Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

ঝড়ের সময় অনেক গাছ উপড়ে পড়ে, অনেক গাছ ভেঙ্গে পড়ে, আবার অনেক গাছ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। মানুষের জীবনেও ঝড় ঝাপটা আসে, সেই ঝড় ঝাপটা সামলে মানুষও বাঁচতে শেখে, যারা সামলাতে শেখেনা তারা ঝরে পরে। এখন আমাদের এমন পরিবেশে বড় করে তোলা হয় যেখানে আমাদের কোন ঝড়ের মুখে পরতে হয়না। এমন একটা আদর্শ পরিবেশ তৈরি করা হয় আমাদের চারপাশে যেখানে আমাদের মনে হয় এরকমটাই বাস্তবতা। এজন্য যে ছেলে-মেয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি কিংবা প্রশ্রয়ে, বেড়ে ওঠে তারা এক রকম ইলুশনের মধ্যে থাকে। বাস্তবতার কঠোরতা – নিঠুরতা তারা মেনে নিতে না পেরে, নিজেদেরকে খাপ খাওয়াতে না পেরে তারা নিজেদের সংস্কার, পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় পরিচয় (Identity)আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। যেসব বিষয় বা পরিস্থিতি তাদের চিন্তার বাইরের বিষয়ে কথা তোলে, তাদের জানার জগত নিয়ে প্রশ্ন করে সেসব এড়িয়ে চলে। অজানা ব্যাপারে জানার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, ভয়ে তারা তাদের চারপাশে আরও মজবুত দেয়াল তৈরি করে ফেলে, এই ভেবে বাইরের পঙ্কিল জগতের সাথে যত দূরে থাকতে পারবে ততই তারা তাদের বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে পারবে। এজন্য দেখা যায় একই রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা লোকজনের মধ্যে মতপার্থক্য। একই ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষের মধ্যে আচারে পার্থক্য, একই প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ে গর্বিত লোকজনের মধ্যে উঁচু-নিচু বিভাজন, একই সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা লোকেদের মধ্যে কলহ-দ্বন্দ্ব, কিংবা একই পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা সদস্যদের মধ্যে নিত্য বাক-বিতন্ডা কিংবা ঝগড়া। আমাদের সামনে একটা আদর্শ নারী, আদর্শ পুরুষ, আদর্শ সন্তান, আদর্শ ছাত্র, আদর্শ সম্পর্ক, আদর্শ ওজন, আদর্শ প্রতিষ্ঠান, আদর্শ পরিবার, আদর্শ ধর্ম, আদর্শ ব্যাক্তিত্ব, আদর্শ ওজন, আদর্শ উচ্চতা, আদর্শ চেহারা ইত্যাদি তুলে ধরা হয়। এই আদর্শ যখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মাপকাঠি হয়ে যায় তখন আমরা হয় নিজেদেরকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও ব্যার্থ মনে করতে থাকি কিংবা নিজেদেরকে সফল ও বহুকাংক্ষিত ভাবতে শুরু করি। এখন এমনটা অনেক সময় হয় দেখতে সুন্দর যারা তারা প্রেমের বাজারে সহজেই স্কোর করতে পারে হোক ছেলে কিংবা মেয়ে, সেক্ষেত্রে তাদের জীবনে সফল হওয়ার তাড়না কম থাকে, যারা পারেনা তাদের স্বপ্ন থাকে রূপে না হোক গুনে কিংবা যোগ্যতায় তারা প্রেম আদায় করে নিবে। সব দিক থেকে আদর্শের মাপকাঠিতে যখন পৌঁছাতে পারেনা, তখন শুরু হয়ে প্রতিযোগিতা, এতোগুলা আদর্শের parameter fullfill করা সহজ কথা তো নয়। কারো রূপ আছে তো গুন নেই, কারো রূপ গুন দুইটাই আছে তো চরিত্র নেই, কারো রূপ গুন চরিত্র সবই মোটামুটি আছে তো যোগ্যতা নেই, আবার কারো বা এগুলোর সবই আছে কিন্তু সম্পদ নেই এইভাবে চলতে চলতে এমন এক পর্যায়ে আদর্শের মাপকাঠি পৌঁছে যেতে পারে যেখানে মানুষের মনে হবে ইহজগতে থাকার আর দরকার নেই তারচেয়ে বরং স্বর্গে চলে যাওয়া ঢের ভালো। আদর্শের মাপকাঠিতে বিচার করতে গেলে মনে হবে এই অনাদর্শ জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার কোন মানে হয়না। মানুষ যখন নিজেদের মধ্যে কোন বিষয়ে কমতি মেনে নিতে পারেনা তখন তারা অন্যদের মধ্যে কি বিষয়ে কমতি আছে সেটা খুঁজতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। যখনই তারা নিজের ভেতরের কমতিগুলো মেনে নেয় তখনই তারা অন্যদের কমতিগুলো ক্ষমতাসুন্দর উদার দৃষ্টিতে দেখে। এজন্য দেখা যায় একই ধর্মীয় বিশ্বাসী লোকজনের মধ্যেও সহীহ আকীদা ও বিদআত নিয়ে মতভেদ, একজন আরেকজনকে নাকচ করে দেওয়ার মানসিকতা। এই অপূর্ণ ও অপূর্ণ (imperfect) জগতে আদর্শ থেকে বিচ্যুত হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা বিচ্যুতিকে ভয় পাই, বিচ্যুতি মেনে নিতে পারিনা। উদাহরণস্বরূপ ছেলে একটু আগেভাগে হওয়াতে একটু কম ওজনের ছিলো, সেই সময় আদর্শ ওজন টার্গেট করে ছেলেকে মোটাতাজাকরন প্রকল্প হাতে নিয়ে নিজেই ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়েছি। একইসাথে ছেলের উপর খাওয়া নিয়ে জোর-জবরদস্তি চালিয়েছি শুধুমাত্র মা হিসেবে সন্তান পালনে সফলতার স্বীকৃতি লাভের আশায় (পরিবার-সমাজ থেকে)। এতে লাভের লাভ কিছুই হয়নি, উল্টো ক্ষতি হয়েছে যেটা কিনা ঠিক করে যাচ্ছি আজ পর্যন্ত। এখন যখন ছেলের মোটা হওয়ার বিষয়ে ভাবনারা তাড়া করেনা তখন সবকিছু সহজ-স্বাভাবিক ও সুন্দর হয়ে গেছে। ছেলের উপর খাওয়া নিয়ে জোর-জবরদস্তি করার সময় আমার শ্বশুর আব্বা মানা করতেন, বলতেন এতে বাচ্চার মানসিক গঠনে বাজে প্রভাব ফেলে। ছেলেকে নিয়ে একটানা কাটানো দিনগুলোতে হাঁপিয়ে উঠলে (নতুন মায়েদের) যখন কিছু সময় বিরতি পাওয়ার চেষ্টা করতাম বাইরে গিয়ে, অনেকক্ষণ পরে ফিরলে পরে শ্বশুর আব্বা বলতেন এখনই তো ছেলেকে কোলে নেয়ার, বুকে জড়িয়ে ধরে রাখার সময়; বড় হয়ে গেলে এগুলো মিস করবে। উপদেশে কিছুটা বিরক্ত হলেও মনে মনে উপলদ্ধি করতাম, বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতাম। একদিকে ভাবতাম বিড়াল পর্যন্ত এক সময় অধৈর্য্য হয়ে লাথি দিয়ে ছুটিয়ে কিছুক্ষণের জন্য ছানা-পোনাদের রেখে চলে যায়, আমারও তো একটু বিরতি দরকার নাকি?! আবার বুঝতাম সত্যি তো ছেলে একটু বড় হলেই আর কাছে আসতে চাইবেনা। খাবার নিয়ে জোর-জবরদস্তি করার সময় মনে হতো ছেলে যদি আমার বল প্রয়োগ মেনেও নেয়, ভবিষ্যতে অন্যরা ওর উপর বল প্রয়োগ করলে ও তা সহজেই মেনে নিবে। সেটা যে কোন ব্যাপারে হতে পারে, কিছু ভালো না লাগলেও কেউ চাপিয়ে দিলে না করতে পারবেনা। আমাদের জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে আবার অনেক অভিজ্ঞতা অনাকাঙ্ক্ষিত। This world contains both light and shadow. Light can’t be seen without shadow. Though sometimes a person may have an absence of light or even an illusion of it.