ছোট মুখে বড় কথা!

সাম্রাজ্যবাদের সময় রাজায় রাজায় যুদ্ধ হতো, যে যুদ্ধে জয়ী হতো সে পরাজিত রাজ্য শাসন করতো। এই প্রক্রিয়া সাধারণের জন্য সব সময় সুখকর ছিলো তাও না। যদি নতুন রাজা ভালো শাসক হতো, মানবিক নীতি বজায় রেখে চলতো তাহলে প্রজারা সুখেই থাকতো, অন্যদিকে রাজা নির্মম হলে প্রজাদের কপালে অবর্নণীয় দূর্ভোগ নেমে আসতো। সাম্রাজ্যবাদের সময় একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিলো আর তাহলো রাজনীতি, কূটনীতি ও রণকৌশলে যোগ্য যে দল সেই বিজয়ী মুকুটের অধিকারী হতো। এতে করে অন্তত অযোগ্য লোকের শাসনাধীন থাকার উপায় ছিলো না বেশীদিন। বর্তামান সময়ে অযোগ্য লোকেরাও অন্যের বুদ্ধি ধার করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে থাকে, যাদের রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি ও কূটনীতিক জ্ঞান-বুদ্ধি তো নেইই, এর সাথে নেই সাধারণদের ন্যায় ভয়হীন উদ্বেগহীন স্বাভাবিক জীবন ধারণের সক্ষমতা। মোট কথা এরা একাধারে ভয় ও লোভে তাড়িত বললে ভুল হবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমরা জানি জার্মানির এক অংশের ভাগ পায় রাশিয়া। রাশিয়ার শাসনাধীনে জার্মানির সেই অংশের কেমন অবস্থা ছিলো? রাশিয়ার অধীনে জার্মানির পূর্ব অংশ পড়েছিলো রাশিয়ার ভাগে, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে জার্মানির এই অংশ এখনও পিছিয়ে আছে। যতটুকু জানতে পেরেছি পূর্ব জার্মানির লোকজন নানাভাবে সেই বন্দী কারাগার থেকে পালাতে চেষ্টা করতো, সাধারণের জীবনমান ছিলো দূর্বিষহ কষ্টের। শোনা গেছে সে সময় মানুষ খাবার পানীয়ের অভাবে মদ পান করতো(কারন মোদের সাপ্লাই ছিলো পানির বদলে), কলা-আম বা ভালো কোন খাবার তো চোখেই দেখতো না মানুষ, কোনরকমে শুকরের সসেজ(Wurst) আর পাউরুটি(BrOt) খেয়ে জীবন ধারণ করতো। আসলে রাশিয়ার অধীনে পূর্ব জার্মানির কেমন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো ছিলো তা জানতে চাইলে বেশী কিছু জানতে হবে না, একবার শুধু নর্থ কোরিয়ার দিকে তাকালেই হবে! যাই হোক পুর্ব জার্মানি পরিচালনায় ব্যার্থ হয়ে রাশিয়া পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যায় তখন, যখন পূর্ব ও পশ্চিম জার্মান এক হয়ে গিয়েছিলো! অনেকে আমেরিকার বিপরীতে রাশিয়ার পক্ষ নিয়ে নানা যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করে, কিন্তু তখন আমার হাসি পায়। কারন একজন খারাপকে খারাপ প্রমাণ করার জন্য আরেক খারাপের সমর্থন করে ফেলে মানুষ। আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে হাসিনার আমলে বিরোধীদলের প্রতি যে নির্মমতা, অসহনশীলতা, অনমনীয়তা ছিলো তা মূলত ভয় থেকে। অবশ্য ভয়ের কারনও অমূলক নয়, যেহেতু হাসিনা ও তার দলের নেতাদের বহুবার প্রাণনাশের চেষ্টার মতো ঘটনার আলামত আছে। কিন্তু রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ রাখতে গিয়ে বিরোধী দল মতের কর্মী ও নেতাদের উপর যে অত্যাচার জুলুম চালিয়েছে হাসিনার সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে, সেই নিপীড়ন ও অত্যাচার ক্ষমতার হাত বদল কালে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীর উপর চলে আসে! হাসিনার সরকার এই দায় এড়ানোর জন্য বিরোধী দলকে দোষারোপ করলেও করতে পারে; কিন্তু স্বয়ং মুজিব যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অপরাধীদের সাজা ও ক্ষেত্রবিশেষে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলো সেই ইস্যুকে সামনে এনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী নামে দুই দলে ভাগ করে ফেলেছে হাসিনার সরকার। আমি মানি যে কোন দলই আসলে পুরোপুরি যোগ্য নয় দেশ পরিচালনার জন্য, কারন একদলের নেতা ট্রমাগ্রস্ত (উদ্বেগ ও শংকায় তাড়িত) ও অন্যদলের নেতা চরম অযোগ্য (ভয় ও লোভে তাড়িত)। হাসিনা এক সময় গৃহিণী ছিলো; সংসার চালানোর মতো ক্ষমতা তার আছে, সে রান্না বান্না, সেলাইসহ আরও অনেককিছুই পারে, মিডিয়ার কল্যাণে জানতে পারি ঈদের সময় প্রতিবেশীদের অনেকের জামাই সে বানিয়ে দিয়েছে। একজন ব্যাক্তি রাজনৈতিক ক্ষমতার বাইরে জীবন ধারণের ক্ষমতা রাখে কিনা তার উপর নির্ভর করে তার যোগ্যতা মাপা যায়। আমি জানিনা রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিকভাবে সাপোর্ট না পেলে তারেক জিয়া তার সাধারণের মতো জীবন নির্বাহ করার যোগ্যতা রাখে কিনা! দুঃখজনকভাবে খালেদা জিয়ার মেইকআপ করা চেহারা আর তারেক জিয়ার ফিটফাট চলাফেরা আমাকে ইমপ্রেস করেনি কখনোই। আশা রাখি হাসিনা তার ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক ট্রমা কাটিয়েই পুনরায় ক্ষমতায় আসীন হবে, আর সেসময় বিরোধীদলের প্রতি নিপীড়নমূলক আচরণ বাদ দিয়ে উদারতা ও সহনশীলতার নীতি পরিগ্রহ করবে।

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 139