DivineFeminineEnergy

ব্যক্তিত্বই আসল সৌন্দর্য

সুন্দরী আত্নবিশ্বাসী এক মহিলা যে খুব সুন্দর পরিপাটি হয়ে চলে তাকে দেখে ভালো লাগে বৈকি! ভালো লাগে কারন সে নিজের যত্ন নেয়। ভালো লাগে কারন সে ভালো থাকার চেষ্টা করে। ভালো লাগে কারন জীবনের দীর্ঘ যাত্রায় অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়েও তার জীবনের আলো ম্লান হয়ে যায়নি। সেই মহিলা যে এখনও ধ্রুবতারার মতোই জ্বলজ্বল করছে, তাকে দেখে প্রশান্তি লাগে মনে; তার সাথে আলাপ জমে যায়। তো মহিলা বলছিলেন যে, সে তো সুন্দর কিন্তু এখন তো তাকে বুড়ি বলা যায়! ভদ্রতার সুরে বললাম আমিতো আপনার কয়েক বছরের জুনিয়র মাত্র, কাছাকাছি বয়স তাহলে তো আমিও বুড়ি! এরপর মহিলাদের দল একসাথে মিলে ছবি তোলার সময় সে যাচাই বাছাই করে ছবি তুলছে আর বলছে, বুড়ি বুড়ি লাগছে তাকে, তখন খানিকটা হতাশ গলায় আমিও বললাম বুড়ি তো হতেই হবে একদিন না একদিন এবং এটাই তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মনে মনে ভাবছিলাম- বুড়ি হওয়া যদি প্রাকৃতিক নিয়মেই স্বাভাবিক হয় তাহলে মানুষের মধ্যে বুড়ো বয়স নিয়ে এতো ভয় কেনো?!খেয়াল করে দেখেছি যারা তরুণ তারা বুড়োদের এড়িয়ে চলে বেশীরভাগ সময়, কারন বুড়োদের জীর্ণ জীবনের সামনে তাদের তারুণ্যের উচ্ছ্বলতা ম্লান হয়ে যায়। এ যেনো সজীব তারুণ্যের সামনে নির্জীব অস্বিত্বের আগমনী বার্তা, যা দেখে তাদের কাছে জীবনের আয়োজন অর্থহীন মনে হয়। অস্তিত্বের গভীরে গাঁথা নিগুড় এ সত্য মানুষ অস্বীকার করতে চায়, ভুলে থাকতে চায় সাময়িকের জন্য হলেও। তারা বিশ্বাস করতে চায় যে তারা সারাজীবন তরুণ(ever green) থেকে যাবে। যেজন্য দেখা যায় মানুষের নিরলস সাধনা, তরুণের মতো বাঁচতে। তরুণের মতো বাঁচতে চাওয়ায় সমস্যা নেই, সমস্যা হলো যখন মানুষ সময়ের পরিক্রমায় বুড়ো হওয়ার ব্যাপারটা মেনে নিতে না পারে; আর বুড়ো হওয়ার ভয়ে তাড়িত থাকে সব সময়। এই ভয় থেকেই তারা বুড়োদের বিপরীতে নিজেদেরকে এমন এক অবস্থায় দেখে যেখানে তারা অপ্রতিরোধ্য। সেই মহিলা বলছিলেন তার হাজবেন্ডের অফিসের এক বুড়ির কথা, যে বুড়ি তার হাসবেন্ডকে খুশি রাখার জন্য এটা সেটা বানায়ে দেয়। ওই সুন্দরী মহিলার কাছে সেই বুড়ি মহিলা যেনো অতি তুচ্ছ কেউ; যার যৌবন নেই তার জীবনও যেনো ফুরিয়ে গেছে। বাড়ন্ত কিশোরী কিংবা ভরা যুবতির কাছে বুড়ি মহিলারা যেনো অনাকাংখিত প্রতিচ্ছবি, ভবিষ্যৎ করুন পরিণতি; যে পরিণতি তাদেরকে তাদের জীবন উপভোগ করার প্রেরণা যোগায়! একই সাথে জমাট ঘন অন্ধকার ছায়ার মতো তাদের তাড়া করে বেড়ায় যে ছায়া প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে একদিন তাদেরকেও গ্রাস করবে ! তো কথা হচ্ছিলো সেই সুন্দরী মহিলার কথা যে মহিলার সাথে পরিচয়ের অল্পক্ষণের মধ্যেই মহিলার ভেতরের গভীর ভয় যেনো নগ্নভাবে উঠে আসে আমার সামনে। সেই স্পষ্ট নগ্নতায় মহিলার সৌন্দর্য যেনো ম্লান হয়ে যায় সাথে সাথেই। তরুণী বা সদ্য কিশোরী অনেকে আছে যারা পরিণত নয়, যারা বাধর্ক্যকে ভয় করে; সেটা বোধগম্য। তরুণদের জীবনের তেমন গভীরতা নেই বলে তাদের সেই অপরিণত আচরণগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা যায়। যদিও এই সময়ে অনেক সময় শোনা যায় সদ্য কিশোরী বা তরুণীরা বয়সে প্রবীণ মহিলাদের verbal attack করে নির্দয়ভাবে, অনেক সেলিব্রেটিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কটু মন্তব্য করে।সেলিব্রেটি বা তেমন সুন্দরী না হয়েও আমিও যে অনেক সময় সেরকম আক্রমণের মুখোমুখি হইনাই তাও নয়, কিন্তু সেসব আক্রমণ তেমন গভীরে আমাকে ছুঁতে পারেনি, কারন আমি জানি বয়সের তুলনায় যখন কাউকে দেখতে অনেক তরুণ-তরুণীর থেকেও চাঙ্গা লাগে তাদের দেখে আমার ঈর্ষা হয়! ঈর্ষাকে একটি খারাপ অনুভূতি হিসেবে মানুষ চাপা দিয়ে দিতে চায় কিন্তু যদি এই আবেগীয় অনুভূতিটি মানুষ বুঝতে চেষ্টা করে তা আসলে আর কিছু নয় বরং আমাদের অন্তরের গভীরের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। আমরা যা যা হতে চাই, যাকিছু অর্জন করতে চাই কিন্তু একই সাথে সেই চাওয়াগুলো অপূরণীয় বলে অস্বীকার করতে চাই সে চাওয়াগুলোই ঈর্ষা হিসেবে উদিত হয় আমাদের মনে। আর অনেক সময় ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে মানুষ আক্রমনাত্নক আচরণ করে থাকে! এজন্য যারা অকারণে আক্রমনাত্নক আচরণ করে তাদের জন্য আমার করুণা হয়, কারন আমি তাদের মনঃস্তত্ব বুঝি বলে। যারা তারুণ্যকাল পেরিয়েও তারুণ্য ধরে রেখেছে তাদেরকে মানুষ মনে করিয়ে দিতে চায় যে, যতই তরুণ দেখতে লাগুক, তারা আসলে বয়সে কচিটি নেই! তাদের সময় ফুরিয়ে গেছে! তরুণদের বিপরীতে যারা মাঝ বয়সে এসে বুড়ো হওয়ার ভয়ে তাড়িত থাকে তাদেরকে দেখামাত্র আমার ভেতর এক ধরনের অনীহা চলে আসে। অনীহা আসে এই কারনে মানুষের তরুণ কাল হলো গিয়ে ফুল ফোটার সময়। গাছে ফুল ফোটে, ফল ধরে কিংবা কোন কোন গাছে ফুল-ফল এসবের কিছুই আসেনা। ফুল-ফল যদি সবকিছু হতো তাহলে ফুল-ফলহীন গাছ থাকতো না পৃথিবীতে। কিছু গাছ অশ্বথ ও বটগাছের মতো, যাদের শেকড় মাটির অনেক গভীরে প্রোথিত। যারা সব পশু-পাখিদের ছায়া দেয়, নির্ভরতা ও আশ্রয়ের জায়গা হয়। সব গাছের যেমন একই রকমের life purpose থাকেনা তেমনি একেক বয়সের মানুষের purpose একেক রকমের হয়, একেক বয়সের সৌন্দর্য তাই একেক রকম। এখানে সব বয়সের, সব শ্রেণী-পেশা/অবস্থানের মানুষেরই সমান প্রয়োজন। অবশ্য ইতিহাসে এমন অনেক সময়ও গেছে যখন অপ্রয়োজনীয়(disabled, economically contribute করেনা) বলে অনেককে গুম করে দেয়া হয়েছে। বয়সের সাথে সাথে জীবনের যে অভিজ্ঞতা আমরা সঞ্চয় করি, তা যদি আমাদেরকে জীবনের পথে শক্ত অবস্থানে দাঁড় না করাতে পারে, আত্নবিশ্বাসের ভিতটা মজবুত না করে, তরুণদের কটু কথার আঘাতে কেঁপে ওঠে তা আর যাই হোক আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্ব নয় মোটেও। এজন্যই হয়তোবা বলা হয় মানুষের ব্যাক্তিত্বেই আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে; আকর্ষনীয় যেকোন ব্যাক্তিত্বই জীবনের যাকিছু অমোঘ, অপরিবর্তনীয় তা মেনে নিয়েছে। এই মেনে নেওয়া মানে এই নয় তারা হেরে গিয়েছে, মেনে নেওয়া মানে (they embrace their life with grace) প্রশান্তির সাথে জীবনকে গ্রহণ করে নেয়া।

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 121