Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

অনেকে আছে যাদের প্রথম দেখাতেই চোখে লেগে যায়। তাদের elegance, তাদের ব্যাক্তিত্ব ও রুচিশীলতা নজরে পড়ে। এরকম এক মেয়ের সাথে পরিচয় হয় সৌভাগ্যক্রমে।পরিচয়ের শুরুতেই টুকটাক কথা বলার পর জিজ্ঞেস করলাম যে তাকে কিছু ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করতে চাই; তাতে সে আবার কিছু মনে করবে কিনা?! উত্তরে মেয়েটি জানিয়েছিলো- কোন কিছুতেই তার কোন সমস্যা নেই। তখন মনে মনে ভাবনা এলো এমন তো হতে পারেনা, কোনকিছুতেই কারো কোন সমস্যা হয় না। হয় মেয়েটির মধ্যে কোন সীমারেখার বোধ নেই, নাহয় মেয়েটি কোথায় সীমারেখা টানতে হয় সেটাই ঠিক করে উঠতে পারেনি। এই একটি কথাতেই মনে এক ধরণের ভয়ের উদয় হলো। কারন দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দেখেছি যারা বলে যে তাদের কোনকিছুতেই কোন সমস্যা নেই, তাদের মধ্যেই অনেক সমস্যা দেখা যায়। তারপরও কৌতূহল দমন করতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম টুকটাক ব্যাক্তিগত কিছু প্রশ্ন যেগুলোর সবকয়টির উত্তর মেয়েটি হাসিমুখেই দিয়েছিলো। তারপরও মনের ভেতর খটকা লাগলো, এতো সুন্দর মেয়ে তার অস্তিত্বের কোথাও না কোথাও একটা বাউন্ডারি টেনেছে নিশ্চয়ই!
একজন মানুষের তো যেকোন পশুর মতোই একটা ক্ষেত্র (territory) থাকবে! সেইখানটা যদি লঙ্ঘন করা(overstep) হয় তাহলে তো সে রুখে (fightback) দাঁড়াবে। যদি এমন হয় territory থাকতে হয় কোন একজনের, সেই ধারণাই মুছে ফেলা হয় তাহলে তো সেটা ভয়ংকর। যেকোন সার্বভৌম স্বত্বার (soverign being) এটি একটি মৌলিক অধিকার বলা চলে। এমন অনেক সময় থাকে যখন আমাদের ক্ষুদ্র অস্তিত্ব অসীমে বিলীন হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে হারিয়ে ফেলতে পারি আমরা আমাদের সীমারেখা। অনেক সুফি-সাধু এরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু অন্যজনের বউকে নিজের মনে করে আদর করা শুরু করলে তো বিরাট ঝামেলা বাঁধবে। উদাহরণস্বরূপঃ এক মেয়ে তার বিয়ের রাতের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে তার বান্ধবীদের সাথে, যেখানে মেয়েটির বর পেছনের পথ ব্যবহার করতে চায়। মেয়েটি বুঝে উঠতে পারছে না কি করবে সে! তো সেই কথা নিয়ে মেয়েদের মহলে হাসাহাসি হলেও মেয়েটির সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করার কারনে অনেক মেয়েই সাবধান হয়ে যাবে, যারা পেছনের পথ ব্যাবহারে আগ্রহী নয় তারা আগে থেকেই ব্যাপারটা পরিস্কার করে নিবে হবু বরের সাথে! সীমারেখা তো(বাউন্ডারী) এক জায়গায় না এক জায়গায় টানতেই হয়। কেউ বোরকায় বাউন্ডারী টানে, কেউ হিজাবে, কেউ ওড়নায়, কেউবা মিনিস্কার্টে! এজন্য যখনই কেউ বলে আমার কোন কিছুতেই কোন সমস্যা নেই তাদের নিয়ে মনে আমার বিরাট এক খটকা বাধে। দেখা গেলোও তাই, মেয়েটি যদিও আমাকে বলেছে তার কোন কিছুতেই কোন সমস্যা নেই; তার আসলে অনেক কিছুতেই অনেক সমস্যা হয়(যদিও খুঁটিনাটি কিছুই জানিনা আমি) এবং সেসব ব্যাপারে মেয়েটি চরমভাবে অসহনশীলতাও দেখিয়েছে। এরপর এক ফাঁকে মেয়েটিকে জানিয়েছিলাম যে কোন কিছু করার আগ্রহ আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম যেগুলো ধীরে ধীরে সেরে উঠছে, অর্থাৎ আমি এখন অনেককিছুতে আগ্রহ ফিরে পাচ্ছি। সেসময় মেয়েটি বলে উঠেছিলো তার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা পুরো উল্টো, কিছু না করে সে থাকতে পারেনা; সারাক্ষণই কিছু না কিছু তার করা চাই। যদিও সে সময় আমি মেয়েটিকে জানিয়েছিলাম কিছু না কিছুতে ব্যস্ত থাকা আসলে এক ধরণের আসক্তি যেটা এক সময় আমারও ছিলো। তখন মেয়েটিকে প্রশ্ন করি- কোনকিছু না করে থাকতে পারবে কিনা সে?! উত্তরে মেয়েটি কিছু জানায়নি, কিন্তু আমি খুব ভালো করেই জানি এই জায়গায় এসেই অনেকের মধ্যে সমস্যা ধরা পরে। সবাই আসলে নিজের থেকে পালাতে চায়, যেজন্যই সবাই এতো দৌড়াচ্ছে। সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো গিয়ে নিজের মুখোমুখি হওয়া, সেটা যখন মানুষ এড়াতে চায় তখনই তো মানুষ ছোটাছুটি করে সারাক্ষণ। এক জায়গায় স্থির হয়ে বসা, নিজের ভেতরটা পর্যবেক্ষণ করা যদি এতো সহজ হতো তাহলে তো সবাই হিমালয়ের চুড়ায় কিংবা হেরাগুহায় গিয়ে ধ্যানে বসতো!