জেলের বেহেস্ত ভ্রমণ

দুধের স্বাদে ঘোল!

সাগরপাড়ের এক জেলে ঝড়ে পরে সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে অজানা এক সমুদ্র সৈকতে গিয়ে ঠাই পেলো। যখন জ্ঞান ফিরলো তখন সে চোখ মেলে চারদিকে তাকিয়ে ধরেই নিলো যে সে মারা গেছে, আর তার সামনে অনেকগুলো হুর আর গেলমানরা লীলাখেলায় মত্ত হয়ে আছে! চারদিকে যখন এতো হইহুল্লোড় আর উৎসবের আমেজ সে বুঝতে পারছে না তার দিকে কেউ সুরাহ নিয়ে এগিয়ে আসছে না কেনো! যতদূর সে জানে বেহেস্তে হুরপরী, গেলমান, সুরাহ, ফল-ফলান্তি ভোগ করে তৃপ্তির ডেকুর তুলে সবুজ গাছপালা ও ঝর্না ধারায় সারাজীবন অতি সুখেই অতিবাহিত করা যায়। কিন্তু একি খিদেয় তার পেট চোঁ চোঁ করছে কিন্তু wish করলেই মুখে কোন ফল-ফলান্তি আসছে না, পেটও ভরছেনা! পিপাসায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে, তার তৃষ্ণা তো নিবারণ হচ্ছেনা! পরমুহূর্তেই মনে পড়লো তার, সে কি দোযখে জায়গা পেয়েছে? যেখান থেকে বেহেস্ত দেখাই যাবে, ভোগ করা যাবেনা? খালি আফসোস করতে হবে?! সে জানেনা কতক্ষণ সে ওভাবে সেই সমুদ্র সৈকতে পড়ে রয়েছে। সেই পুরো সময়টা সে সবকিছু চেয়ে চেয়ে দেখলো; গায়ে তার বিন্দুমাত্র শক্তি নেই যে উঠে দাড়াবে। এই সময় কিছু চোখ ধাঁ করে দেয়া পোশাকে একদল লোক এসে তাকে উঠিয়ে নিয়ে গেলে সে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রতিবাদ করে ওঠে -বেহেস্তে যেতে চায় সে, নরকের আস্তাকুড়ে নয়! কিন্তু কেউ যেনো কিছুই শুনেনি তার কথা।

হাসপাতালের বিছানায় কি করে এলো সেই জেলের কিছুই মনে নেই। তার মন পড়ে রইলো সেই সমুদ্র সৈকতে যেখানে ঝর্নার ধারা বয়ে চলে, সবুজে ঘেরা, আর? আহা কি মনোরম পরিবেশ নারী-পুরুষের কলকাকলী, নিরুদ্বেগ উপভোগ। আর দুনিয়ায় ভোগের সময় কেউ দেখে ফেললো না তো! কে কি মনে করছে!, বিয়ের ফাঁদ, প্রেমের ফাঁদ, বেশ্যার ছলচাতুরী, খরচের চিন্তা, বাচ্চা পয়দা হওয়ার চিন্তা, এই খরচ, সেই খরচ; খালি হিসেব আর হিসেব! সে যে বেহেস্ত দেখেছে এই কথাটা সে তার পাশের বিছানার রোগীকে শোনায়। সেই রোগী সব শুনে মুখ টিপে হেসে তাকে জানায় যে, সে চাইলে তাকে সে বেহেস্তে নিয়ে যেতে পারে! কিন্তু জেলে রয়েছে ঘোরের মধ্যে! সে পাশের রোগীর কথা শুনেও যেনো শোনেনা। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে সেই পাশের বিছানার রোগী এসে হাজির। সে হাসিমুখে জেলেকে প্রস্তাব জানায় বেহেস্তে নিয়ে যাওয়ার কথা। জেলের মাথায় আর কিছুই নেই, যেকোন মূল্যেই সে বেহেস্তে যাবেই যাবে! দিন-দুনিয়া আর তাকে টানে না! এরপর তারা সেই একই সমুদ্র সৈকতে যায় কিন্তু জেলের মনে হতে থাকে আরে এতো বেশ্যালয়, যার যা খুশি তাই করছে! কোন নিয়ম নেই, নীতি নেই; নারীরা স্বল্প বসনে নির্লজ্জের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, মদ খাচ্ছে, খিস্তি করছে! আর পুরুষগুলোই বা কেমন? সবার তালেই ওরা তাল দিচ্ছে যেনো! কোন শাসন নেই, নিয়ন্ত্রণ নেই; কামনা-বাসনা ও লালসায় অন্ধ যতসব অক্ষম দূর্বল পুরুষ! জেলের মনে হতে থাকে তার সাথে তামাশা করা হচ্ছে। এ সময় জেলের মনে পড়ে যায় তার নিজের পরিবারের কথা। নিজের বউ বাচ্চারা যদি ওরকম বেলেল্লাপনা করে সে কি মানতে পারবে?! বেহেস্তে ওরকম করা যায় কিন্তু এখানে সে যদি ওমন করে তাহলে বউ বাচ্চারাও বাদ যাবে নাকি?! যত যাই হোক-তাকেই তো সবাই অনুসরণ করে। বেহেস্তে কেউ কাউকে চিনবে না, তাই ভালো! কেউ কাউকে না চিনলে আর ঝামেলার কি থাকে?! এইসব ভেবে ভেবে তার মাথায় খেলে যায়- আরে! এখানে তো তাকে কেউ চেনেনা, তাই বেহেস্ত না হলেও দুনিয়াটাও খানিকটা উপভোগ করাই যায়! এইবার জেলেকে পায় কে! সুঠাম দেহের অধিকারী সে; আত্নবিশ্বাস আর প্রাণশক্তির অভাব নেই তার! পুরো নাঙ্গা হয়ে নাচ শুরু করে দেয় সে সমুদ্র সৈকতে! সেই সাথে ঝাঁকে ঝাঁকে নগ্ন ও স্বল্প বসনা নারী-পুরুষ এসে তাকে ঘিরে ধরে নাচ জুড়ে দেয়! আহা! দুইদিনের বেহেস্ত উপভোগ নাহয় হোল! তাও বা কম কি? এ যেনো দুধের স্বাদে ঘোল!

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 150