Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

রাজনীতি বিশেষজ্ঞ না হলেও জার্মানিতে প্রায় ছয় বছর ধরে থাকার সুবাদে এখানকার রাজনীতি কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছি বলেই মনে হয়। একটা ব্যাপার পরিস্কার হয়ে ধরা দেয় তাহলো এদের পুরো দেশটা চলে অপরাধবোধ(guilt)থেকে। মূলতঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া ও ব্রিটেন মিলে জার্মানির দখল নিয়ে নেয়ার পর রাশিয়া, ফ্রান্স বা ব্রিটেন থেকে নিস্তার পেলেও আমেরিকার সামরিক ঘাটি আজও জার্মানিতে রয়ে গেছে; আমেরিকা মূলত জার্মানির সামরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে, জার্মানির এমন কোন নিজস্ব সামরিক অবকাঠামো নেই যাতে করে দেশকে তারা বাইরের দেশের আক্রমণ থেকে প্রতিরক্ষা করতে পারবে। অর্থনৈতিক যে উন্নয়ন তার সবই আমেরিকার অধীনে লাভজনক অর্থনিতৈক অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকার প্রয়োজনে। একটি দেশের সার্বভৌম যে অস্তিত্ব তা এ দেশের নেই; তাই অনেকটা আমেরিকার বদান্যতা করে, অনেকটা সেই দেশের সাথে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতায় চলতে হয়। যেকোন ইস্যুতে জার্মানকে ঘায়েল করার অস্ত্র হলো হলোকাস্ট ও নাস্যি প্রসঙ্গ, যা এখানকার মিডিয়াগুলোতে একঘেয়েভাবে আসতেই থাকে! অর্থাৎ কিনা জার্মানদের এই ব্যাপার নিয়ে আজ পর্যন্ত (shaming)অপমান এর শিকার হতে হয়। মূলত guilt & shame নামক একটি loop এই জার্মান ঘুরপাক খাচ্ছে, যদিও তারা তাদের যুদ্ধাপরাধের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে, জরিমানা গুনে যাচ্ছে আজ পর্যন্ত। একটা মজার গল্প আছে তাহলো- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা একদিকে যেমন জার্মানিতে বোমা ফেলেছিলো অন্যদিকে চকলেটও ফেলতো; অনেক বাচ্চা সেই চকলেটের আশায় বসে থাকতো, এমনকি চিঠিও লিখতো অজানা আঙ্কেলের উদ্দেশ্যে। এই গল্প জানার পর মনে পড়েছিলো আমাদের দেশের এক মেয়ের কথা যে দুঃখের সাথে শেয়ার করেছিলো ছোটবেলায় তাকে লজেন্সের লোভ দেখিয়ে কোন এক লোক তার থেকে মজা লুটেছিলো! জাপানও তেমন একটি দেশ যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একই পরিস্থিতির শিকার হয়। জাপানে যাওয়ার বা থাকার সৌভাগ্য হয়নি বলে বলতে পারিনা সেখানকার কি অবস্থা। তবে দূর থেকে যতদূর বুঝি তাহলো জাপানের সার্বভৌম অস্তিত্ব ও গৌরব যা ছিলো তা সব ধুলোয় মিশে গিয়েছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেই। সেই বোমাবিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে যে জাপান গড়ে উঠেছে সেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। ভুমিকম্পপ্রবন জাপানে highrise বিল্ডিং ছিলোনা যেখানে আগে সেখানে বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে অনেক highrise বিল্ডিং দেখা যায়। এখানকার শহরবাসীরা আমেরিকান লাইফ স্টাইলে চলে। মূলত শহরের বাইরে কিছু জাপানি আজও কিছুটা হলেও স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। জাপানীদের অতি বিনয়ে আমি মুগ্ধ হতে পারিনি, প্রশ্ন এসেছে মনে এরা কি যুদ্ধের শোচনীয় পরাজয়ে মেরুদন্ড খুইয়েছে বলেই ওমন? নাকি ভয়াবহ অতীত অভিজ্ঞতায় তাড়িত হয়ে অতি বিনয়ের মাধ্যমে টিকে থাকতে চায়! জাপানি টিভি সিরিজ বা ফিল্মে বেশিরাভাগ সময়েই চলে আসে এটম বোমের ভয়াবহতা- নানা নামে, নানা ধরণে। সেইসব দেখে মনে হয় এটম বোমের ট্রমা আজও জাপানীদের তাড়া করে ফেরে; যেজন্য নানাভাবে তারা সেই ভয়াবহতার কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চায়। জাপান বা জার্মান তাদের সার্বভৌম অস্তিত্ব হারিয়ে আমেরিকার অধীনে চলে গিয়েছিলো সেটা পরিস্কার- এজন্যই হয়তো জাপান ও জার্মানির মধ্যে বন্ধুত্বটা বেশ জোড়লো। ওদিকে আবার আমেরিকা ও রাশিয়া মিলে অখণ্ড কোরিয়াকে ভেঙ্গে- সাউথ কোরিয়ার দখল নেয় আমেরিকা, আর রাশিয়া দখল নেয় নর্থ কোরিয়ার। অন্যদিকে ভারত থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া পাকিস্তান আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের অনুগ্রাহী হতে গিয়ে অতি চালাকির কারনে একেবারে বেশ্যায় পরিণত হয়েছে; এখন এদেরকে খুশি করেই পাকিস্তানের চলতে হয়! সাউথ কোরিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমরা মুগ্ধ হলেও আসলে এই দেশের জীবনধারা ও সংস্কৃতি এতোটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে যে এখানকার সংবেদনশীল(sensisitve) মানুষজন দেশ থেকে পালিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে যেনো। যারা সে দেশে টিকে আছে তাদেরকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ক্রমাগত প্রমাণ দিতে হয়, যা কিনা তাদেরকে মানবিক বোধের বাইরে ঠেলে দিয়ে যন্ত্রমানবে পরিণত করেছে। পাশবিক তাড়নায় তাড়িত পশুদের যেমন সর্বক্ষন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়; তেমনভাবেই সাউথ কোরিয়ার মানুষদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাবে এক অসুরীয় প্রতিযোগিতাপ্রবণতা তা, যেকোন ক্ষেত্রেই হোক না কেনো। কি এক বিষম তাড়নায় তারা যেনো জিততে চায়, এর বিপরীত মানেই হলো গিয়ে তাদের কাছে মৃত্যু! পাকিস্তানের কথা আর তেমনভাবে বলার প্রয়োজন নেই! তা আমরা কম বেশী সবাই জানি!
মজার ব্যাপার হলো অনেক আগে আমি আমার ব্লগেই কোথাও লিখেছিলাম জার্মান আসলে আমেরিকার (bitch) পোষা কুকুর। সেটা ইউক্রেনের সাথে রাশিয়ার যুদ্ধে জড়ানোর সময়েই স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। দেখলাম আমেরিকা যা বলছে জার্মানও সেই সুরে সুর মেলাচ্ছে। তখনও বুঝিনি জার্মান আমেরিকার অধীনে যে অর্থনৈতিক সফলতা পেয়েছে তা অনেক জাতি/দেশের কাছেই অতি কামনীয়। প্রশ্ন এসেছিলো মনে- ইউক্রেন যেখানে ভৌগলিক, রাজনৈতিক, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে রাশিয়ার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে সেখানে তারা কি জন্য আমেরিকার সাথে হাত মিলিয়েছে?! উত্তর মিলেছে এরও অনেক পরে; যখন আমেরিকার সাথে ইরানের যুদ্ধ বাজলো। ইরানের অনেক জনগণ ইরান সরকারের(খামেনির)যারা বিরোধিতা ও সমালোচনামুখর তারাও আমেরিকার সাথেই হাত মেলাতে চায়, আর এর পেছনের কারন একটাই তাহলো অর্থনৈতিকভাবে সফল হওয়ার বাসনা। ইউক্রেন কিংবা ইরানের সাধারণ মানুষদের অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ দেখতে চায়; তাই ইউক্রেন যেমন আমেরিকার সাথে হাত মিলিয়েছিলো, ইরানের অনেকেই তেমনিভাবে আমেরিকার সাথে হাত মিলাতে চায়। কিন্তু সাধারণ মানুষ রাজনীতি বুঝেনা বলেই মনে করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানেই তাদের ভাগ্যের সার্বিক উন্নয়ন। জার্মানি, জাপানি, সাউথ কোরিয়া ও পাকিস্তান প্রভৃতি দেশের দিকে তাকালে আমাদের সে ভ্রম ভঙ্গ হতে সময় লাগবে না। শেষমেশ মজার ব্যাপার হলো যেকোন ক্ষমতাসীন দেশ বা দল স্বার্থের খাতিরে যেমন হাত মেলায়, তেমনি স্বার্থে আঘাত লাগলে চরম শত্রুতে পরিণত হয়। রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্ক আমাদের সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়! এদিকে আবার- যে বিএনপি জামায়াতের সাথে হাত মিলিয়েছে ক্ষমতার খাতিরে, সে বিএনপিই যে জামায়াতকে লাথি দিবেনা ভবিষ্যতে তা কে জানে?! বেঁচে থাকলে সেই দিন দেখার সৌভাগ্যও হতে পারে!