Flower

Don’t force a flower to bloom into another flower; respect as it is!

জার্মান লিবারাল(Liberals) দেশ, এদেশে আসার পর বাঙালী ঘরানায় অনেক ভালো লাগা কিছু মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে। শুরু থেকেই সবাই বেশ আন্তরিকভাবে ডেকেছে, মিশেছে, ঘুরাঘুরির সঙ্গী হয়েছে। অনেকে অনেকের উপলব্ধি শেয়ার করেছে। সেইসব স্মৃতি আর কথাগুলো অন্তরে গেঁথে আছে। ছোট শহর সিগবুর্গে (Siegburg) থাকাকালীন একটা কথা শুনেছি তাহলো- এদেশে যত দম্পতি আছে তারা সবাই স্বেচ্ছায় একে অপরের সাথে থাকে; অন্য কোন উপায় নেই, থাকতে হয় বলে থাকে এমন না। এরপর আরেকটা কথা কানে এসেছে অনেকের থেকে যে, এদেশে আসার পর যার যার চরিত্র বা রূপটা পরিষ্কার হয়ে ফুটে ওঠে(কোন ভণিতা করতে হয় না বলে)। প্রথমদিকে সেইভাবে বুঝতে না পারলেও, আস্তে আস্তে বুঝে যাই। আমাদের দেশে অনেকে মুখে অনেক সময় মিষ্টি কথা শোনায়, স্বান্তনা দেয় কিন্তু আড়ালে আবডালে যত কটু কথা বলে বেড়ায়, ক্ষতিকারক অনেককিছুই করে। এইখানে একজন নারীবাজ হলে তাকে পরহেজগার হিসেবে ভাণ ধরতে হয়না; নারীদের প্রতি তার দূর্বলতার কথা অকপটে স্বীকার করতে পারে। অন্যদিকে যে পরহেজগার তাকে প্রমাণ করতে হয় না; অর্থাৎ কিনা পারফর্ম করতে হয় না যে, সে কত বড় ধার্মিক। আমাদের দেশে মানুষের ভেতরে ধর্ম যতটুকুই থাকুক না কেনো, পারফর্মেন্সটা অনেক বিরাট ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। কে কত বেশী নামাজ পড়লো, কে কতবার হজ্জ করলো, কে কত বেশী রোজা রাখলো/ কোরআন খতম দিলো/দান করলো, কে কত বেশী পর্দানশীল, কে কত বেশী মসজিদে পড়ে থাকে, কে কত বড় জানলেওয়ালা, কে কত বড় পাকা ঈমানদার ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে কে কতটুকু ধর্ম নিয়ে চিল্লাইলো; ধর্মকে(!), নবীকে(!) ডিফেন্ড করলো সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মেন্স। এরকম জায়গায় মানুষের ইচ্ছা হবেনা ধর্মীয় আচার পালনের, যেখানে বড়রা সারাক্ষণ উপদেশ দিবে নামায পড়ার, রোযা রাখার, ধর্ম-কর্ম করার; এ যেনো তাদেরকে খুশি করার একটা উপায় মাত্র। কেউ লোক দেখানো ধর্ম-কর্ম করতে অস্বীকার করলে বড়দের মধ্যে দেখা দেয় অসন্তোষ, চাপা ক্ষোভ ও শাস্তিদানের বাসনা। বড়দের মধ্যে ধর্ম নিয়ে দেখা যায় অনমনীয়তা। তাদের ইচ্ছা মিলিটারি কায়দায় ছোটদের গড়ে তোলা, অথচ সবার জন্য মিলিটারির জীবন ব্যবস্থা আদর্শ নয়। একটা কোমলোমতি শিশুর মনে ভয়-ভীতি ঢুকিয়ে, জোর-জবরদস্তি করে ধর্ম ঢুকানোর চেষ্টা করা মানে শিশুটার স্বাভাবিক যে মনুষ্যত্ব তাকে গলা টিপে হত্যা করার ব্যবস্থা। এভাবে হয়তো তোতাপাখি, ময়নাপাখির মতো তারা কথা বলতে শেখে এমনকি ভালো পারফর্মও করতে পারে কিন্তু তাদের অন্তর্জগত হয়ে পরে শূন্য গড়ের মাঠ। তাদের নিজস্ব চিন্তা করার ক্ষমতা, নিজস্ব মতামত কিংবা ভালো-মন্দ লাগার ব্যাপারটাও তারা হারিয়ে ফেলে। এমনকি বড় হয়ে তারা একই ধাঁচে অন্যদেরকে গড়ে তোলার মেশিনম্যান হয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনাও রাখে! এই যে একটা অসীম সম্ভাবনা নিয়ে জন্ম নেয়া এক শিশু, তাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেয়া হয় মানুষের অজ্ঞতায়। বড় হয়ে এইসব শিশু প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে, তাদের সারাটা জীবন কাটাবে পারফর্ম করে; কিন্তু নিজের অন্তর্জগতের সাথে তাদের পরিচয় হবেনা। সব সময় বাইরের কিছু না কিছু নিয়ে এমনই ব্যস্ত থাকবে যে, তাদের মনেই হবেনা নিজস্বতা কিংবা নিজস্ব জগত বলতে কিছু আদৌ আছে। তারা সব সময় দলের ভিড়ে স্বস্তি খুঁজে পাবে; একাকী সময় তাদেরকে কষ্ট দিবে। চুপচাপ একাকী বসে থাকাটা তাদের কাছে অসম্ভব মনে হবে, কারন শুধুই নিজের মুখোমুখি হতে তারা শেখেনি কখনোই। যে মানুষটার নিজের সাথে কাটানো সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে, সে মানুষটা তো দলে ভিড়েই স্বস্তি খুঁজবে! তাই স্বাভাবিক নয় কি? যে মানুষটা সারাক্ষণ খুঁটে খুঁটে কাজ বের করে ব্যস্ত থাকে, সেই মানুষটা অন্যের আরাম-আয়েশ সহ্য করতে পারবে না; সেরকমটাই তো হয়; তাই নয় কি? যে মানুষটা বিপদে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে যায়, অধৈর্য্য হয়ে পড়ে সেই মানুষটা ভীষণ শান্ত, স্থিরমনা মানুষকে দেখে ভিমড়ি খাবে; সেটাই স্বাভাবিক! “Verily, in the remembrance of Allah do hearts find rest” (Surah Ar-Ra’d 13:28)

ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা যারা বড়দের অঙ্গুলি ইশারায় চলে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। অন্যদিকে যারা বড়দের কথা শোনেনা তাদেরকে শাস্তি ভোগ করতে হয়, কড়া শাসনের মধ্যে বড় হতে হয়। অনেক সময় আপাতদৃষ্টিতে যাদেরকে একান্ত অনুগত বলে মনে হয় তারাই বেশ চতুর প্রকৃতির হয়ে বেড়ে ওঠে। তাদের যে বাধ্যতা সেটা পারফর্মেন্সেই আটকে থাকে, অন্যদিকে দুষ্টুমির সীমাও তারা ছাড়িয়ে যায় আড়ালে আবডালে। এজন্য দেখা যায় যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে, কিংবা সারাক্ষণ মুখে ধর্মের বুলি আওড়াচ্ছে তারাই সুযোগ পেয়ে ফাঁকে-ফোকরে নিষিদ্ধ কর্মকান্ডে মত্ত হয়ে ওঠে; এতে করে তাদের নৈতিকতায়ও বাঁধে না। আসলে সবই তো পারফর্মেন্স! তাদের অন্তর্জগৎ তো ফাঁকা/ শূন্য; নিজের মুখোমুখিও তারা হয়না কখনো তাই! এই করে দেখা যায় যারা ক্ষমতার শিখরে, যারা উঁচু পদবী দখল করে আছে; তাদের বেশীরভাগই পারফর্মেন্স ও প্রতিযোগিতায় ভালো করলেও অন্তরে ধারণকৃত নৈতিকতাবোধ তাদের নেই। যেজন্য মুখস্ত উক্তি, মুখস্ত বাণী, অন্যের থেকে শেখা বুলি তারা খুব সুন্দরভাবে আউড়ে গেলেও সেগুলোকে তারা ধারণ করার মতো কেউ হয়ে উঠতে পারেনা। Islam teaches that peace is not the absence of external storms, but an internal anchor tied to your connection with the Creator. যাদের অন্তর্জগতের সাথে যোগাযোগ নেই তারা কিভাবে সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য উপলদ্ধি করবে? যেজন্য পারফরমেন্সে ভালো হলেও সত্যিকার অর্থে সেই চির প্রশান্তির অনুভূতি তাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। আর সেই কারনে ইসলাম মানে শান্তি এইরকম বুলি আওড়ালেও তারা শান্তির নামে অশান্তির আগুনে জ্বলে পুড়ে মরে, আর তাদের চারপাশে অশান্তি ছড়ায়!

একটি শিশু সুন্দরভাবে তখনই বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় যখন তার মনে কৌতূহল জাগিয়ে তোলা যায়। সেটা দর্শন-ধর্ম, জ্ঞান-বিজ্ঞান, খেলা-ধুলা কিংবা কোন নির্দিষ্ট জীবন ব্যাবস্থা হোক না কেনো। নিজ থেকে যে জিনিসে আগ্রহ না হলে সেখানে জোর-জবরদস্তি করা মানে নদীতে বাঁধ দিয়ে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পাল্টে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা, যার পরিণাম অনেক সময় শুকিয়ে যাওয়া নদীর মতোই; নিষ্প্রাণ, নিশ্চল অস্তিত্ব!

লিবারাল দেশে এসে দেখেছি এরা ছোটদেরকে অনেক কিছু অন্বেষণ(explore)(উদাহরণস্বরূপঃ আঁকাআঁকি, সাথে বসে আঁকাআঁকি, বই পড়া, বই পড়ে শোনানো, গান, নাচ, ক্রাফটিং, সাঁতার, সাইকেল চালানো, নৌকা বাওয়া, নানা রকমের খেলাধুলা, খোলা মাঠে ছেড়ে দেয়া, পানিতে খেলা, পানি নিয়ে খেলা, গাছ-গাছালি লাগানো, গাছের যত্ন নেয়া, উল বোনা, কাপড় সেলাই করা, অর্নামেন্টস বানানো, বেকিং করা, সাবান বানানো, মোটকথা জীবন ঘনিষ্ট সবকিছুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া) করার সুযোগ দেয় জীবনের প্রথম থেকেই। এতে করে শিশুরা খুঁজে পায় কার কোনটাতে আগ্রহ, কে কোনটাতে স্বাভাবিকভাবেই ভালো করছে। যার ফলে জীবনের শুরুতেই তারা বুঝে নেয় কোনটাতে তাদের আগ্রহ, কিসে তাদের আগ্রহ নেই; কোনটাতে তারা ভালো, কিসে তারা ভালো নয় ইত্যাদি।কোন পোশাক তার ভালো লাগে, কোনটা নয় সেটাও তারা নিজেরাই বেছে নেয়। অন্য ধরণের পোশাক, জীবন ব্যবস্থা ভালো না এমন ধারণা তারা পোষণ করেনা, বরং কোন পোশাকে সে নিজে কম্ফোর্টেবল সেটা যেমন যে বুঝতে পারে; একইভাবে সে বুঝতে পারে তার বিপরীতে অন্য আরেকজনও হয়তো একইভাবে তার পোশাকটি বেছে নিয়েছে, অন্য কোন ব্যাক্তি(মা-বাবা-পরিবার) বা সমাজ ব্যাবস্থা চাপিয়ে দিয়েছে বলে নয়! এতে করে নিজের বেছে নেয়া জীবন ও কাজ নিয়ে যেমন সে আত্নসম্মান(self-respect) বজায় রেখে চলে, তেমনিভাবে অন্যদের পছন্দ-অপছন্দ ও কাজকেও সে সম্মান (respect) করে চলতে শেখে; কোনরকমে হস্তক্ষেপ(interfere) বা গায়ের জোরে নিজের মতবাদ প্রচার (preaching)করার প্রয়োজন সে অনুভব করেনা।

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 150