to be whole again

আমার পাগলা ঘোড়া রে, কই থেকে কই লইয়া যাস…

প্রচলিত একটা বচন আছেঃ “We suffer more in imagination than in reality.” মানে হলো আমরা বাস্তবে যতটা না ভুগি তার চেয়ে বেশী ভুগি আমাদের মনোজগতে। এজন্য কল্পনাশক্তিকে জ্ঞানের থেকেও বেশী গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়ে থাকে (“Imagination is more important than knowledge.”) সমস্যা শুরু হয় তখন যখন আমরা সবাই জ্ঞান অর্জনের পিছনে ছুটি। আশেপাশে খেয়াল করলে দেখা যায় সবাই ডিগ্রির পেছনে ছুটছে। কেউ একজন ডিগ্রিধারী হলে সমাজে তার আলাদা কদর। এরপর সামষ্টিকভাবে সবাই স্বপ্ন দেখে তারাও ডিগ্রিধারী হবে, তারা যদি ডিগ্রী অর্জন করতে না পারে তাহলে তাদের ছেলে মেয়েরা ডিগ্রী অর্জন করে তাদের ব্যার্থতাকে সফলতায় রূপদান করবে। এরপর থেকে শুরু হলো টাকা দিয়ে হলেও ডিগ্রী কেনার প্রতিযোগিতা। এ ভীষণ প্রতিযোগিতায় যেই পিছিয়ে যাবে তার জীবন বৃথা, এ প্রতিযোগিতায় পরে কত প্রাণ অকালে ঝরে পড়েছে, কত প্রাণশক্তির অপচয় হয়েছে সে হিসেব নাহয় যারা গণনায় পারদর্শী তারাই করুক। কল্পণাশক্তির উপর ভিত্তি করে গল্প তৈরি হয়, আর সেই গল্প বাস্তবে রূপ নেয়। যে গল্প আমরা আমাদের সাথে করি, আমাদের নিয়ে করি সেটাই আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ নেয়। বেশীরভাগ গল্প আমরা আমাদের অবচেতনে নিজেরাই তৈরি করি। যেমন কাউকে যদি আমরা আবেগতাড়িত হয়েও কোন কিছু নিয়ে কাউকে বিচার করি সেটা আমাদের জীবনেই বাস্তব হয়ে ধরা দিতে পারে। এজন্য দেখা যায় আমরা যাকে ঘৃণা করতে শুরু করি, ধীরে ধীরে তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের মধ্যে চলে এসেছে। অবচেতনে আমরা কাকে নিয়ে চিন্তা করি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, অবচেতনে আমি আর তুমি আলাদা নয়, আবেগের তাড়না(imotional charge)আর গল্পটাই মূল বিষয়। যেকোন আবেগ শক্তি(energy)বহন করে সেটা পজিটিভ বা নেগেটিভই হোক না কেনো। নিকোলা তেসলার ভাষায়ঃ “If you want to find the secrets of the universe, think in terms of energy, frequency, and vibration“। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় মানুষের বিশ্বাস ছিলো মৃত্যুর পর তাদের হৃদয়ের ওজন করা হবে এক পালকের ওজনে। যদি সেই পালকের থেকে ব্যাক্তির হৃদয়ের ওজন হালকা হয় তার মানে হলো সেই ব্যাক্তি একটি আদর্শ জীবনপাত করেছে। আর যদি পালকের ওজনের থেকে ব্যাক্তিটির হৃদয় ভারী হয় তার অর্থ দাড়ায় ব্যাক্তি একটি পঙ্কিল জীবনপাত করেছে। এইসবই যদি ধর্মের সাথে না গুলিয়ে প্রতীকী অর্থে নেই তাহলে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুধাবন করতে পারবো। তাহলো আমরা মুখে কি বলি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা আমাদের অন্তরে কি ধারণ করি। এজন্য গৌতম বুদ্ধের কিছু কালজয়ী বাণী আছে, সবার প্রথমেই আসে আমাদের মনের ব্যাপার “আমরা যা ভাবি, তাই আমরা। আমাদের সমস্ত অস্তিত্ব আমাদের চিন্তার সাথেই জন্ম নেয়। আমাদের চিন্তার মাধ্যমেই আমরা বিশ্বকে তৈরি করি(“All that we are is the result of what we have thought.)।” এজন্য মোটামুটি সব ধর্মেই আছে সুচিন্তা, সুবচন ও সুকর্মের নির্দেশনা। মহামতি গৌতম বুদ্ধের অষ্টাঙ্গিক মার্গ (eightfold path) এ তাই আছে ১) সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি(Right View) ২)সঠিক সংকল্প(Right Intention)৩) সঠিক বাক্য(Right Speech)৪) সঠিক কর্ম (Right Action) ৫) সঠিক জীবনধারণ (Right Livelihood)৬) সঠিক প্রচেষ্টা(Right Effort) ৭) সঠিক মননশীলতা(Right Mindfulness) ৮) সঠিক একাগ্রতা (Right Concentration)। ধর্ম আসে ধর্ম যায়, যুগে যুগে সব ধর্ম প্রবর্তকের মূলকথা ঘুরেফিরে একই। আমরা যারা ধর্ম অনুসরণ করি তারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে যাই, একদল আরেক দলের থেকে সেরা দাবী করে যাই, কিন্তু সকল ধর্মের মূল যে বাণী তা ধারণ করার কোন চেষ্টা আমাদের মধ্যে দেখা যায় না। এজন্য দেখা যায় ধর্মের নাম নিয়ে আমরা যুদ্ধ করি, দাঙ্গা লাগাই, রাজনীতি করি, দলাদলি করি; মোটকথা ধর্মের নামে অধর্ম করে যাই। আর এসবই mind game, এক্ষেত্রে আমরা আমাদের মনের দাস। আমরা প্রমাণ করতে চাই আমরাই সেরা, সেরা বলে আমাদেরকেই সকলের অনুসরণ করা উচিত। যদি তা নাহয় তাহলে আমাদের পরাজয় হবে, অন্যদেরকে অনুসরণ করতে হবে আমাদের। নানা রকম কাহিনী রচনা করি, যে কাহিনী পুরোটাই মনগড়া। মন দিয়ে যখন আমরা তাড়িত হই তখনই আমরা ভয়ে থাকি, শঙ্কায় ভুগি, উদ্বিগ্ন থাকি। খুব প্রচলিত এক বাণী আছে তাহলো “He who controls others may be powerful, but he who has mastered himself is mightier still.” এজন্যই দেখা যায় ইতিহাসে যত মহান ব্যাক্তিত্ব আছে তাদের সবাই তাদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন সবার আগে। যে পরিবার, যে সমাজ, যে জাতি তাদের মনকে নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছে তারাই সমৃদ্ধির শিখরে উঠেছে, আর যখনই মন তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলেছে তখনই তাদের পতন নেমে এসেছে। যত ধর্ম, যত সংস্কৃতি ও যতরকমের প্রতিষ্ঠান আছে সবকিছু আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রণের চর্চার উপর প্রতিষ্ঠিত। আর এই সব কিছু মানুষকে নিয়েই গঠিত হয়, যখনই এসব কিছু মন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হতে শুরু করে তখন থেকেই এগুলোর পতন শুরু হয়। এগুলোর পতনের মধ্যে দিয়ে পতন হয় সভ্যতার। যে মুহুর্তে আমরা আমাদের মনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবো সেই মুহুর্তে আমরা আমাদের জীবন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবো। সেজন্য আমাদের ন্যারেটিভে পরিবর্তন আনা দরকার। উদাহরণস্বরূপঃ ‘আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও আত্ননির্ভরশীল জাতি। সকল প্রতিবেশী দেশ আমাদের বন্ধুসুলভ। পৃথিবীর যে দেশেই যাই সেখানেই আমাদের সাদরে গ্রহণ করে নেয়া হয়, আমরাও সকল জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষকে সাদরে গ্রহণ করে নিই। আমাদের দেশের পরিবার থেকে সমাজ সব পর্যায়ে মানুষের মনে অনাবিল শান্তি বিরাজ করে, সবার মধ্যে সহযোগিতা ও ভাতৃত্ববোধ মজবুত। আমাদের অতীত ইতিহাস যেমন গৌরবময়, আমাদের ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেয়।’

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 91