একই গোয়ালের গরু

একই গোয়ালের গরু কিনা!

সনাতনী ধর্মের বর্নপ্রথার মতোই জার্মানিতে hierarchy, এখানে প্রত্যেকের area of expertise বেশ well defined। এখানে গণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চতুর্থ শ্রেণীতেই( বাভারিয়াতে চতুর্থ শ্রেণী হলেও অন্য state গুলোতে কম বেশী ভিন্নতা থাকতে পারে) নির্ধারিত হয়ে যায় কে কোন শ্রেণিতে belong করবে ভবিষ্যতে; যদিও আবার এই শ্রেণীবিভাগ গুলো এতোটাও rigid না কারন পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় ভালো করলে upgrade করার সুযোগ থাকে। এই ব্যাবস্থা আমার কেনো ভালো লাগে? আমার ভালো লাগে কারন একজন যে শ্রমিক হিসেবে ভবিষ্যতে কাজ করবে সামাজিক মর্যাদায় সে উচ্চ আসনে না থাকলেও তাকে কোন ভার্সিটির শিক্ষক বিয়ে করবে এমন না। এখানে আবেগের বসে শ্রমিককে ভার্সিটির শিক্ষক বিয়ে করবে এমনও না, বিয়ের সময় ঠিকই হিসাব করবে খেয়ে পড়ে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটাতে পারবে কিনা দুজনে মিলে পরিবার গঠন করলে। একজন দক্ষ শ্রমিকের পারিশ্রমিকেও এই দেশে বেশ আরামসে দিন কাটিয়ে দেয়া যায়, মাঝেমধ্যে বিদেশেও ট্যুর দেয়া যায় পরিবারসহ, যা আমাদের দেশে কল্পনার বাইরে। এখানে ছুঁয়াছুঁয়ির বাতিক নেই, তারপরও সবাই প্রয়োজন ছাড়া কুশল পর্যন্ত বিনিময় করেনা, অযথা কুশল বিনিময় না করলেও জবাবদিহিতায় পড়তে হয়না সামাজিকভাবে; যেরকমটা হামেশাই বাংলাদেশে ফেইস করেছি- হয়তো খেয়াল করিনি, হয়তো মুড অফ ছিলো কোন কারনে, হয়তো অন্যমনস্ক চলছিলাম এইসময় কেউ না কেউ এসে কারন জানতে চাইবে কেনো কুশল বিনিময় করিনি! এখানে অন্তত এজন্য যথাযথ কারন দর্শানোর বাতিক নেই।

আমাদের দেশে অনেকে আছে গরীবদের সযত্নে এড়িয়ে চলে বিপদ-আপদ গণ্য করে , কেবল যারা জীবনে কোন না কোন দিক দিয়ে ভালো করছে তাদের সাথে মিশতে পারলে আবার ধন্য হয়ে যায়। তবে আসল কথা হলো আমাদের দেশে পয়সা ও ক্ষমতা থাকলে পরে কিচ্ছু লাগেনা; যত বড় পদের বা পরিবারের লোক হোক না কেনো কেউ, পয়সা বা ক্ষমতা না থাকলে কোন পাত্তা নাই! এজন্য আমাদের দেশে যাদের পয়সা কিংবা ক্ষমতা আছে তারা পদে পদে সেটা প্রদর্শন করে বেড়ায়। অন্যদের কাছে নিজের অর্জিত সহায়-সম্পত্তি, সম্মান-মর্যাদা, পদ-পদবী, জামা-জুতা-কস্মেটিকের ব্র্যান্ড নিয়ে bragging তো করেই, সেই সাথে অন্যদের দিকে চ্যালেঞ্জ পর্যন্ত ছুড়ে দেয় যে তার মতো শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছানো সবার পক্ষে সম্ভব নয়। একবার ট্রেনে করে ঢাকায় যাচ্ছিলাম, স্টেশনে এক মুরগি ব্যবসায়ীর মেয়ের সাথে দেখা যাকে বান্ধবী বলেই মনে করতাম ওকে দেখে খুশি হয়ে যখন জানালাম যে ভালোই হলো একসাথে যাওয়া যাবে। সেই সময় সেই মেয়েটির উত্তর ছিলো একসাথে যাওয়া হবে কি করে? আমার সিট তো ফার্স্ট ক্লাশে! আমি অবাক হয়ে গেলাম মেয়ের উত্তরে, সে মেয়ে ধরেই নিয়েছে ফার্স্ট ক্লাশের যাত্রী নই আমি; সেকেন্ড কিংবা থার্ড ক্লাশের যাত্রী আর এজন্য আমরা একই ট্রেনের যাত্রী হলেও একই শ্রেণীর লোক নই! সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এই ব্যাপারটা মারাত্নক আকারে ছিলো এক সময়- অন্য জাতের কাউকে বিয়ে করলে, অন্য ধর্ম বা ছোট জাতের কারও ছোঁয়া লাগলে, কারও হাতে কিছু খেলে, কারও ছায়া মাড়ালেও জাত চলে যেতো। সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের মধ্যকার এই ভয়ংকর ব্যাধি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মধ্যে আজও আছে অন্য রূপে! এমন অনেক বাংলাদেশি মুসলিম আছে যারা হিন্দুদের হাতের খাবার খায় না, হিন্দুদের সাথে ওঠাবসা করেনা, যেমনটা গরীবদের সাথেও তারা মেশেনা, এমনকি গরীবদের ঠিক জাতের মানুষ বলে গণ্য পর্যন্ত করেনা তা সে আপন মায়ের পেটের ভাই বা বোন হলেও না। মিরপুর DOHS এ কিছুদিন থাকার সৈভাগ্য হয়েছিলো। তো সেখানে থাকার সময় পার্কে নিয়মিত যেতাম, ঢাকা শহরে পার্কের অভাব বলে ওইটুকু পার্কই স্বর্গসুখ এনে দিতো। যাই হোক সেখানে বড়বড় অক্ষরে লিখা ছিলো “কুকুর ও কাজের লোকের প্রবেশ নিষেধ”। সর্ব সাধারণের তো প্রবেশাধিকার নেইই, মিরপুর DOHS এরিয়ায় যারা থাকে সেখানকার কাজের লোকও সেখানে প্রবেশাধিকার রাখেনা! সেনাদের উর্বর মস্তিক থেকে এর থেকে ভালো কিছু আশা করাও আসলে উচিত না। তো এই যে মানসিকতা এইটা যে শুধু সামরিক বাহিনীদের মধ্যেই আছে তা নয়, সাধারণের মধ্যেও আছে; গরীবদের মানুষ মনে না করা বা sub-human হিসেবে গণ্য করা; এবং এখানেও এটা বেশ hierarchy মেনেই হয়। যেমন ধরলাম আমার থেকে যে গরীব তাকে আমি lower category’র বলে গণ্য করি, আমি যাকে lower category’র বলে গণ্য করি সে নিজেই আবার অন্য কাউকে lower category তে ফেলে তার সাথে তেমনই আচরণ করে, আবার আমার সাথেও অন্য কেউ lower category’র সাথে মানুষ যেমন আচরণ করে তেমনই করে। সনাতনী ধর্ম ব্যাবস্থায় মানুষ শ্রেণী প্রথাকে মেনে নেয় বা নিতে বাধ্য হয় বলেই অনেক অন্যায় মুখ বুঝে সয়ে যায়, প্রতিবাদহীন থাকে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে হয় কি আমরা যখন অন্যকে তাচ্ছিলজ্ঞান করছি তখন কোন সমস্যাই মনে হয় না আমাদের কাছে, মনে হয় যে যতটুকুর যোগ্য আমরা তাকে তার প্রাপ্যটাই দিচ্ছি। কিন্তু অন্যরা যখন এই ব্যাপারটা করে তখন আমরা চুকচুক করি, আহা উহু করি। একইভাবে আবার অন্য কেউ যখন আমাদেরকে তাচ্ছিল্যজ্ঞান করে আমরা কিন্তু একদম মেনে নেই না, আমরা প্রতিবাদ করি, বিদ্রোহ করে বসি, রাগে ফেটে পড়ি। যারা নিতান্ত ভদ্রলোক তারা অনেক সময় এগুলো ধরেনা, কিন্তু সে সময় আবার হয় কি আশেপাশের মানুষ মনে করা শুরু করে সেই লোকের সাথে যেরকম খুশি তেমন আচরণ করা যায়। কিন্তু এক পর্যায়ে যদি বুঝিয়ে দেয়া না হয় যে যেমন খুশি তেমন আচরণ করা যাবেনা তাহলে ওরকমটা চলতেই থাকে যতদিন না পর্যন্ত সেই ভদ্রলোক অন্যদের মতোই ইতরে পরিণত না হয়! ভদ্রতা বজায় রাখতে তাই বাংলাদেশে বেশ কৌশলী হতে হয়। বুঝে নিতে হয় কে মানুষের সাথে কেমন আচরণ করছে; ছোট-বড়, ভালো-মন্দ, ধণী-গরীব, প্রয়োজনীয়- প্রয়োজনীয়, ভিন্ন দল, মত ও ধর্মের লোকের সাথে। উদাহরণস্বরূপঃ এক ভদ্রলোক খুব কষ্টের সাথে একবার আমার সাথে শেয়ার করেছিলেন যে এক সহকর্মী তাকে যাচ্ছেতাই বলেছে, এমনও বলেছে যে তার নাকি কোন ব্যাক্তিত্ববোধ নেই! অনেকক্ষণ ধরে সেই লোকটি তার সেসব আক্ষেপের কথা আমাকে জানালো, আমিও তাকে নানাভাবে স্বান্তনা দিতে লাগলাম। এই পর্যন্ত ঠিক ছিলো কিন্তু এরপর হলো কি সেই ভদ্রলোক তাকে যে সহকর্মী যাচ্ছেতাই বলেছিলো তার বদনাম করা শুরু করলো, আমাকে জানালো তার সেই সহকর্মী এইরকম সেইরকম, সে ড্রাগ নেয়, মদ খায় ইত্যাদি ইত্যাদি। যখন সে সহকর্মীর বদনাম করতে শুরু করলো তখন আমার মনটা কেমন যেনো বিতৃষ্ণায় ভরে উঠলো! মনে হলো বাংলাদেশীদের কাছে আমার প্রত্যাশা হয়তো অস্বাভাবিকরকমের অমানবিক! ওদিকে নবী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন যে, ‘দুনিয়াতে যে ব্যক্তি অন্য কোনো মুসলিম বা মানুষের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বা দুনিয়া ও আখিরাতে সে ব্যক্তির দোষ গোপন রাখবেন’।

আমার এলাকায় এক মেয়ে আছে ধরলাম সে মুরগি ব্যাবসায়ীর মেয়ে। সেই মেয়ে আমার বাসায় যখন খুশি তখন এক্সেস করার কৌশল রাখতো, সেই সাথে আমার বাসায় ওর হাতের ছোঁয়া পড়েনি এমন কিছু ছিলো না। কিন্তু ওর বেলায় নানা বিধি-নিষেধ দিয়ে রাখতো। ওর বাসায় যখন খুশি তখন যাওয়া যাবেনা, গেলেও আস্তে কথা বলতে হবে, সবকিছু টিপটপ থাকে যেনো সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে, টিভি রিমোট ধরা যাবেনা, পা টিপে টিপে হাটতে হবে, কোনকিছু নষ্ট করা যাবেনা ইত্যাদি বহুবিধ নিয়ম-কানুন। সেই মেয়ে আমার বিনয়কে আমার দূর্বলতা হিসেবে ধরে নিয়ে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করার যোগ্যতা রাখতো। ও আমার পোশাক-আসাক, আমার সাজগোজ নিয়ে সমালোচনা করতো; আর খালি নিজের ও নিজের পরিবারের সুনাম গাইতো। অন্যদিকে আমি ওর পোশাক-আসাক, ওর সাজগোজের প্রশংসা করতাম; আর নিজের ও নিজের পরিবারের কড়া সমালোচনা করতাম। সে মেয়েটির আত্নবিশ্বাস এতোটাই বেশী ছিলো যে অনেক ছেলে তার সাথে প্রেমে আগ্রহী হয়ে উঠলো, তো অনেক নাটকের পর সেই মেয়ে এক ছেলের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়লে আমারই এলাকার আরেক মেয়ে ওই মেয়ের আরেক ফ্রেন্ডের কাছে মন্তব্য করেছিলো যে, সামান্য মুরগি ব্যবসায়ীর মেয়ের সাথে ধনীর ছেলের প্রেম! ঘটনার মজার শুরু এখানেই, তো ওই মন্তব্য শুনে মেয়েটি রাগে ফেটে পড়ে তার বাসায় ফোন করে সব জানায়। বাসা থেকে তাকে না বুঝিয়ে তারাও উল্টো রেগে ফেটে পড়ে বলে যে মেয়ে এই কথা বলেছে তাকে মারতে তার বাপ-চাচা-ভাইয়েরা মিলে প্রস্তুত। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতেই পারা যায়, সামান্য একটা মন্তব্যে যুদ্ধংদেহী হয়ে পড়েছিলো সবাই! তো এই ঘটনা থেকে আমি একটা খুব সুন্দর শিক্ষা পেয়েছি তাহলো মূলত হীনমন্যতাবোধ থেকে উত্তরণের চেষ্টা থেকে নিজের বা নিজের পরিবারের লোকজনের গুণগান গায় মানুষ। অন্যদিকে নিজের বা নিজের পরিবারের কড়া সমালোচনা করে মানুষ তখনই যখন মানবীয় দোষ ত্রুটির ঊর্ধ্বে উঠে যেতে চায়, যাকে এক কথায় perfectionism বলা যায়। অনেক ভেবেচিন্তে বুঝে গেলাম মানুষ যখন আমাদের নিয়ে প্রশংসা করে তখন অনেক সময়ই আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে কড়া সমালোচনায় দাঁড় করিয়ে দিই। আজ যদি কেউ আমার বাবা-দাদা-চাচাদের বদনাম করতো, নিচু করতে চাইতো আমি নিজে তখন তাদের সব গুনগুলো খুঁজে বের করে তাদের হয়ে প্রতিবাদ করতাম; যখন কেউ তেমন কোন সমালোচনা করেনা তখন আমি নিজেই কড়া সমালোচক হয়ে উঠি। আবার যখন কেউ আমার ব্যাপারে সমালোচনা করে তখন আমি সে ব্যাপারটা কিভাবে হ্যান্ডেল করি তাতে বোঝা যায় আমার চারিত্রিক দৃঢ়তা। সমালোচনার মুখে প্রতিক্রিয়াশীল না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় যে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে সেই কামেল লোক। আমি এক্ষেত্রে কি করতাম যদি ওই মেয়ের জায়গায় আমি থাকতাম বা আমার পরিবার থেকে কিরকম প্রতিক্রিয়া দেখাতো। আমি এক্ষেত্রে ওই মেয়ের মন্তব্য মনে মনে পর্যালোচনা করতাম, তারপর চিন্তা করতাম মেয়েটি ওমন মন্তব্য করছে কেনো? মেয়েটার কি আমার সৌভাগ্যে হিংসে হচ্ছে নাকি আমাকে আঘাত করার জন্যই ওরকম মন্তব্য করছে! সবচেয়ে ভালো হলো কোনরকমে প্রতিক্রিয়া না দেখানো! চুপচাপ থাকা। তারপরও যদি একই আচরণ বারবার ঘটতে থাকে তাহলে ওই মেয়েকে সামনা সামনি জিজ্ঞেস করা কেনো সে ওমন মন্তব্য করে বেড়াচ্ছে! আমার পরিবার মেয়ের কথায় উত্তেজিত না হয়ে মেয়েকে ওই সব মন্তব্য গায়ে মাখতে বারন করে দিতো; সাথে এও জানাতো যারা পদ-পদবী, পরিবার ও বংশ মর্যাদা নিয়ে অহংকার করে তাদের পতন আসে, কাজেই ও নিয়ে বেশী মাথা না ঘামানোই মঙ্গল! আমার দাদীকে বলতে শুনেছি- ‘কেউ সমালোচনা করলে তাতে নিজেরই পাপমোচন হয়, তাই কেউ সমালোচনা করছে যখন তখন সে অজান্তেই আমার উপকার করছে’। এরপর মনে মনে আমি সৌভাগ্যবান মনে করি যে আমার পরিবারের সবার প্রশংসাই শুনে এসেছি কেবল (যদিও আমার মনে হয় প্রশংসা করার মতো তেমন কোন অর্জনই নেই!), আর সমালোচনা যা করার তা আসলে আমরা নিজেরাই করি। হয়তো নিজেরাই নিজেদের সমালোচনা করি বলে অন্য মানুষ সেটা প্রশংসায় ব্যালেন্স করে দেয়! ওই মুরগি ব্যাবসায়ীর মেয়ের সাথে না মিশলে অনেক কিছুই আমার শেখা হতো না। আমার মধ্যে শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতাবোধ) বেড়ে গেলো, নিজের ও নিজের পরিবারের লোকজনের প্রতি হৃদয় নরম হলো, নিজের ও সবার উপর যে প্রত্যাশার চাপ সেটাও কমে গেলো। আরেকটা জিনিস যেটা শিখেছি সেটা হলো কে কতটা এক্সেস পাবে সেটা নির্ধারন করে ফেলা, সবাইকে সমান এক্সেস দেয়া যেমন বোকামি তেমনি কাউকে খুব বেশী এক্সেস দেয়াও ঠিক না! যে ভুলটা করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর কেউ যদি এক্সেস(access) নেয়ার আগে অনুমতির প্রয়োজন বোধ না করে তাহলে ধরে নিবো সে আমাকে নগণ্যজ্ঞান করছে! একইভাবে অন্যের বেলাতেও এক্সেস পাওয়ার জন্য আমাকে আগে অনুমতি নিতে হবে!

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 139