let there be light

“Let there be light” – Absence of light or Illusion of light!

যারা মনে করে যে তারা হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে জানে, এবং কিছু না ভেবেই মন্তব্য ছুড়ে দেয় তাদের অন্ততপক্ষে কিছু জানবার ইচ্ছা থাকা উচিত। অনেকে চোখ বন্ধ রেখেই বলে দেয় যে হিন্দু ধর্ম বহুঈশ্বরবাদী ধর্ম। একজনের এই মন্তব্যে জানালাম যে, না সেরকমটা মোটেই না। সে পুরোপুরি অস্বীকার করলে তাঁকে অনুরোধ করলাম গুগল করতে। যথারীতি সে গুগল করে, নেট ঘেঁটে জানতে পারলো যে এটি এমন একটি ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থা যা সমস্ত believe system কে include করে।

Hinduism includes a diversity of ideas on spirituality and traditions; Hindus can be polytheistic, pantheistic, panentheistic, pandeistic, henotheistic, monotheistic, monistic, agnostic, atheistic or humanist. According to Mahatma Gandhi, “a man may not believe in God and still call himself a Hindu”. According to Wendy Doniger, “ideas about all the major issues of faith and lifestyle – vegetarianism, nonviolence, belief in rebirth, even caste – are subjects of debate, not dogma.” [উইকিপিডিয়া থেকে কপি করা হয়েছে]

আমি নিজেও এমনটা জেনেই বড় হয়েছি যে এই ধর্ম ভিত্তিহীন, মনগড়া; ridiculous ও হাস্যকর একটি ধর্ম। যতসব আজব কল্প-কাহিনী ও গোঁজামিল দেয়া এক গাঁজাখুরি মতবাদ(believe system)। আমার চারপাশের অনেককেই হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে হাসাহাসি ও ব্যঙ্গবিদ্রূপ করতে দেখেছি। অনেককে আবার দেখেছি নিজ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য না করলেও হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মানুসারীদের প্রতি সম্মানসূচক আচরণ করতে ও উদারতার পরিচয় দিতে। তখন মনে হতো যারা বাংলাদেশে এই ধর্ম ও ধর্মানুসারিদের প্রতি উদারতা দেখায় সেটা মূলত সমাজের চোখে নিজদেরকে বড় করে তুলতেই হয়তো করে; হয়তো সেসবও লোক দেখানো চালাকি! পরে জানতে পারলাম যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেনা তারা কারনেই করেনা, কারন তারা নিজের ধর্মের পাশাপাশি অন্য ধর্ম ব্যবস্থাও ও দর্শন জানতে চেয়েছে; সেই আলোকে তারা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে যাচাই করে নিয়েছে। যেজন্য তারা নিজের ধর্মের ভেতরকার অসঙ্গতি নিয়ে যেমন বিব্রত হয় না, তেমনি অন্যের ধর্মের ভেতরকার অসঙ্গতি নিয়েও গলাবাজি করেনা। মোটকথা তারা সকল ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মানুসারীদের প্রতি সহনশীল হয়ে থাকে। অন্যদিকে যারা নিজের ধর্ম নিয়েই পড়ে থাকে কেবল, কিংবা নিজের ধর্ম নিয়েও বেশী জ্ঞান রাখেনা তারাই বেশী গলাবাজি করে অন্য ধর্ম ও ধর্মামলম্বীদের বিরুদ্ধে। কেনো এমনটি করে তারা? মূলত ভয় ও ভেতরের শূন্যতা থেকে কি! অনেককেই দেখেছি বাংলাদেশে থাকতে তারা বেশ খোলামেলা চলাফেরা করতো, ধর্ম নিয়ে যারা তেমন বাড়াবাড়ি করতো না সেসব মানুষই বিদেশে এসে একেবারে পাক্কা মুসলিম বনে গেছে! কেনো?! কারণ আর কিছুই না বিদেশের মাটিতে তারা নাজুক(vulnerable), এখানে এসে তারা আজীবন এড়িয়ে যাওয়া হেলাফেলা করা ধর্মকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার শক্তি পায়। একেবারে ভিনদেশী জীবন ব্যবস্থা, ধর্মীয় ও সামাজিক আচরণে তারা খাপ খাওয়াত পারেনা বা মেনে নিতে কষ্ট হয়; অর্থাৎ কিনা তারা তাদের চেনা পরিচিত রূপ হারানোর ভয়ে থাকে । অস্তিত্বের সেই আদিম সংকটের মুহূর্তে মস্তিষ্কের সরিসৃপীয় দিকটা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলে। আর আমরা তো জানি মানুষের reptilian brain মূলত কাজ করে Survival Instincts (Drives primary behaviours related to self-preservation, such as the fight, flight, freeze, or fawn response, aggression, dominance, and territoriality) থেকে। মূলত এই সময় মানুষ অন্য যেকোন প্রাণীর মতোই জীবন যাপন শুরু করে যাদের মূল প্রেরণা(drive) থাকে শাস্তির(punishment) ভয় ও পুরস্কার(reward) প্রাপ্তির নেশা। এই সময় তারা নিজের পরিবার, ধর্ম ও সমাজ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাকে শাস্তি হিসেবে নিয়ে নিজেদের মতো করে একটা গোষ্ঠী বা সমাজ(community) গড়ে তোলে, যাকিনা তাদের জন্য এক ধরণের পুরস্কার স্বরুপ। এই করে তারা তাদের চির পরিচিত(familiar) ভূমিকা (role) যেমন খুঁজে পায়, তেমনি কিছু সময়ের জন্য হলেও সেই role play করে স্বস্তি খুঁজে নেয়। মোট কথা বলা চলে এটা একটা অস্তিস্ত্বগত সংকট মোকাবিলার প্রক্রিয়া(coping mechanism). আমাদের আমিত্ব (ego) বা অহং familiarity ও comofort চায়। আর আমরা যারা বেশীরভাগ সময় ইন্দ্রিয় তাড়নায় চালিত(ego driven) হই তাদের জন্য অচেনা, অপরিচিত ও অস্বস্তিকর(uncomfortable) কোন কিছু মেনে নিতে ভীষণ কষ্ট হয়। আমাদের ইগো(Nafs) যে একেবারেই খারাপ তা নয় কিন্তু, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য ইগো(Nafs) সারাক্ষণ কাজ করে যায় কিন্তু ইগোতেই যদি মানুষ কেবল আটকে থাকে তাহলে মানুষের আর মানুষ হয়ে ওঠা হয়না, যেজন্য মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীবন বলা হয় আরকি। Ego, Nafs বা অহংকে ইসলামের আলোকে বুঝতে হলে ইগোর বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে জানতে হবে।

Islamic tradition, drawing from the Quran, outlines three primary states or levels of the Nafs:

  1. Nafs-ul-Ammarah (The Commanding Self):
    • The lowest state of the ego.
    • It incites base desires, selfishness, pride, and tendencies toward wrong.
    • It drives a person to prioritize immediate pleasure and self-gratification above moral limits.
  2. Nafs-ul-Lawwamah (The Self-Reproaching Conscience):
    • The awakened conscience that feels guilt, remorse, and awareness after committing a mistake or sin.
    • It struggles against lower impulses and pulls the person back toward accountability.
  3. Nafs-ul-Mutmainnah (The Content and Serene Self):
    • The highest state of spiritual balance.
    • The ego is at peace, aligned with God’s will, and finds tranquility in obedience, humility, and good character. [উইকিপিডিয়া থেকে কপি করা হয়েছে]

অনেক মুসলিমকে অন্য ধর্মালম্বীদেরকে নিয়ে সমালোচনা করতে দেখেছি বা শুনেছি। তাদের দাবী ওরা (অর্থাৎ তারা যে দেশে মাইগ্রেট করেছে সে দেশের মানুষ বা সিস্টেম) চায় আমরা ওদের মতো হয়ে যাই। ওদের মতো হয়ে গেলেই তো ওরা খুশি হয়। সনাতন ধর্মের এক ভারতীয় এসে একবার তার মনের আকুলতা জানিয়েছিলো – ‘ আমি এক হোটেলে কাজ করি।এদের কোন লাজ শরম নেই, সবার সামনে ন্যাংটো হয়ে যায়; ওদের মতো হতে চাই না’। এই যে এতসব আলোচনা-সমালোচনা এর মূলেই রয়েছে ভয়। ভয়টা মূলত কিসের জন্য? বদলে যাবার ভয়। কিন্তু প্রবাসীরা যারা বদলে যাওয়ার ভয় করে তাদের জেনে রাখা ভালো যে দেশে তারা অভিবাসী হয়েছে তাদেরও ভয় আছে। তাদের আবার কিসের ভয়?! তাদের ভয় প্রবাসীরা এসে তাদের সমাজ ও জীবন ব্যবস্থা বদলে দিতে পারে! যখন দুপক্ষই এই ভয় থেকে পরিচালিত হয় তখনই দেখা দেয় সমস্যা। কিছু হিজাবী ও বোরকাধারী মহিলা জানিয়েছে তাদের প্রতি জার্মানরা কতটা আগ্রাসী আচরণ করেছে। আমি তাদের কথা অবিশ্বাস করিনি, হয়তো হিজাব ও বোরকা পরে বলেই এদেশের মানুষ যারা ভয়ে চালিত তাদের প্রতি আক্রমনাত্নক আচরণ করে থাকবে।

মানুষ চাইলেও বদলায় আবার না চাইলেও বদলে যায়। বদলে যাওয়াই মানুষের ধর্ম। যাদের বদলে ভয় তারা আবার চায় অন্যদের বদলাতে। কিন্তু চরম সত্যটা তো এই যে- পরিবর্তনই স্বাভাবিক, সব অস্তিত্বই পরিবর্তনশীল। সমস্যা হল গিয়ে- পরিবর্তনটা অনেক সময় আমারদের মন মতো হয়, অনেক সময় হয় না। সত্যিকার অর্থে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী হলে পরে মানুষ সৃষ্টিরকর্তার সিদ্ধান্ত বা ফয়সালায় আস্থা রেখে শান্তি খুঁজে পেতো।

যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী তারা জানে সৃষ্টিকর্তা এক ও অদ্বিতীয়, তার কোন শরীক নেই। আল্লাহর কোন আকার নেই, নিরাকার। আমরা তাকে জানতে পারি তার গুণবাচক নামগুলোর মাধ্যমে, কিন্তু সেইসব গুণাবলী বলে বোঝানো সম্ভব নয়, সাগরের পানি যদি কালি হয় তবে সাগরের কালি শুকিয়ে যাবে তবুও সৃষতিকর্তার বর্ননা লিখে শেষ করা যাবেনা।

অন্যদিকে হিন্দুধর্মে শিব বা Shiva বলতে আমরা একটি দেবতার মূর্তিকে জানলেও তা নিতান্তই অন্যকিছু নির্দেশ করে! এই ধর্মেও যে যেমন সে তেমনটিই বুঝে যা নির্ভর করে তার level of conciousness এর উপর; আর এতে করে এই ধর্মে কাউকে exclude করা হয়না যদিও আমরা জানি সনাতনী ধর্মে নিজের ধর্মের লোককেই একটু এদিক সেদিক হলে পরে জাতিচ্যুত, বর্নচ্যুত বা সমাজচ্যুত করে। এসবই মূলত ধর্মীয় ব্যাবসায়ী ও সমাজের প্রভাবশালী লোকেরাই করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য। যেটা কিনা অন্য যেকোন ধর্মেই (ইসলাম, ইহুদী, খ্রিস্টান) হয়ে থাকে, আর কেউ তা অস্বীকার করতে পারবেনা। যাই হোক যারা শিবের রূপ জানায় আগ্রহ রাখে তাদের জন্যঃ

Rise Up – to the Most High Awakening

Shivoham

Shivoham Shivoham Shiva Swarupoham
Nityoham Shuddhoham Buddhoham Muktoham

Advaitamanandam Rupam Arupam
Brahmoham Brahmoham Brahma Swarupoham
Chidoham Chidoham Satchidanandoham


Translation:

I am Shiva. I am the very form of the unbounded consciousness.

I am eternal. I am pure. I am intelligent. I am free.

The bliss of non-duality, that which is in all forms and yet formless.

I am Brahman. I am the very form of Brahman.
I am consciousness. I am the bliss of consciousness which is the one Truth.
I am Shiva. I am the very form of the unbounded consciousness.[গুগুল থেকে খুঁজে নেয়া হয়েছে]

অবাক হয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার না? সনাতন ধর্মে একক ঈশ্বরের বন্দনা! সত্যি life is full of surprises!! এইরকম আরও অনেক Hyms ও lyrics খুঁজে পাওয়া যাবে। ধর্ম নিয়ে আমরা আসলেই অনেক অনেক অল্পই জানি। তাই কোন বিষয়ে মন্তব্য করার আগে নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতন হওয়াটা জরুরী।

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 150