে কারো ফাঁদে পা না দেয় সেজন্য বাড়াবাড়ি রকমের কড়াকড়ি করে।

অন্যদিকে যে মেয়েটি নিজের যৌনতা নিয়ে সারাক্ষণ বিব্রত ও ভীত সেই মেয়েটির বৈধ সম্পর্কে থেকেও স্বাভাবিক যৌন আচরণে অপরাধবোধে ভোগার কথা। তার কাছে যৌনতা গৃহস্থালি কাজের মতোই দরকারি বিষয় হলেও উপভোগ্য কিছু হয়ে উঠতে পারেনা। যৌনতাকে সে কেবল বিনিময় মাধ্যম হিসেবে(monetize)ব্যাবহার করতে শেখে। এই মেয়ে আবার অচেতনে মা হয়ে তার ছেলে-মেয়ের মধ্যে একই ধরণের মানসিকতা ছড়িয়ে দিবে। এভাবে একটি দুষ্টচক্রে পড়ে যায় একেকটি পরিবার, সমাজ ও জাতি। যৌনতা শক্তির একটি উৎস মাত্র, এর বিকাশ হতে পারে সৃষ্টিশীল আচরণে আবার এই একই শক্তি ব্যাক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে মারাত্নকভাবে ধ্বংসাত্নক হয়ে উঠতে পারে। হলিউড/বলিউড/ঢালিউডের নায়ক-নায়িকারা যৌন আবেদনময় কিংবা আবেদনময়ী হিসেবে চর্চিত হলেও, তারা এক ধরণের যৌন ব্যাবসায়ী মাত্র; যৌনতাকে পুঁজি করেই তারা বেঁচে আছে। সেই অর্থে যৌন আচরণে যে ভারসাম্যপূর্ণ সেই যৌন আবেদনময়(sexy)। যৌনতায় সে যেমন সযত্নে গড়ে তোলা ব্যাক্তিগত সুরক্ষার দেয়াল ভেঙ্গে ফেলতে (vulnerable/let his guard down) পারে, একই সাথে সে এ ব্যাপারে নিরহঙ্কারি/নম্র(Humble) হয়ে থাকে। বলা চলে এটা modesty ও humility এর মধ্যবর্তি এমন এক অবস্থা যেখানে ব্যাক্তি যেমন নিজের ভেতরকার (modesty) বিনয় বজায় রাখে, একই সাথে আস্থা নিয়ে অন্য এক শক্তির(ব্যাক্তি) কাছে নিজেকে সমর্পণ করে। যৌনতাকে ঘিরে যেমন তার ভয়, শঙ্কা, সংকোচ, অপরাধবোধ ও উদ্বেগ থাকেনা; একই সাথে থাকেনা সন্দেহ, অবিশ্বাস, অবমাননা, আগ্রাসী ও দমনমূলক আচরণ। অন্যদিকে সেলিব্রেটিদের মধ্যে আমরা যা দেখি তা কেবলই hypersexuality, যাকিনা এক ধরণের ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়; যাকে Compulsive Sexual Behavior Disorder (CSBD) বলা হয়ে থাকে।

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 150