সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক ক্রমাগত খেলা

কেউ যেনো বলছিলো যে ইহুদীরা তো খালি চায় সবাই তাদের প্রশংসা করুক, প্রশংসা শুনলেই খুশি; কেউ সমালোচনা করলে নিতে পারেনা। কথাটা কানে ঢুকে গেলে আপন মনেই ভাবতে থাকলাম, কে আবার প্রশংসা শুনতে ভালোবাসে না! এই যে আমরা ঘুরছি ফিরছি একসাথে, মিশছি কিভাবে? শুরুটাই তো হয়েছে একজন আরেকজনকে প্রশংসা(appreciate) করার মধ্য দিয়ে। আজ যদি আমি তার দূর্নাম করতাম কিংবা সে আমার কিংবা সামনেই নিন্দা-মন্দ করতো তাহলেও আমরা কি এক সাথে ঘুরতে বের হতাম? কারো সাথে মিশে যখন আমাদের ভালো লাগে তখন আমরা তাদের সাথে আরও মিশতে চাই, এটা ততক্ষণ চলতে থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মধ্যে ভালো লাগা কাজ করে। অনেকদিন মেশার পর কোন এক পর্যায়ে (personality clash) ব্যাক্তিত্বে সংঘর্ষ বাধবে সেটাও স্বাভাবিক। সেই সংঘাতের পরও যদি কোন গ্রুপ এক সাথে মিলে চলে তাহলে সেটা বরং solid একটা base এ দাড়িয়ে যায়। কারন একজন আরেকজনকে কেবল ভালো দিক দেখাবে যতক্ষণ ততক্ষণ সেটা surface level এই আটকে যায়। যেকোন সম্পর্কে (relationship) এই দুই ধরণের শক্তি (force) কাজ করে, যতদিন পর্যন্ত ভালো-মন্দ দুই ধরণের অভিজ্ঞতা না আসবে সম্পর্কে ততদিন পর্যন্ত বলা চলে সম্পর্কটা খুব ঠুনকো। এজন্য অনেক সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় প্রাথমিক পরিচয়ের অল্পকিছুদিনের মধ্যে; যখন একজন আরেকজনকে চিনতে পারে ভালো-মন্দ দুইদিক দিয়ে তখনই সিদ্ধান্ত হয়ে যায় সম্পর্কটা সামনে এগোবে, নাকি এগোবে না। যারা এই অভিজ্ঞতাকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে এগোয়, soap opera’র মতো perfect life কে idolise না করে তারা বরং grow করে, যারা তা পারেনা তারা একই loop এ অনেক সময় আটকে পড়ে।

অনেকে তাদের shadow side এমনভাবে এড়িয়ে চলে যে, তারাও যে তাদের shadow cast করছে কোথাও না কোথাও সেটাই ভুলে যায়; এইসব মানুষ যারা নিজেদের shadow side দেখেও দেখেনা, disown করে চলে তারা আবার অন্যদের shadow side গুলো ধরার ওস্তাদ। ছোটবেলায় কোন এক আত্নীয়ের বাসায় গিয়েছিলাম বাবার সাথে। সেই সময় আত্নীয় ভদ্রলোক এসে কুশলাদি পর্ব শেষ করে বেশ আমোদের সাথে জানতে চাইছে, আমার মতে তার কি কি বিষয় আছে যা সমালোচনা করার মতো? আমার বাবাও আগ্রহ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে দেখে অনেক ভেবে চিন্তে সেই আত্নীয়ের সমালোচনা করার মতো দিকগুলো তুলে ধরতে চাইলাম। প্রথমে মাথায় আসতেছিলো না কি সমালোচনা করবো তার। তারপর আস্তে আস্তে কিছু বিষয় চোখে পড়লো। এক সেই লোকের দুই ঠোটের চিপায় কেমন যেনো ঘায়ের মতো দেখলাম, এরপর খেয়াল হলো লোকটা অনেক বেশী কথা বলে। এইসব ভেবে নিয়ে তাকে যখন জানালাম সে লোক তো রাগে ফেটে পড়লো। আমিও অবাক হয়ে তাকে দেখলাম, আর মনে মনে ভাবলাম- বারে সেই না আমাকে তার সমালোচনা করতে বললো! পড়ে সেই লোক রেগে মেগে জিজ্ঞেস করলো, আমি কি এইসব আমার মায়ের কাছ থেকে শুনে শিখেছি কিনা?! আমি আকাশ থেকে পড়ি, আমার মা কেনো তাকে নিয়ে সমালোচনা করবে, সে তো তাকে নিয়ে কোন কথাই বলে না। পড়ে বড় হতে হতে জানতে পারলাম সেই লোক জটলা পাকিয়ে অন্যদের কাছে আমার মায়ের, আমাদের নিয়ে নানা রকমের সমালোচনা করে, তাই সে ধরেই নিয়েছে আমাদের বাসাতেও আমার মা তাকে/তার পরিবার নিয়ে সমালোচনা করে! আর সেই লোকের চিন্তা ভাবনা এতোটাই আত্নকেন্দ্রিক যে; সে ধরেই নিয়েছে জগত সংসারে সে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কেউ, আর তাই তাকে নিয়েই রাতদিন সবাই আলোচনা-সমালোচনা করে থাকবে। পরবর্তীতে অবশ্য আমি নিজেই সেই লোককে নিয়ে সমালোচনা করায় বেশ creative হয়ে উঠেছিলাম, আর তাতে করে বাসার সবাই বেশ মজা পেতো!

ইহুদীদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কেনো হয়, কারন তারা অনেক গুরুত্বপূর্ন ভূমিকায় আছে সাড়া বিশ্বে। হাস্যকর হলেও সত্যি সবার মধ্যে সেই গুরুতপূর্ন স্থান দখলের সুপ্ত ইচ্ছা থাকে। কিন্তু থাকলেই তো আর হবেনা, সবই বলা চলে সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছে অনুযায়ী চলে। ইহুদীরা যোগ্যতা রাখে কারনেই তো তারা এখন ক্ষমতার কেন্দ্রে! যে যোগ্য হবে সেই তো ক্ষমতায় থাকবে। আর ক্ষমতায় থাকলে এর অপব্যবহারও হয়, ইহুদীরা সেটাই করছে। ইহুদীদের জায়গায় অন্য কেউ থাকলে তারাও করবে। দেশের মন্ত্রী-মিনিস্টারের পদ কত ছোট তারপরও তাদের ক্ষমতার কত রকমের অপব্যাবহার হয়; অনেক সময় তাদের ইচ্ছেতে অনেক সময় অনিচ্ছেতে। কোন দলে কোন একটা পদে থাকলে মতের মিল না হলেও অনেক সময় আপস করতে হয়। ইহুদী জাতির মধ্যেও তো ভালো-মন্দ আছে, আর সেটাই তো স্বাভাবিক। এরা একদিকে যেমন ক্ষমতাবান অন্যদিকে এরাই আবার অসহায়। এতো ক্ষমতা নিয়েও এরা শান্তিতে নেই। পৃথিবীর কোথাও এরা নিরাপত্তাবোধ নিয়ে চলতে পারেনা; মানুষের ঘৃণা, হিংসা তাদেরকে আক্রমণ করে। ক্ষমতাবাণ কাউকেই আসলে মানুষ সহ্য করেনা, বরং দূর্বলের প্রতি আহা উহু করতে মানুষ বড়ই ভালোবাসে। ইহুদীজাতির যে জীবন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে সে জায়গায় অন্য কোন জাতি হলেও এর ব্যত্যয় হতো বলে আমার মনে হয়না।প্যালেস্টাইন-ইসরায়েলের যে সমস্যা সেটা থাকতো না, যদি না ইহুদীরা ইউরোপ বা পৃথিবীর অন্য জায়গায় নিরাপত্তা পেতো; কিন্তু দুঃখজনকভাবে এরা পৃথিবীর কোথাও নিরাপত্তা খুঁজে পায়নি। বলা চলে ওদের নার্ভাস সিস্টেমই হয়ে গেছে অসুস্থ, পৃথিবীর কোথাও ওরা শান্তিতে জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পায় না। আজ যদি ওরা looser হয় তাতেও কি তারা মানুষের করুণা কুড়াতে পারবে? আমার মনে হয়না, ওরা এই পর্যন্ত জীবনযাত্রায় যেসব প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে বেঁচে ফিরেছে সেখান থেকে ফিরে মানুষ আর স্বাভাবিক থাকেনা। গ্যাসচুল্লি বা একটা জাতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করার গুরুত্বর পরিকল্পনা থেকে যারা বেঁচে ফিরেছে তারা আর সাধারণ মানুষ নেই, হয় তারা সাধু নাহয় অসুর হয়েই ফিরেছে। এই চিত্রই আমরা ইহুদীদের মাঝে অবলোকন করি। Islamophobia ছড়ানোর পর বুঝতে কষ্ট হয়না ইহুদীদের সামষ্টিক জীবন অভিজ্ঞতা কতটা ভয়াবহ হতে পারে। Israel রাষ্ট্র গঠনের যে স্বপ্ন সেটা আর কিছুনা, একটা নিশ্চিত বাসস্থান গড়ে তোলা যেখান থেকে তাদেরকে কেউ উৎখাত করার ক্ষমতা না রাখে। কিন্তু যে কোন দেশের আইন অনুযায়ী আমরা জানি- কোন জায়গা কিনে নেওয়ার পর যদি দেখা যায় সে জায়গায় অন্য কেউ বাস করে, তাহলে যারা সেখানে বাস করে আসছে তাদের সেখানে থাকার অগ্রাধিকার বেশী। এক্ষেত্রে জমি খালি কিনে নিলেই হলো না, কিনে নেয়ার আগে দেখে নিতে হয় যে সে জায়গা খালি আছে নাকি অন্যরা সেখানটায় ইতোমধ্যে বসবাস করছে। এই সাধারণ একটি বিষয় ওদের মাথায় খেলে না কেনো? কারন আর কিছুই নয়; ওদের নিজেদের বাইরে কোন কিছু নিয়ে কিংবা বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। মানুষ যখন survival mode এ থাকে তখন আর নীতিগত চিন্তা কাজ করেনা। বলা চলে সারা বিশ্ব যেখানে ভাবছে ওরা ক্ষমতার শীর্ষে, ওরা সবাইকে ব্যাবহার করছে নিজেদের সুবিধামত; বাস্তবতা আসলে পুরোটাই উল্টো। আসলে ওরাই এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত হচ্ছে ওদেরই অবচেতনে। সৃষ্টিশীল শক্তি (creative force) যেমন ওদেরকে চালিয়ে নিচ্ছে; একইসাথে ধ্বংসাত্নক শক্তি (destructive force) ও ওদেরকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এ যেনো সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক ক্রমাগত খেলা চলছে ইহুদীদের কেন্দ্র করেই; যারা এই নির্মম খেলার গুটি মাত্র!

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 121