চাষের? বাগানের?নাকি বনের?!!!

নিতান্ত সাংসারিক মানুষগুলোও সৃষ্টিশীলতা চর্চা করে অন্তত সৃষ্টিধর্মী একটা ভাব ধরে রাখে। ছেলেকে একটু তবলা বাজানো শেখানো, মেয়েকে একটু আঁকাআঁকি – গান আর একটু উদার হলে নাচ শেখানো ইত্যাদি ইত্যাদি। যেকোন সৃষ্টিশীল কাজে মানুষের অভাব পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে এই নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা লেগে যায়। যারা কিছু হয়ে যায় তাদের মধ্যে অহং চলে আসে।খ্যাতি-কুখ্যাতির বিড়ম্বনা থাকে। এই ক্ষেত্র টাও তাই একটা গেইমের মতো হয়ে যায়। হার জিতের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। যেকোন দলের (গ্রুপ্রের) মতোই এখানেও মন কষাকষি-রেষারেষি থাকে। এইসব খেলা দেখতে দেখতে যারা ক্লান্ত হয়ে যায় তারা সন্ন্যাস জীবনকেই বেছে নেয়। খুব আত্নকেন্দ্রিক সংসারী লোকদের যেমন ভালো লাগেনা আবার সংসার ত্যাগী সাধুদের দেখেও মন টানে না। গৃহী সন্ন্যাসী আছেন অনেকেই, তাদের দেখে ভরসা আসে মনে। ‘শব্দকুঞ্জ’ ম্যাগাজিনের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হলে একদিন শুনতে পেলাম এর সম্পাদনার পেছনে যে দল কাজ করে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে, দুই একজন ম্যাগাজিনের সাথে আর নিজেদের সম্পৃক্ত রাখছেনা। এদের মধ্যে একজনকে আমি চিনেছি কোন এক অনুষ্ঠানে, যাকে প্রথম দেখাতেই ভালো লেগেছিলো। শুনলাম সেও আর থাকছে না, খারাপ লেগেছিলো। পরে যখন শব্দকুঞ্জের সম্পাদনায় আমাকে নেয়ার চিন্তা হয় আমি সরে গিয়েছি নিতান্ত সাংসারের দোহাই দিয়ে। যে কোন ক্যাচালের মধ্যে নিজেকে জড়াতে চাইনি বলেই, এছাড়া আমার মনে হয়েছে আর একজনের জায়গা আমি নিতে চাই না। কারন কারো জায়গা দখল করা আর তার পূর্ণতা দেয়া সহজ কথা নয়। পরিবারিক ক্ষেত্রটা অনেক বড় হওয়াতে এই ব্যাপারগুলো অনেক দেখা হয়েছে। কোন লেখক নই আমি তারপরও ম্যাগাজিনে আমার লিখা ছাপানো হয়েছে তা অনেক বড় ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে অনেকটা যেনো আমার থেকেও বেশী মূল্য আমার লেখার। যারা কিনা আমার দিকে ঠিকমতো তাকায়নি তারাও দেখি আগ বাড়িয়ে কথা বলতে আসে! এইসবই সৃষ্টিশীল চেতনা ম্লান করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। সবকিছু দেখে শুনে প্রশ্ন আসেঃ বনের গোলাপ বেশী সুখী? নাকি বাগানের গোলাপ? কিংবা চাষের গোলাপরাই বা কেমন আছে?!

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 103