Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

মীর জাফর ও সিরাজউদ্দৌলার মধ্যে পার্থক্য কি ছিলো? একজন ক্ষমতা চেয়েছিলো আরেকজনের উপর ক্ষমতা ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো। এই দুইজনের মধ্যে একজন সারাজীবন ধরে বুঝতে চেয়েছিলো ক্ষমতার স্বাদ কেমন, অন্যজন বুঝেছিলো ক্ষমতার ভার কতটা অসহনীয় হতে পারে! ক্ষমতায় যে ঢুকে সে হাড়ে হাড়ে বোঝে ক্ষমতার পথ কতটা অনমনীয়, বন্ধুর, সংগ্রাম গাঁথা; ক্ষমতাহীন ব্যক্তির কাছে মনে হয় ক্ষমতা মানেই আরাম-আয়েস, চাকচিক্যময় আর সীমাহীন ভোগের জীবন! ইতিহাসে দেখা গেছে ক্ষমতার ভার সইতে না পেরে অনেকেই স্বেচ্ছায় ক্ষমতার আসন ছেড়ে চলে এসেছে ! তাই যারা বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে বহাল আছে তাদের জন্য আমার সমবেদনা। ক্ষমতায় যারা ঢুকে পড়ে ক্ষমতায় থাকার সিদ্ধান্ত নেয় তারা আসলে নিজের সুখ-শান্তির চেয়ে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বকে বেশী প্রাধান্য দেয় আর দায়িত্বের প্রতি অটল থাকতেই শেষমেশ ক্ষমতায় থেকে যায়। এজন্য বলা হয় মুকুট অর্জন করা সহজ কিন্তু মুকুট রক্ষা করাটাই কঠিন ব্যাপার। মীর জাফর সিরাজউদ্দৌলার অধীনে গুরুত্বপূর্ণ পদেই আসীন ছিলেন যদিও কিন্তু তার পরম আরাধ্যের বিষয় ছিলো ক্ষমতার শীর্ষে বসা। মীর জাফর সিরাজউদ্দৌলার সংগ্রাম দেখেও বুঝেনি, সহমর্মী হয়নি। যদি প্রকৃত অর্থেই বুদ্ধিমান হতো, তাহলে মীর জাফর মনে মনে কৃতজ্ঞ থাকতো যে ক্ষমতার গুরুভার তার উপর বর্তায়নি। অবশ্য যারা পরশ্রীকাতর, ঈর্ষাতাড়িত ও ইন্দ্রিয়ের দাস তারা যদি চিন্তা করতে পারতো তাহলে ইতিহাসের অনেক অঘটনই ঘটতো না। সিরাজউদ্দৌলার রাজ্য রক্ষার সংগ্রাম আর আজকের রাষ্ট্র রক্ষার সংগ্রামের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাত থাকলেও আজও এই দুই শক্তির উপস্থিতি আমরা সর্বত্র দেখতে পাই। শেখ মুজিবকে জাতির পিতা হিসেবে মেনে নেয়ায় অস্বীকৃতি। রাজনীতিতে ধর্ম টেনে এনে নবী ইব্রাহীমকে জাতির পিতা বলে শেখ মুজিবের নাম উড়িয়ে দেয়া এসবই আসলে মীর জাফরদের কাজ, যারা আসলে ক্ষমতার আসনে আসীন হতে চায়। যদিও আমি জানি শেখ মুজিবের নাম যেখানে সেখানে বসিয়ে এই নামটার প্রতিই মানুষের অশ্রদ্ধা ও অভক্তি তৈরির পেছনের মূল হোতা তারই তৈরি করা দলের চাটুকার ও সুবিধাভোগীরা। আসলে ইতিহাস ঘুরেফিরে আসে, আর মীর জাফরদেরকেও চিনতে অসুবিধা হয়না! রাজনীতির নামে যারা ক্ষমতার চর্চা করে, যারা কেবল ক্ষমতার আসনে আসীন হতে চায় তারা সবাই মীর জাফর। জুলাই আন্দোলনের পর দেশে গিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলাপানের মুখে শুনতে পাই, আন্দোলনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই এগিয়ে ছিলো, প্রাণও হারিয়েছে বেশী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাই! যাদের মুখ থেকে এই নিয়ে আত্মম্ভরিতা বের হয়ে আসে তাদের আসলে জীবনে কিছুই হারাতে হয়নি! বাপের টাকায় পড়ে বলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মনে এক ধরণের হীনমন্যতা কাজ করে, বাপের টাকায় পড়াশুনা করলে নিজের যোগ্যতা নিয়ে মনের ভেতরে খুঁতখুঁত করে সব সময়। টাকা দেয়ার কারনে সমস্ত কৃতিত্বের অধিকারী হয় বাপ। অথচ কাঁচা পয়সার মালিক যারা তাদের সন্তানদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছে শুরুর দিকে তাদের যুক্তি ছিলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনার পরিবেশ নেই, রাজনীতির আখড়া, সন্তানদের জন্য অনিরাপদ! আসলে এরপর থেকেই মূলত জনসাধারণদের টাকা না থাকলেও সন্তানদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়তে দেখা যায়। শুরু হয় উচ্চমূল্যে সার্টিফিকেট বিক্রির রমরমা ব্যবসা। কিন্তু বাপের টাকায় পড়াশুনা করে যারা সারাজীবন হীনমন্যতায় ভুগেছে তারাই আপাত নিরাপত্তার বেড়ি ভেঙ্গে বেড়িয়ে এসে আন্দোলনে জড়িয়েছে নিজেদের প্রমাণের জন্য। তাই দেখা যায় জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের সময়ে সকল গণবিশ্ববিদ্যালয়গুলো মোটামুটি রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে (Politically manipulated) ব্যবহৃত হয়েছিলো রাজনোইতিকভাবে পুরোপুরি অনভিজ্ঞ নিরীহ এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। এখানেও দেখা যায় ক্ষমতার ভার অনুধাবন করতে না পারা, রাজনীতি না বোঝা লোকজনও যখন জীবনে কিছুতে হলেও ক্রেডিট পেতে চেয়েছে, ক্ষমতার স্বাদ উপভোগ করতে চেয়েছে তখন পরারাজনৈতিক শক্তিগুলো ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতোই তাদেরকে ব্যবহার করেছে!