Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

ধরেন আপনি নিজের অনেক যত্ন করেন; সাজগোজে টিপটপ , পোশাক-আশাকে পরিপাটি, ত্বকের যত্নের জন্য স্পেশাল ক্রিম ব্যবহার করেন, সাবান-শ্যাম্পু সবই দামি ব্রান্ডের ব্যবহার করেন, সুষম খাদ্যাভ্যাসে আপনি গুরুত্ব দেন, নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ব্যায়াম করেন নিয়মিত। আপনার এইসব নিত্য-নৈমিত্তিক চর্চা বুঝিয়ে দেয় আপনি নিজেকে ভালোবাসেন। নিজের স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য নিয়ে আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের ছিলো সীমাহীন উদাসীনতা। অথচ এই প্রজন্মের আমরা এইসবে কোনরকম কার্পন্য করিনা। নিজের যত্ন নেয়া কিংবা নিজের জন্য সময় নেয়া অবশ্যই ভালো একটি দিক এই প্রজন্মের; সমস্যাটা শুরু হয় তখন, যখন এই নিয়ে অবসেশন ও প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বাজারের দামী ব্রান্ডের কস্মেটিক্স, সাবান-শ্যাম্পু যখন afford করতে পারেন না তখন নিশ্চয়ই অনেক low feel করেন, নিজের ভাগ্যের দোষারোপ করেন?! যারা ঐসব afford করতে পারেন তাদেরকে মনে হয় সৌভাগ্যবান। কিন্তু দুঃখের বিষয় এইসব afford করতে পারেলেই কেউ যেমন বাজারের সেরা সুন্দরী হয়ে উঠতে পারেনা, আবার একইভাবে এইসবের জন্য কারো জীবন-মন সুন্দর হয়ে যায় না। ধরলেন আপনি এই সবকিছু afford করতে পারেন, কিন্তু মানুষের সাথে চলতে ফিরতে আপনি সব সময় তুলনায় চলে যান মনে মনে। আপনার থেকে কাউকে ব্রাইট লাগলে, কারও রংটা(কালো/শ্যামা/ফর্সা)/চেহারাটা চোখে লাগার মতো হলে, কারও ব্যাক্তিত্ব আকর্ষনীয় হলে আপনি মনে মনে অসুখী কিংবা insecured হয়ে পড়েন। যখনই আপনার মনে তুলনা চলে আসে আর তুলনা থেকে অশান্তি শুরু হয় মনে, তখনই বুঝে যাবেন আপনি আপনার মন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন। যখনই আপনি মন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন ঠিক তখনই আপনার নিজস্ব সত্তাকে আপনি নিজেই ছোট করে ফেলছেন। এই ব্যাপারটা আপনার অজান্তেই হয়ে চলছে, আপনি হয়তো বুঝতেও পারছেন না মন আপনার নিয়ন্ত্রণে আছে! কিন্তু যেই মুহূর্তে আপনি বুঝতে পারবেন মন আপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে সেই মুহূর্তে একটা সুন্দর মুহূর্ত সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। আপনি ভুলে জান আপনার চেহারা, সাজপোশাক, উচ্চতা বা সামাজিক অবস্থান। আপনি এইসবের উর্ধ্বে উঠে যখন মুহূর্তটা উপভোগ করতে শুরু করবেন- নিজের ভালো-মন্দ, কমতিগুলো ভুলে গিয়ে কিংবা বাড়তি পাওনাগুলো আঁকড়ে না ধরে ঠিক সেই সময় আপনি অনাবিল আনন্দে ভেসে যেতে পারবেন! আর যারা আপনাকে পছন্দ করে সত্যিকার অর্থে তারা এইসবের কিছুই হিসাব করেনা। তারা নিতান্তই আপনার সত্তা(essence) বা আভা(aura)পছন্দ করে বলেই আপনাকে ভালোবাসে।
স্বামী-স্ত্রীর উচ্চতা নিয়ে একটা আলোচনা করা যাক। এখানে আমরা তিন রকমের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবো। ধরা যাক, প্রেমিকা/স্ত্রী প্রেমিক/স্বামীর উচ্চতায় সমান কিংবা বেশী। প্রথমক্ষেত্রে স্ত্রী/প্রেমিকা নিজে থেকেই আর হাই-হিল পরেনা। দ্বিতিয়ক্ষেত্রে স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা নির্বিঘ্নে হাই-হিল পরে পাশাপাশি ঘুরে বেড়ায়। তৃতীয়ক্ষেত্রে উচ্চতায় লম্বা যাতে না দেখা যায় সেজন্য স্ত্রী/প্রেমিকা স্লিপার জাতীয় স্যান্ডেল পরে কিংবা একটু কুজো হয়ে চলাফেরা করে। দেখা যায় অনেকে নিজ থেকে চায় না স্বামী কিংবা বয়ফ্রেন্ডকে উচ্চতায় ছাড়িয়ে যেতে, অনেকে আছে এমন এইসব উচ্চতা নিয়ে তারা বড় বেশী মাথা ঘামায় না, আরেকদল আছে যারা বাধ্য হয় প্রেমিক/স্বামীর মন জুগিয়ে চলতে কারন প্রেমিক/স্বামী নামক ব্যাক্তিটির self-esteem low বলে সে নিজেকে উঁচু আসনে দেখতে চায় প্রেমিকা কিংবা বউয়ের চোখে এমনকি হয়তো সমাজের চোখেও। প্রথম ক্ষেত্রে মহিলা নিজেকেই shrink করে ফেলছে যাতে করে সে কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হয়; কারন একটাই তার মনে কোনভাবে পূর্বধারণা জন্মেছে এরকম যে, সে যদি প্রেমিক বা স্বামীর থেকে উচ্চতায় ছাড়িয়ে যায় তাহলে সেটা ভালো কিছু না, নারীদের নিচু আসনে থাকাই শ্রেয়। দ্বিতীয়ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক আগে থেকেই বোঝাপড়া এমন যে- উচ্চতা ম্যাটার করেনা, প্রেমিকা/স্ত্রী উচ্চতায় লম্বা হলে প্রেমিক/স্বামীর মানহানির কোন কারন নেই; বরং গর্বের বিষয় হতে পারে। প্রেমিকা/স্বামীর অধিক উচ্চতা নিয়ে প্রেমিকা/স্ত্রী যদি গর্ব করতে পারে/সন্তুষ্ট থাকতে পারে, তাহলে এর বিপরীতটাও অসম্ভব নয়; তারা যেনো সেটাই চোখে আঙ্গুল দিয়ে আমাদের দেখিয়ে দেয়। তৃতীয়ক্ষেত্রে দেখা যায় স্বামী নামক ব্যাক্তিটি নিজেকে প্রভুর আসনে দেখতে চান, কারন নিজের উচ্চতা বা আরও অনেক কিছু নিয়ে সে হীনমন্যতায় ভুগে থাকে; আর এই হীনমন্যতা দূর করতে সে প্রেমিকা কিংবা বউয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ ফলাতে চায়। নিয়ন্ত্রণ ফলানোর উত্তম উপায় হলো প্রেমিকা/বউকে shrink করে ফেলা!
যেখানে নিয়ন্ত্রণ চলে আসে, অর্থাৎ সঙ্কুচিত(shrink) হতে হয়, কিংবা নিষ্প্রভ(dim) হতে হয় সেখানে আর যাই হোক ভালোবাসা থাকতে পারেনা। Love should make us shine & rise; not to shrink us or dim our light. একটা খুব ভুল ধারণা প্রচলিত আছে তাহলো মেয়েদেরকে সবখানে adjust করে চলতে হবে, adjust করার মানে এই না যেখানে সে খাপ খাওয়াতে (fit) পারছে না সেখানে কোনওরকমে ঠেসেঠুসে খাপ খাইতেই হবে। পানির সাথেও মেয়েদের তুলনা করা হয়, কিন্তু এইখানেও রয়েছে অতি সূক্ষ্ম একটা পার্থক্য। নারী প্রকৃতি হচ্ছে পানির স্রোতধারার মতোই সদা বহমান-পরিবর্তনশীল, সে নিজে যেমন সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয় তেমনি চারপাশের সবকিছুতেই পরিবর্তন আনার সক্ষমতা রাখে; মানে আরকি বিশাল অর্থে সৃষ্টি বা ধ্বংসের ক্ষমতা রাখে। বহমান নদী যে পথে যায় সে পথের দুইধার করে তোলে সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা; আবার একই সাথে অনেক জায়গায় ভাঙ্গনও ঘটায় (যেজন্য আসলে নারীশক্তিকে মানুষ ভয় পায়, নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়)। বদ্ধ ডোবার পানি স্রোত হারিয়ে সেই ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে বলেই তাতে শ্যাওলা-দূর্গন্ধ জমতে দেখা যায়। পানির সাথেই যদি নারীর তুলনা চলে আসে তাহলে বলতে হয় পানি যে পাত্রেই রাখা হোক না কেনো আয়তনে কোনদিনও কমেনা অর্থাৎ shrink করেনা, পাত্রের ধারণক্ষমতা কম থাকলে উপচে পড়ে! তাই যেসব নারী পানির মতোই পাত্রের আকার ধারনে প্রাণপাত করছেন, তাদের বাড়তিটুকু ঠিকই উপচে পড়ে; যা মানুষের নজর এড়ায় না!
অনেক ভাবতে পারে কি কথা দিয়ে শুরু করলো আবার কি কথা টেনে আনলো! ওই তো নদীতে আপনি ঘাট বাধাই করতে পারেন, নদীর চারপাশ সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে পারেন, নদীর সৌন্দর্য বর্ধনে অনেক কর্মসূচি নিতে পারেন, ভাঙ্গন ঠেকাতে নানা রকম ব্যবস্থাও নিতে পারেন। এতকিছুর মূলে কিন্তু সেই বয়ে চলা স্রোতধারা। আপনার ভেতরের প্রবাহ যদি থেমে যায় তাতে শ্যাওলা জমবেই, আর সেই জমে থাকা শ্যাওলা থেকে দুর্গন্ধ চারপাশে ছড়াবেই। তাই ভাববার কোন কারন নেই বাইরে থেকে ফিটফাট থাকতে পারলেই ল্যাঠা সব চুকে গেলো!