incurable diseases

‘দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর’

কোরাইশ বংশের মতো উচ্চবংশের লোকেরা শিশু সন্তানকে গড়ার জন্য নগরী থেকে দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে দিতো যেমন আমরা আমাদের নবী (সাঃ) কে দেখি। নাগরিক সুবিধা ছাড়া দূর্গম মরুভূমিতে টিকে থাকার কৌশল শেখার সুযোগ মিলতো তাতে। দূর্গম প্রান্তরে নির্জনে বেড়ে ওঠার কারনে কোরাইশ বংশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে যে চারিত্রিক দৃঢ়তা তৈরি হতো তা নাগরিক সুবিধায় থেকে অর্জন করা কখনোই সম্ভব ছিলো না। যেমনটা আমরা প্রত্যক্ষ করি মাটির গভীর থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসা চারাগাছের মহীরুহে রূপ নেয়ার যাত্রা। কিন্তু আমাদের মতো দেশে দেখা যায় গ্রাম থেকে শহরে পাড়ি দেয়া মা-বাবা তাদের সন্তানদের এমন সাহেবি কায়দায় প্রতিপালন করেন যার ফলে সেইসব সন্তানেরা গ্রামের পরিবেশের সাথে আর নিজেদেরকে খাপ-খাওয়াতে পারেনা। সাঁতার জানা মা-বাবার সন্তান পুকুরে নামতে শেখে না, বড়জোর সুইমিংপুলে নামতে শেখে। অনেকেই আছে উঁচু টয়লেট ছাড়া প্রাকৃতিক কার্যক্রম সারতে পারেনা। এছাড়াও অনেকে জানেই না চাষাবাদ প্রক্রিয়া, খড়ির চুলা ব্যবহারের কৌশল, ঢেঁকিতে ধান ভানা, পশুপাখি নালন-পালন পদ্ধতি। অনেকের মধ্যে এমনও আছে যারা মুরগি দেখে পর্যন্ত ভয় পায়! ধান গাছ থেকে কাঠ হয় কিনা সে প্রশ্ন তোলে।এইসবই আসলে কি ইঙ্গিত করে? প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্নতা। আমরা নাগরিক জীবনে প্রবেশ করে নিজেদেরকে প্রকৃতি থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে ফেলি আর তাতেই আমরা যেনো জাতে উঠে যাই!

এইবার আমরা তাকাই আমাদের দেশের নেতৃস্থানীয় দুই প্রতিনিধি শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ছেলে মেয়েদের দিকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেছি খুব গর্ব করে বলতেন যে, তিনি তার ছেলে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন, যা খালেদা জিয়া পারেন নাই। অল্পশিক্ষিত খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক জিয়াকে চোর, অল্পশিক্ষিত বলেই জেনে এসেছি। অথচ যখন দেশের হাল ধরার সময় আসলো তখন দেখতে পাই হাসিনার ছেলে-মেয়ের মধ্যে কেউই এ ব্যাপারে যোগ্য নয়। এর কারন কি হতে পারে এই নিয়ে ভাবতে ভাবতে বুঝে যাই হাসিনার ছেলে-মেয়ে দেশীয় সংস্কৃতিতে বড় হয়নি। যারা নিজের সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠেনি তারা কি করে দেশের রাজনীতি বুঝবে, হাল ধরা তো অনেক দূরের ব্যাপার। সজীব ওয়াজেদের কথা অনেক ধৈর্য্য নিয়ে শুনতে হয়, কারন রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কথায় যদি কোন কূটনৈতিক কৌশল না থাকে তাহলে তা নেয়া যায় না। আমরা সাধারণেরা অনেক উল্টা-পাল্টা বকতে পারি, কিন্তু যে নেতৃত্ব দিবে তার চিন্তাভাবনায় গভীরতা না থাকলেও কথা-বার্তায় লাগাম থাকতে হবে। বিকারগ্রস্তের মতো আবোল-তাবোল বকে গেলেই দেশ ও জাতি উদ্ধার হয়ে যাবে না। তারেক জিয়া কতটুকু মানুষ হয়েছে কিংবা নেতৃত্বদানে কতটা যোগ্যতা রাখে সেটা মাপার সময় এখনও আসেনি। তবে বলা যায় তারেক জিয়া নিজেকে প্রমাণের বিরাট এক সুযোগ পেয়েছে, সেটা সে কিভাবে কাজে লাগাবে তার উপর নির্ভর করবে তার সার্বিক মূল্যায়ন। তারেক জিয়ার পর তৈরি হয়ে আছে তার মেয়ে। ওদিকে হাসিনার ছেলে-মেয়ের পরের প্রজন্মের খবর আমরা কিছুই জানিনা। আওয়ামী লীগ যদি আবার রাজনৈতিক মাঠে যোগ দেয় সেক্ষেত্রে দলের নেতৃত্বে কে থাকবে?!

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 121