গহীনের শেকড়

শেকড় উপড়ানো গাছ আমি

কচুরিপানার মতো ভাসমান।

মেঘ ও রোদের যে নিত্য খেলা

আমার ভেতরের অতি গহীনেও

একই রকমের লুকোচুরি চলে।

অনিশ্চয়তায় ভাসতে ভাসতে

দেশ সীমা কাল অতিক্রম করি!

সাগরের বুকে অবিরাম ভাঙাচোরা

ঢেউয়ের পর ঢেউ আছড়ে পড়ে

ভাসিয়ে নিয়ে যায় আমার সর্বস্ব।

কিছুই যখন আর হারানোর নেই

সে সময়ে এক ভাবের উদয় হয়!

বিশাল এক ঢেউয়ের অংশ আমি-

তীরে ভেঙ্গে আবার সাগরে মিলাই;

ঢেউয়ের পর ঢেউ আসে নিয়ত

অতল সাগরে সব এক হয়ে যায়।

ক্রমশ নীলাকাশ স্বচ্ছ হয়ে ধরা দেয়

রাতের আকাশে তারাদের ঝিকমিক

আর দিনে আলো-ছায়ার খেলা!

আকাশ জুড়ে এখনও মেঘ জমে

আড়ালেই তার ঠিক রোদ হাসে!

নির্লিপ্ত আকাশ চুপচাপ দেখে সব।

কোন ফাঁকে যে শিকড় গেঁথে বসেছি-

তা বুঝতে বুঝতেই খুঁজে পেলাম

ভূ-গহীনের নিবিড় শেকড়ের সন্ধান।

যে শেকড় আমার প্রাণরস জোগায়-

সে শেকড়ের অস্তিত্ব দেখেও দেখিনি!

বাস্তুহারা উদ্বাস্তু নইতো আমি কেউ-

গভীরতাহীন শক্তমাটির ভিত্তিহারা।

হারিয়েছি যাকিছু আপনাকে ভুলে-

নিজেরই বেছে নেয়া মায়ার খেলায়;

মায়ার সে ঘোর কাটতে কাটতেই

সর্বজয়ী মহা অস্তিত্বের দোর খোলে।

মিছে এ খেলার শেষ কোথায়?-

রয়েছে তা এক চির রহস্য হয়ে!

একই চক্রে ঘুরছে সব অবিরাম

মোহময়ী রঙিন সুতোর জাল বুনে!

#কবিতা ২৩-০৩-২০২৬

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 121