Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

কোরিয়া বলতে আসলে আমরা দক্ষিণ কোরিয়াই বুঝে থাকি। বাঙালী ও কোরিয়ানদের মধ্যকার সম্পর্ক বেশ নিবিড়। ওদের খাদ্যাভ্যাস, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ কিংবা পেশাগত পরিচয়ের সাথে আমাদের অনেক বেশী মিল রয়েছে। যদিও কোরিয়া আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে আছে অর্থনৈতিক দিক থেকে, তারপরও ওদের সামাজিক অবস্থা আমাদের সাথে মিলে যায়। জীবন-যাপনের খরচ থেকে শুরু করে, লেখাপড়ার খরচ ওদের মতো আমাদেরও অনেক ব্যায়বহুল। এছাড়াও আধুনিক শহুরে পরিকাঠামোয় অস্বাভাবিক বায়ুদূষণ, মানুষের জীবন যাপনে অসহনীয় গতিশীলতা ও তীব্র প্রতিযোগিতা। কোরিয়ান বিউটি স্ট্যান্ডার্ড মাথা খারাপ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ। বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী তৈরি করা থেকে শুরু করে নিয়মিত কস্মেটিক সার্জারিতেও ওরা পারদর্শী,। এমনকি উচ্চতা বাড়ানোর জন্য অস্ত্রোপচার করার রেকর্ডও ওদের আছে। কোরিয়ান মেয়ে বলতে আমাদের চোখের সামনে যেমন ভেসে ওঠে পেলব কোমল দাগহীন ত্বকের চিরসবুজ কোন ব্যাক্তিত্ব। তেমনই আদর্শ মাথায় রেখে কোরিয়ান এক মেয়ের সাথে পরিচয় হলো। পরিচয়ের শুরুতে মনে হলো কি করে এই মেয়ে কোরিয়ান হয়! ওর ত্বক তো মাখনের মতো মসৃণ নয় বরং বয়ঃসন্ধিকালের ব্রণের দাগে কেমন অমসৃণ হয়ে আছে! ওর সাথে পরিচয় আমার Sprachcafé তেই; শুরুর দিকে যখন জার্মান তেমন জানতাম না তখন। বয়সেও আমরা সমবয়েসী হবো। ওর সাথে অনেক কথা হয়, ও খুব সুন্দর জার্মান বলে দেখে উৎসাহ লাগে। জার্মানিতে কিছু না বুঝলে ও আবার ইংলিশে বুঝিয়ে দিতো। ওর সাথে মিশে মসৃণ পেলব চেহারার জায়গায় কোরিয়ানদের ব্যাপারে ধারনা জন্ম নেয় বন্ধুবৎসল দয়ালু ও নরম মনের এক জাতির। নানান রকম আলোচনায় বুঝতে পারি কোরিয়ার যে প্রতিযোগিতাময় (intense) জীবন তা ওর ভালো লাগেনা। ওর ভাবনার সাথে আমার নিজের ভাবনাগুলোও মিলে যায়, সে দিক দিয়ে ওকে আর আলাদা মনে হয় না নিজের থেকে। সেই Sprachcafé তেই আরেক কোরিয়ান মেয়ের সাথে পরিচয় হলো, মেয়েটি আবার আমার প্রতিবেশী; দেখতে অপরূপ রূপসী। ওকে দেখে আমার মনে হতে থাকে এতো সুন্দর মেয়ে বাস্তবে আসলেই থাকে নাকি! কি মসৃণ ত্বক, কি সুন্দর গায়ের রং! তো ওই মেয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো। কথায় কথায় ওকে জিজ্ঞেস করি- ওর ভাষা মান্দারিন কিনা? সেই সময় মেয়েটি ডিফেন্সিফ হয়ে ওঠে । ওর ভাষা কোরিয়ান, মান্দারিন নয় আর তা জিজ্ঞেস করায় ও ক্ষিপ্ত হয়েছে বুঝে আমি আর কোন কথা বাড়াইনি। এ সময় ওর পাল্টা জবাব ছিলো- শ্রীলংকান আর বাংলাদেশীরা কি এক? প্রতিউত্তরে ওকে জানাই খুব আলাদাও নই; একই সাব-কন্টিনেন্টের আমরা। Sprachcafé যে পরিচালনা করে ধরি ওর নাম Ji-an, ওর সাথে মিশে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিলো তার বিপরীত অভিজ্ঞতা হয়েছিলো সেই প্রতিবেশী কোরিয়ান মেয়েটির সাথে মিশে। Ji-an দুই সন্তানের মা হয়ে জার্মানিতে পড়াশুনা করে আজ সোশ্যাল ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করে। অনেক কোরিয়ান মেয়ের মুখ দিয়ে স্পষ্ট জার্মান যেখানে শোনাই যায় না, সেখানে Ji-an অনর্গল জার্মান ভাষায় কথা বলে যায়। টিভি স্ক্রিনে বা মিডিয়ায় আমরা যত মুখ দেখি তার কতটুকু আসলে বাস্তব জীবনকে সুন্দর করে তোলে?! অনবরত নিখুঁত রূপের বিজ্ঞাপনে আমাদের মনের সুখ বরং হারিয়ে যায়। নিখুঁত রূপের পিছনে ছুটতে ছুটতে কখন নিজেদেরকেই আমরা হারিয়ে বসি! আর এই গতিশীল বিশ্বে Ji-an এর মতো যারা তারা নিজের জায়গায়, নিজের দেশের পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে না পেরে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। আমার কাছে মনে হতে থাকে Ji-an সোপ অপেরার মোহময়ী কোন ব্যাক্তিত্ব নয়, কিন্তু বাস্তব জীবনে অনেক বেশী আকর্ষনীয় ও সুন্দর। আর ওর মুখের ব্রণের দাগগুলো এক বিপ্লবী জয়ের চিহ্ন বহন করছে যেনো।