Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

এক রাজ্যে ছিলো সবার আদরের ছোট্ট এক রাজহাসের ছানা। রাজ পরিবারের ছানা বলে কথা, তাই সেই ছানাকে নিয়ে ছিলো সবার উচ্চপ্রত্যাশা। রাজহাঁসের মা ও বাবার অনেক শখ ছিলো আকাশে উড়ে বেড়ানোর, উড়ে উড়ে দুর-দুরান্তের জায়গা ঘুরে আসার। রাজহাঁসের তাই ইচ্ছে নিজে উড়তে না পারলে কি হবে, ছেলেকে সে উড়তে শেখাবেই শেখাবে। এই নিয়ে তাই উৎসাহ উদ্দীপনা চেষ্টা-তদবিরের কোন কমতি রাখেনি সে কোনখানে। রাজ্যের সেরা উড়বিদকে নিয়োজিত করা হলো রাজ্হাসছানার প্রশিক্ষণের জন্য; প্রত্যাশা এই রাজহাঁসের ছানা এক সময় বড় হয়ে আকাশে উড়বে। ওদিকে হাসছানা অনেক চেষ্টা করেও বেশীদূর উড়তে পারেনা, এই নিয়ে মনে তার গ্লানির সীমা নেই। কিছুদিন এভাবেই গেলো, হাসছানাও চেষ্টা বাড়িয়েই চললো; কিন্তু কোনকিছুতেই কিছু হলোনা, হাসছানা বড়জোর গ্লাইড দিতে পারে পানিতে এর বাইরে আর সে কিছুই পারেনা। দিন যায়, মাস যায় এই করে করে বছরও ঘুরে আসে রাজহাঁসের পারফর্মেন্স দেখে শিক্ষকের সাথে সাথে পরিবারের অনেকের মধ্যে হতাশা দেখা গেলো। হাঁসছানা সবার প্রত্যাশা পূরণ না করার অপারগতায় ভীষণ অসুখী হয়ে উঠলো। ধুর হাসছানার এখন কিছুতেই মন বসেনা; কিছু খেতে ভালো লাগেনা, কারো সাথে খেলতে ইচ্ছে করেনা, এমনকি কারো সাথে কথা পর্যন্ত বলতে ইচ্ছে করেনা। হাসছানার মনে হয় কেউ যেনো তাকে ঠিকমতো বুঝতে পারেনা। ও যা বলতে চায় তাও কেউ যেনো শুনতে চায় না। হাসছানার মনে হতে থাকে রাজ পরিবারের জন্ম নিয়েও তার মতো এমন দুঃখী পৃথিবীর আর কোথাও নেই। হাসছানা এখন তরুণ, মনের অশান্তি আর সহ্য করতে না পেরে সে একদিন ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় ঘুরে ঘুরে গিয়ে হাজির হয় এক কৃষকের খামারে। সেখানে গিয়ে পরিচয় হয় এক মুরগির সাথে। মুরগির সাথে কিভাবে কিভাবে যেনো বন্ধুত্বও হয়ে গেলো। হাসছানাটির এই প্রথম মনে হলো কারো সাথে কথা বলে যেনো সে আরাম পাচ্ছে, মানে আরকি কেউ তাকে ঠিকমতো বুঝতে পারছে। মুরগিটির আসলে অনেক জানাশোনা ছিলো কিনা! সেই মুরগি ঈগল পাখি চেনে, চেনে বাঘ, সিংহ, মাছ, মানুষ, সমুদ্র, গাছ, পৃথিবী ও বিজ্ঞানের আরও কতকিছু। সেই মুরগি হাসছানাকে দেখেই বলে দিলো সে যে রাজহাঁসের বংশধর। এও বলে দিলো সে খুব ভালো সাঁতার জানে, এমনকি পানিতে কি সুন্দর করে গ্লাইড করতে পারে ইত্যাদি ইত্যাদি। মুরগিটি এও জানালো তার দেখা সব হাঁসের মধ্যে রাজহাসই অনেক বেশী দৃষ্টি নন্দন। এইসব কথা শুনে রাজহাঁসের মনে পড়ে গেলো, পাতিহাসেরাও উড়তে না পারার কারনে তাকে নিয়ে কতই না হাসাহাসি করেছে। উড়ার ক্ষমতা নাই বলে রাজহাঁস যে কম গুরুত্বপূর্ণ না সেটাও সে জেনে নিলো সেই মুরগির থেকে। অনেক অল্প সময়ের দেখা, তারপরও হাসছানার মনে হতে থাকলো মুরগিটি যেনো তার চিরদিনের চেনা, মুরগির মতো কেউ তাকে চিনতে পারেনি; কোথাও সে ঠিকমতো মূল্য পায়নি। মনের ভার হালকা হলে হাসছানাটি ফিরে আসলো তার আপন রাজ্যে। রাজ্যে ফিরেই সে একজন সঙ্গী বেছে নিয়ে বিয়ে করে ফেললো ও রাজ্যের দায়িত্ব নিয়ে নিলো। তাদের ছানাপোনা হলে, হাসছানা প্রথমেই তাদেরকে বুঝিয়ে দিলো যে একেক প্রাণীর একেক ধর্ম। তাদের ধর্ম জলে ভেসে বেড়ানো, মাছ ধরে খাওয়া, সাঁতার কাটা ও সময়ে- অসময়ে পানিতে গ্লাইড দেয়া। আকাশে অনেক হাঁস উড়ে যায়, অনেক পাখি উড়ে যায় সেটাই তাদের ধর্ম। আবার চাইলেও সবাই সাঁতার দিতে পারেনা, চাইলেও কেউ উড়তে পারেনা। অনেকে আছে যে সবই পারে কিন্তু তাদের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে কোন লাভ নেই। কি করে নিজেদের জীবন যাপনে সুখী থাকা যায় তাতেই সবার মনযোগ দেয়া উচিত। অন্যের সাথে তুলনা করে প্রতিযোগিতায় নামলে অসুখী হতে হয়।