Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

সৃষ্টিকর্তার সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন তার উপর নির্ভর করে আমাদের সারা জীবনের অভিজ্ঞতা। অন্ধ ভক্তিতে যখন সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করি তখন সারাটা জীবন আমরা অন্ধকারে হাতড়ে মরি। এই অবস্থা এমন যে সৃষ্টিকর্তার মহিমা আমরা বুঝেও বুঝিনা, নিজের অহমকে কেন্দ্র করে অনেক সময় সারা জীবন পার করে দিই। অনেকে দাবী তোলে সৃষ্টিকর্তার উপর তারা সম্পূর্ণ আস্থা রাখে, কিন্তু দেখা যায় জীবনে কোন কিছু ঘটে গেলে তারা সেটা মেনে নিতে পারেনা। কিংবা নিজের চাওয়া মাফিক কিছু না পেলে তারা অস্থির হয়ে যায়; ক্রমাগত হতাশা, শঙ্কা ও দুঃশ্চিন্তা তাড়া করে বেড়ায়। অনেকে সৃষ্টিকর্তা নিয়ে মাথাই ঘামাতে চায় না। তাদের কাছে মনে হয় এইসব নিয়ে মাথা খাটানো অহেতুক বেগার খাটুনি। যুগে যুগে কালে কালে সত্যিকার অর্থে সৃষ্টিকর্তাকে জানার আগ্রহ যেসব মানুষের ছিলো তাদের কেউই প্রথাগত জীবনে সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে পায়নি। অথচ এই যে জানার আগ্রহ সেই আগ্রহ থেকেই নানা রকমের ধর্মের আবির্ভাব হয়েছিলো। কেউ একজন বলে গেছে সৃষ্টিকর্তা এমন; তাতে বিশ্বাস করা মানে কোন কিছু যাচাই না করে, না বুঝে অন্ধভাবে একটা ধারণাকে গ্রহণ করা। মহামুনিরা বলে গেছেন- ‘নিজেকে জানো’।
খেয়াল করলে দেখা যায় একান্তই ভয়(fear) ও লোভের(greed) তাড়নায় সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করলে আমাদের সারাটা জীবন অতিবাহিত হয় ভয় ও লোভের চক্রে বন্দীদশায় থেকে। কেউ যদি কেবলমাত্র ভালোবাসা(love) ও করুণা(compassion) নিয়ে সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করে তাহলে তার সারাটা জীবন আবর্তিত হয় ভালোবাসা ও করুণাময় অভিজ্ঞতায়। কেউ যদি দায়িত্ব(obligations) এবং কর্তব্য(duties) হিসেবে নেয় সৃষ্টিকর্তার উপাসনাকে তাহলে তার জীবন অভিজ্ঞতা দায়িত্ব ও কর্তব্যের বেড়াজালেই আটকে পড়ে। আবার কেউ যদি সৃষ্টিকর্তার প্রতি মনের ভেতর রাগ, অভিমান ও অভিযোগ পুষে রাখে তাহলে তার জীবন অভিজ্ঞতাও এইসব আবেগীয় অনুভূতিতে আটকে থাকে। সৃষ্টিকর্তার সাথে আমাদের সম্পর্ক আসলে আমাদের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। বলা হয়ে থাকে আমাদের অন্তরে কি আছে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানে। আমরা যা দেখাই বা দেখাতে চাই তা আসলে সব সময় সত্যি নয়। আমাদের অন্তরে যা; বাহিরেও কি তাই? সব সময় না। এই অন্তর ও বাহিরকে এক করতে পারলে, আমাদের আর ভাণ ধরে চলতে হতো না। তাই ভালো থাকতে চাইলে নিজের অন্তর্জগতের প্রতি যত্নশীল না হয়ে উপায় নেই আমাদের। জীবনে যা কিছু করছি তা যদি কেবল পুরস্কার(award , শাস্তি(punishment), ভয়(fear), লোভ(greed), বাধ্যবাধকতা(obligations), কর্তব্য(duties), লজ্জা(shame), অপরাধবোধ(guilt), রাগ(anger), বিরক্তি(resentment), গ্রহণ(acceptance), বৈধতা(validation), আরাম(comfort) & পরিচিতি(familiarity) ইত্যাদি বিভিন্ন আবেগীয় অনুভূতির সাথে জড়িয়ে থাকে কেবল; তাহলে সত্যিকার অর্থে সৃষ্টিকর্তাকে জানা হবেনা আমাদের কোনদিনই এবং আমাদের জীবন অভিজ্ঞতাও এইসব মানবীয় আবেগীয় অনুভূতির স্তরেই আবর্তিত হবে। তাই যখন সৃষ্টিকর্তার কথা মনে আসে তখন ব্যপারটা আমাদের মনে কেমন অনুভূতি এনে দেয় সেটা বোঝা জরুরি। সৃষ্টিকর্তার কথা উঠলেই কি মনে ভয় আসে? তার উপাসনা না করলে দোযখের আগুনে জ্বলতে হবে বলে মনে আসে? নাকি মনে উকি দেয় জান্নাত বা স্বর্গের হাতছানি? এছাড়া কি আসে সৃষ্টিকর্তার প্রসঙ্গ উঠলে দায়িত্ববোধ? নামায পড়ার তাড়া? রোযা রাখার প্রতিযোগিতা, কোরান মুখস্থ করা? তাসবীহ পাঠ করা? কোরআনের অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে ইচ্ছে হয়েছে কখনো? নাকি সৃষ্টিকর্তার প্রতি এই জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা ভর করেছে মনে? ভালোবেসে মানুষ যাকিছু করে সবকিছুই সুন্দর ও সহজ হয়ে ওঠে। আমাদের সবার জীবন ভালোবাসায় ভরে উঠবে কেবলমাত্র শর্তহীনভাবে সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসার মধ্যদিয়েই। সৃষ্টিকর্তার সাথে কোন ধরণের চুক্তি(bargain) স্বাক্ষরের মাধ্যমে নয়!