নারী-পুরুষ শক্তির ভারসাম্যপূর্ণ

Divine Feminine কোন কিছু প্রমাণ করতে যায় না, সে কেবল উপস্থিত থাকে। তার থাকাটাই মূল কথা, সে কি করলো কি দিলো তা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে না। এক সময় এমন ছিলো নারীরা কোচের ভূমিকায় কাজ করে যেতো। তাদের কোন কিছু প্রমাণ করার ছিলো না বরং তাদের কাছে অন্যদেরকে প্রমাণ দিতে হতো। সেই কোচের ভূমিকা বাদ দিয়ে নারীরা যখন খেলোয়াড় বনে গেলো ঠিক তখনই যত গণ্ডগোল দেখা দিলো। নারীরা আজ জবের জন্য দৌড়ায়, সৃষ্টিশীল কাজের পেছনে ছোটে, পছন্দের মানুষের জন্য প্রতিযোগিতা করে। অথচ এইসবই ছিলো Masculine energy’র বৈশিষ্ট্য। অনেক মহিলা দেখেছি তারা শরীরে নিপুণ নারীর গড়নের কিন্তু তাদের ভেতরের যে শক্তি তা পুরোটাই পুরুষের। এরা সারাক্ষণ প্রতিযোগিতা প্রবণ-তা সে যেকোন কিছুতে হোক না কেনো! এরা অন্যকে মূল্যায়ন করে শুধু তারা কি করছে(ডিগ্রী, জব) বা তাদের কি আছে তা দিয়ে। পুরুষেরা অনেক কিছু এনে পায়ে সঁপলেও নারীরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে থেকে তার পছন্দের সঙ্গীকেই বেছে নিতো। এখন নারীরা দেখে কার কি আছে, কার ব্যাঙ্ক-ব্যলান্স কত ভারী; যে মানুষটার সাথে সারা জীবন কাটাবে তাকে কতটুকু ভালো লাগলো না লাগলো সেটা তাদের কাছে অনেক সময়ই আর মুখ্য ব্যাপার না। অনেকে আবার আছে যে পুরুষ প্রোভাইড করে তাদেরকে বিশ্বাস করতে পারেনা, তারা এমন একজনকে খুঁজে নেয় যাদেরকে তারা উল্টো প্রোভাইড করবে, বিনিময়ে যারা তাদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে। অনেক নারী এমন দেখেছি যারা নিজেকে প্রমাণে সদা ব্যস্ত, এদের মুখে সব সময় শোনা যায় তাদের বিরত্বপূর্ণ সংগ্রামমুখর জীবনের ইতিহাস! সেইসব সংগ্রাম ভরা ইতিহাসগুলো শুনে মনে হয় নিজেকে প্রমাণ করার জন্যই যেনো তাদের জন্ম। যে মুহূর্তে কোন নারী নিজের শক্তি বুঝতে পারবে, সে মুহূর্ত থেকে সে আর নিজেকে প্রমাণ করার প্রতিযোগিতায় নামবে না। সে কোন কিছু হওয়ার চেষ্টাও করবে না; সে যা শুধু তাই সে হয়ে উঠবে। এখানে ভাণ(pretend) ধরার কিছু নেই। নারীকে যেই মূহূর্তে কেউ অপ্রাসঙ্গিক মৌখিক প্রশংসা করে তখনই বুঝতে হবে তাকে manipulate করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেকে মনে করে ভালোভাবে প্রশংসা করলেই বুঝি নারীর মন জয় করে ফেলা সম্ভব। এই নিয়ে একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। এক নারী খুব সুন্দর গোছানো, তার সংসারও সে ভালোভাবেই পরিচালনা করে। কোন স্বামী যদি সেই নারীকে বলে- ও তুমি তো সব খুব সুন্দরভাবে করছো তাহলে বুঝতে হবে সেখানে কিছু ঝামেলা আছে। নারীকে এখানে আলাদা করে প্রশংসা করার কিছু নেই, কারন নারী জানে কখন কোথায় তার উপস্থিতি অবশ্য কাম্য। যখন মানুষ আঙ্গুল তুলবে, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা থাকবে, খুব ছোট বা খুব বড় করে তুলে ধরবে কিংবা তার উপস্থিতি সমাদৃত নয় বা অতি সমাদৃত বুঝিয়ে দিবে তখনই নারী বুঝে যায় সে তার স্বস্থানে নেই। অন্যদিকে পুরুষকে যখন তার কাজের জন্য প্রশংসা করা হয় তখন প্রতিযোগিতা প্রবণ যে কোন পুরুষের মতোই সে অনুপ্রেরণা পায়। অন্যদিকে তাকে যদি তার অবদানের জন্য যথাযথ প্রশংসা করা না হয়, বরং সারাক্ষণ সমালোচনা করা হয় বা কিসে তার কমতি আছে সারাক্ষণ তা বুঝিয়ে দেয়া হয় তখন সে প্রতিযোগীতা মুখর জীবনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। Divine Masculine সব সময় purpose driven, সে যেমন তার পুরোটা পরিবার ও সমাজকে দিয়ে যায়(provide), তেমনি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা(protection) নিশ্চিত করে। দায়িত্বে অটল যুক্তিশীল এই পুরুষ শক্তি সক্রিয় থাকে কাজে, দেয় সঠিক দিক নির্দেশনা। অন্যদিকে Divine Feminine হলো গিয়ে স্বাধীন, সাহসী-সামঞ্জস্যপূর্ণ-সমৃদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী এক শক্তি। স্বর্গীয় শক্তিতে ভরা নারী শক্তি স্বয়ংস্বপূর্ণ-স্বপ্নদর্শী-সৃষ্টিশীল। আবেগীয় দিক দিয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন বলে এ শক্তি সকল সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতিশীল ও যত্নশীল হয়ে থাকে। Divine Feminine Energy যে কেবল নারী শরীরেই অবস্থান করে তা বললে ভুল হবে, এজন্য এমন অনেক পুরুষ দেখা যায় যাদের মধ্যে স্বর্গীয় কোমল এই নারীশক্তি আমরা অনুভব করতে পারি। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই masculine ও feminine শক্তির দুটোই থাকে। এই দুই শক্তির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা পেলেই নারী-পুরুষ উভয়েই স্ব স্ব অবস্থানে অনন্য হয়ে উঠে।

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 103