Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

প্রভুদা একদিন জানালেন যে উনি ‘ইন্দুবালার ভাতের হোটেল’ বইটি পড়ছেন এবং লেখক বেশ ভালো লিখেছেন। অবাক হলাম প্রথমে, কারন আমি ভেবে নিয়েছিলাম উনি বাংলা তেমন পড়েন না। আর এই বইটি কি আর হবে; বইয়ের শিরোনাম দেখেই তো বোঝা যায় কি হতে পারে সারবস্তু। জিজ্ঞেস করলেন- বইটি আমি পড়েছি কিনা? উত্তরে জানালাম – বইটি পড়িনি তবে এই নামে একটা টিভি সিরিজ দেখেছিলাম কোন এক টিভি চ্যানেলে এসেছে। উনি বললেন সিরিজটা তিনিও দেখেছেন, ওটা তেমন ভালো বানাতে পারেনি; তার থেকে বইটা বেশী ভালো। তখন বলে বসলাম পড়া শেষ হলে বইটি আমাকে দিতে, পড়ে দেখা যাবে। মনে মনে ভাবছিলাম শুধু শুধু বই কিনে টাকা নষ্ট করার কোন মানে হয় না, যেখানে নিজেরও রোজগার নেই; পরের ধনে কত আর পোদ্দারি করা! বইটি পড়ার ফাঁকে উনি কিছু অংশ উদ্ধৃতি করেছিলেন তা থেকে যেমনঃ ছ্যাঁচড় নামে একটা চ্যাপ্টার নিয়ে, এছাড়া খাবারের প্রতিটি মেনু তৈরির আগে ইন্দুবালা যেসব বিষয় ধর্মাচারের মতো মেনে চলতেন তার বিশদ বর্ণনা – কোন মাছটি কোন নদী/পুকুরের, কোন সবজি কোন জায়গা/সময়ের প্রভৃতি জেনে নেয়া কারন সেসব তথ্যের উপর নির্ভর করতো রান্নার ধরণ; এইসব খুঁটিনাটি বিষয়বস্তু তুলে ধরেছিলেন। সেসব শোনার পর সত্যি সত্যি মনে আগ্রহ তৈরি হয়েছিলো বইটি পড়ার। সে সময়ই মনে হয়েছিলো যদি বইটি প্রভুদার থেকে নাও পাওয়া যায়, দেশে গেলে বইটির একটা কপি নীলক্ষেত থেকে কিনে নিবো; সস্তায় পাওয়া যাবে! কিন্তু এরইমধ্যে একদিন উনি আমাকে ডাকলেন, বইটি এনেছিলেন সাথে করে। অনেক বিষয়ে আলাপ আলোচনা হলো, স্বামী বিবেকানন্দের ‘Raja yoga’ বইটি পড়েছি কিনা জানতে চাইলেন। আমি বললাম স্বামী পরমহংস ইয়োগানন্দের ‘Autobiography of a Yogi’ বইটি পড়েছিলাম(খানিকটা)। কিন্তু ‘Raja yoga’ বইটি পড়ার আগ্রহ হয়নি কোনদিন। স্বামী বিবেকানন্দের বিষয়ে সুনীলের ‘প্রথম আলো’ বইটি পড়ে যতটুকু জেনেছি, তাতে তার ব্যাপারে মনের ভেতরে এক ধরনের negative impression পড়েছে; সেই সাথে তার ব্যাপারে আগ্রহও হারিয়েছি। এরপর উনি ওনার মতো করে বইটির মূলকথা তুলে ধরলেন আমার সামনে, বোঝানোর সুবিধার জন্য খাতা কলমও বের করে নিলেন ওনার সব সময়ের সঙ্গী ট্রলি ব্যাগ থেকে! এই নিয়ে উনার বিপুল উদ্যম দেখে অবাক না হয়ে পারিনা, যেখানে আমি কিনা কত অলস সময় পার করে দিই শুয়ে বসে থেকে! উনাকে যত দেখি ততই অবাক হই, এত শক্তি কোথা থেকে আসে! একই সাথে উনার কর্মোদ্দীপনা ছুঁয়ে যায় আমাকেও। মনে মনে ভাবি উনি কি উলুবনে মুক্তো ছড়াচ্ছেন না?! আমিতো আলসেমি করতে চাই, এতো আশা করে লাভ নেই আমাকে নিয়ে! কোনমতে জীবনটা কাটিয়ে দিয়ে যেতে পারলেই তো হলো, কি দরকার এতো দৌড়াদৌড়ির!
এরই মধ্যে ১২ এপ্রিল ছিমছাম সুন্দর এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মিউনিখ জার্মানিতে বাংলা ম্যাগাজিন দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হলো ‘শব্দকুঞ্জ’ নামে। প্রভুদা বলেছিলেন তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, সেই সাথে আমি আরেকটি বইয়ের খোঁজ করেছিলাম আনিস ভাইয়ের কাছ থেকে; সেটা ওনার কাছে আছে জানিয়েছিলেন এবং সাথে করে নিয়েও এসেছিলেন। অনুষ্ঠানে উনি উপস্থিত থাকবেন জানতে পেরে খুশি হয়েছিলাম এবং যাওয়াটা নিশ্চিত করেছিলাম! যদিও এর আগে মনে মনে ঠিক করেছিলাম হয়তো শেষমেশ না করেই দিবো অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে। এইসব বিষয়ে যুক্ত থাকা আমার কাছে আতলামো লাগে, এসব আঁতেলদের দলে পড়তে চাই না! এইসব করে কার কি উপকার হয়েছে কবে?! লাভ-ক্ষতির হিসাব না হয় বাদই দিলাম! কিছু কবিতা, কিছু গল্প ছাপানো হচ্ছে সেইসবের বেশীরভাগই মানুষ পড়বেনা, ফ্রিতে পেলেও! কত ভালো ভালো content আছে, সেইগুলো পড়েই এক জীবনে শেষ করা সম্ভব হবেনা! এছাড়া কজনই বা এইসব আবজাব পড়ে আজকাল! এই যেমন আমি হাবিজাবি যা কিছুই লিখিনা কেনো, লেখার পরেই মনে হয় এইটা তো ইউনিক কিছু না; ঘুরায়ে প্যাঁচায়ে একই কথা কতজনই তো বলে গেছে। যেমন বাচ্চা পয়দা করার পর মানুষের মনে হয়- কিনা কি করে ফেলেছে, কিন্তু একই জিনিস যুগ যুগ ধরে সবাই করে যাচ্ছে, আহামরি কিছু কি?! শুধুশুধু! অর্থহীন সব! এইসব চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে, সেই সময়ই আবার মনে হয় এছাড়া মানুষ করবেই বা কি?! একেকজনের একেক রোল আছে, সেটাই তো সবাই play করে যাচ্ছে। রোলটা তো play করেই যেতে হবে! ধুর ভাল্লাগেনা কিছু! অনুষ্ঠানে গিয়ে ম্যাগাজিনে আমার লিখা নিয়ে প্রশংসা শুনলাম! সেইসব প্রশংসাও শুনেও মন ভরেনা! কি এক জ্বালা! প্রশংসার ফাঁকে একজনকে জিজ্ঞেস করলাম তিনি ‘ইন্দুবালার ভাতের হোটেল’ বইটি পড়েছেন কিনা! তিনি জানালেন পড়েননি, তখন আমিও নিজের অজান্তেই প্রভুদার মতোই বইটি পড়ার আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে চাইলাম। মনে মনে ভাবলাম যাহ শ্লা আমিও দেখি দিনদিন প্রভুদার মতোই ছোঁয়াচে হওয়ার পথে!