একা নাকি দোকা?

এক তরুণের সাথে কথা হচ্ছিলো, সে বাংলাদেশ থেকে জার্মানিতে এসেছে পড়াশোনা করতে। কৌতূহল নিয়ে তাকে অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করলাম, সেও সুন্দর করে সব বুঝিয়ে দিলো। জিজ্ঞেস করলাম কেমন লাগছে এখানে পড়াশোনা করতে? সে জানালো প্রথম সেমিস্টারে বেশ ধকল গিয়েছে, এখন বেশ সামলে নিয়েছে। এরপর জিজ্ঞেস করলাম বন্ধু-বান্ধব জুটেছে? সে জানালো তেমন কেউ ওভাবে জোটেনি এখনও, ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি কিছু স্টুডেন্ট আছে; ওরা ওদের মতো থাকে। শুনে বেশ দুঃখ হলো বাংলাদেশের এক ছাত্রকে ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানিরা কেউই তাদের সার্কেলে গণ্য করেনা, এই ব্যাপারটা অন্তত আমরা ফেইস করিনি। উপমাহাদেশে রাজনৈতিক যে চর্চা চলে তাতে করে বর্তমানের বাংলাদেশের মানুষ, ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানি কোন দেশের মানুষের সাথেই একাত্নতা অনুভব করতে পারেনা। ওকে জানালাম যে ব্যাপারটা দুঃখজনক, উত্তরে সে জানালো কোন অসুবিধা নেই; আমার একা থাকতেই ভালো লাগে। কিন্তু মনে মনে ভাবনা এলো, ব্যাপারটা এতো হালকাও নয়। ছাত্রজীবনের মূলেই তো বন্ধুত্ব! ডোবার নদীতে মিশে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে। ডোবাগুলো যদি তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব নিয়েই আলাদা থাকবে তাহলে নদীর ভাসানোর ক্ষমতা হারিয়ে গিয়েছে নাহয় ডোবাগুলো বাঁধাইকরা পাকাপোক্ত ডোবার রূপ নিয়েছে, ভেসে যেতে পারছেনা। তার মানে কি দাড়ালো? শিক্ষাব্যাবস্থার ব্যার্থতা এইটা, যেখানে মানুষ egocentric আচরণ থেকে বের হতে পারছেনা। এই সমস্যাটা অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময়েও দেখেছি, অনেকে সেই কুয়োর ব্যাঙই রয়ে গিয়েছে সেই বিশাল প্রাঙ্গণে এসেও। তখন ধরে নিয়েছিলাম এইটা হয়তো ব্যাক্তিগত বা পারিবারিক সীমাবদ্ধতা। অনেক জুনিয়র এসে অনেক সময় এসে জানিয়েছিলো যে আমাদের যে ফ্রেন্ড সার্কেল তা দেখে ওদের খুব ভালো লাগে, কিন্তু দুঃখের ব্যাপার ওদের মধ্যে এরকম কোন সার্কেলই গড়ে ওঠেনি; যে যে যার যার মতো করে থাকে, বড়জোর বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড জুটিয়ে চলে। এইসব ভাবনা যখন মাথায় ঘুরছে তখন একটা ব্যাপার মনে হলো যে, মানুষ এখন অনেক একা হয়ে গিয়েছে বা একা থাকতেই পছন্দ করে! তো ওকে জিজ্ঞেস করলাম, ওর কি কোন গার্লফ্রেন্ড আছে? বা ও কি বিয়ে শাদি করবে ভবিষ্যতে? উত্তরে সে উদাহরণ দিয়ে জানালো বুফে খাওয়ার সাথে প্রতিদিন এক দুইটা আইটেম খাওয়ার তুলনা। মানে আর কি বিয়ে-শাদি, গার্লফেন্ড কিছুতেই আগ্রহ নেই তার। আমি জানালাম বিয়ে শাদি না করে থাকা যদি এতোই সহজ হতো, তাহলে আশেপাশে সিঙ্গেল মানুষই বেশী দেখা যেতো। একাকী থাকা কঠিন বলেই মানুষ বিয়ের ঝামেলায় যায়! একাকী জীবন কঠিন ব্রতের জীবন, সবার জন্য এই জীবন না! এই কথা বলে হেসে দিলাম! মনে মনে ভাবলাম যদি দেখার সৌভাগ্য হয় তাহলে হয়তো দেখতেও পারবো, ও শেষমেশ বিয়ে না করেই থাকতে পারে কিনা! একইসাথে সাথে এও ভাবলাম বিয়ে করেও অনেক মানুষ আছে যেমন অসুখী, সিঙ্গেল থেকেও কত মানুষ আছে যারা অসুখী! কোনটাতেই সমস্যা নেই যদি মানুষ সুখী হতে পারে! কিন্তু আসলেই কত পার্সেন্ট মানুষ সুখী আছে এই পৃথিবীতে? বেশীরভাগই তো সুখী থাকার ভাণ ধরে!

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 139