Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

না চাইলেও মানুষের সূক্ষ্ম আচরণগত বৈশিষ্ট্যগুলো আমার রাডারে এসে ধরা দিতো ছোটবেলা থেকেই। যেজন্য অনেক সময় অনেক মানুষের সাহচর্যে আবেগগতভাবে কেমন যেনো দিশেহারা (overwhelming) হয়ে পড়তাম। একাকী সময় কাটাতে বরং বেশ ভালো লাগতো, নিজের মনের মতো কত কিছুতে মগ্ন হয়ে থাকতাম! ছোটবেলা থেকেই একটা সমস্যা বোধে এসেছিলো তাহলো মানুষকে খুশি করতে গিয়ে অনেক সময় নিজেই চরম অসুখী হয়ে উঠতাম, জীবনের এই দীর্ঘযাত্রায় যতবারই মানুষকে খুশি করার দায় চাপিয়ে নিয়েছি নিজের ঘাড়ে ততবারই চরমভাবে অসুখী হয়েছি, ব্যার্থ হয়েছি। কিন্তু সবাইকে খুশি করতে না চাইলেও আমরা চাই নিজের কাছের মানুষজনকে খুশি করতে; বিশেষ করে মা-বাবা, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী ও বন্ধু-বান্ধবদের। সেজন্য সব সময়ই মনে হয়েছে আমি হয়তো স্বাভাবিক নই, নাহলে সবার মতো কেনো মানুষের মন জুগিয়ে চলতে পারিনা। সবাই কি সুন্দর মেনে নেয়, মানিয়ে চলে। যে জিনিসটা আমাকে বিঁধেছে সব সময় সেই জিনিসটাই যে আমার স্বকীয়তা সেটা তখনো বুঝিনি। অহংকার, খ্যাতি এবং বাইরের জগতের স্বীকৃতির লোভে যেনো তাড়িত না হই সেই প্রতিজ্ঞা দৃঢ়ভাবে ছিলো মনের গভীরে। যাকিছু করেছি নিজের ভেতরের সত্য, শান্তি, এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার খাতিরে সেগুলো সব সময় জীবনে সুন্দর অভিজ্ঞতা এনে দিয়েছে। যখনই ভয়ে, লোভে, দায়ে পড়ে, অন্যদের খুশি করার তাড়নায় করতে গিয়েছি তখনই নেমে এসেছে জীবনে বিপর্যয় ও অশান্তি। আমরা মানুষ তাই আমরা চাই অন্যকে খুশি করতে; কিন্তু সমস্যা হলো অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজেই যদি অসুখী হয়ে যাই তাহলে তার ফলাফল কখনোই ভালো হয়না। আবার চলে আসে রুমির বাণীঃ “When you do things from your soul, you feel a river moving in you, a joy.”
সত্যি কথা হলো যখন আমরা কোনকিছু আমাদের হৃদয় থেকে করি আমরা এক অপার্থিব আনন্দে ভেসে যাই, যার যখনই আমরা দায়ে পড়ে, সম্পর্ক রক্ষার খাতিরে, অন্যের অনুরোধ এড়াতে না পেরে কোনকিছু করি তখন আনন্দের জায়গায় আমাদের মনে বিষাদ নেমে আসে। এই দুরাবস্থার জন্য আমরা চারপাশের মানুষজন ও পরিস্থিতিকে দায়ী করে থাকি। যদিও আমাদের নিজেদের কাছেই রয়েছে আমাদের স্বম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণ তারপরও আমরা অন্যদের/অন্যকিছুকে দোষারোপ করে স্বস্তি পেতে চাই। আমাদের চারপাশে এটাই ঘটছে অবিরত। কেউ যখন সব দায়ভার অন্যের উপর চাপিয়ে রেহাই পেতে চাচ্ছে; সেই একই পলিসি অন্যরাও গ্রহণ করছে। সবাই সবাইকে দোষারোপ করে যাচ্ছে; দায়ভার নিচ্ছেনা কেউই। যেটা আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে আমরা অহরহ দেখতে পাই। বিএনপি আওয়ামীলীগকে দায়ী করছে; আওয়ামীলীগ বিএনপিকে দায়ী করছে। বিএনপি ভারত বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, আওয়ামীলীগ পাকিস্তান বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। কেউই দায় নিচ্ছেনা, দুদলই একতাবদ্ধ হওয়ার বদলে বিভক্তির বীজ বপন করছে। কেউ কেউ আবার ব্রিটিশ, আমেরিকা, পশ্চিমা অপশক্তির বিরুদ্ধে মানুষকে উস্কে দিচ্ছে; যদিও নিজেদের অন্তরের সত্যে পরিচালিত হলে বাইরের সব অপশক্তিই অকার্যকর হয়ে পড়ে।
একটা প্রশ্ন রেখে যাই তাহলো- আপনার জীবনের পরিচালক শক্তি কি?
সম্মান, অর্থ, ক্ষমতা, জয়ী হওয়া ও অন্যের চোখে ভালো হওয়ার বাসনা?
নাকি
শান্তি, আনন্দ, ভালোবাসা, সততা রক্ষা ও একতাবদ্ধ হওয়ার বাসনা?
ধরেন এমন এক পরিস্থিতিতে আছেন যেখানে আপনাকে কেউই পর্যবেক্ষণ করছে না, কেউ বাহবা দিচ্ছেনা, কেউই কোন মন্তব্য পর্যন্ত করছে না সে অবস্থায় আপনি কি করবেন? এই অবস্থায় মানুষ যা করে তাই সে মানুষের প্রকৃত রূপ। আপনি যদি অন্যের হাততালি পাওয়ার জন্য কিছু করেন তাহলে সেটা লোক দেখানোর জন্য। সবার অগোচরে কি আপনার খারাপ কিছু করার বাসনা জাগে? যদি অন্যের ভৎসনার ভয়ে আপনি ধর্ম, সমাজ ও পরিবার অস্বীকৃত কিছু এড়িয়ে যান তাতেই আপনি ভালো মানুষ হয়ে উঠেন না।
নিজের ভেতরের গভীর সত্যকে মানুষ এড়িয়ে যেতে চাইলেও অবচেতনে আমরা সেই সত্যেই পরিচালিত হই। এজন্যই মুনি-ঋষি ও সাধু-দরবেশরা আমাদের ভেতরের সত্যের অন্বেষণের কথা বলে গেছেন। ভেতরের সত্যের মুখোমুখি হতে আমরা ভয় পাই, সেজন্য আমরা বাইরেই ব্যস্ত রাখি নিজেদেরকে।