DivineFeminineEnergy

সকল প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।

আমার বাবার দাদী অনেক প্রভাবশালী এক মহিলা ছিলেন। বাবার মুখে শুনেছি তার দাদী তাকে অত্যধিক স্নেহ করতেন ছোটবেলা থেকে। তো সেই বড় মার গল্প অনেক শুনেছি। বড় মা কিভাবে এতো বড় সংসার সামলেছিলেন, সবার পড়াশোনা নিশ্চিত করছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। বড়মা আব্বাকে তার গয়না পুতে রাখার গোপন জায়গা পর্যন্ত দেখিয়ে রেখেছিলেন। বাবার দাদা ছিলেন এক ছেলে, তার আর কোন ভাই-বোন ছিলো না। আমার দাদাও একাই ছিলেন, তারও কোন ভাই-বোন ছিলোনা। বাবার দাদার বাবা বেঁচেছিলেন অনেকদিন পর্যন্ত, কিন্তু বাবার দাদা অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন। তেমনি আমার দাদাও অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন। তো যার কথা বলছিলাম বাবার দাদী মহিলা খুব ব্যক্তিত্ববান মহিলা ছিলেন। একা হাতে তিনি নিজের ও তার ছেলের সংসার আগলে রেখেছিলেন। বড়মা তার বান্ধবীর সাথে দেখা করার জন্য কি করেছেন , দেখা হলে কিভাবে সারাদিন আলাপ চালিয়ে যেতেন সব রেখে সেসব গল্পও শুনেছিলাম সেই বড়মার কোন এক আত্নীয়ার কাছ থেকে। সেই তৎকালীন আমলে এক গ্রাম থেকে দূরের আরেক গ্রামের বান্ধবীর সাথে দেখা করা ও দিনভর আড্ডা দেয়ার গল্প শুনে অবাক হয়েছি, কারন আমার শৈশবেও এমন অনেক পরিবার দেখেছি যারা কিনা মেয়েদের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে (তাও আবার সংসার ফেলে বান্ধবীর সাথে দেখা করার জন্য!) কতটা কঠোর অনমনীয়। বড়মা তার বাবার বাড়িতেও বেশ সম্মানীয় ছিলেন, তিনি সেখানে গেলে সবাই ব্যতিব্যাস্ত (পজিটিভ অর্থে) হয়ে পড়তেন সেই আলাপও বড়মার বাবার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে শুনেছি। স্থিতধী স্বভাবের জন্য এলাকার সবাই তাকে খাতির করতো। সেই আমলে এলাকার চেয়ারম্যানকে প্রেসিডেন্ট বলা হতো, তো সেই চেয়ারম্যান তার মেয়েকে আমার দাদার সাথে বিয়ে দিয়েছিলেন বাল্যকালেই। বড় দাদী মারা গেলে আমার দাদার বিয়ে হয় আমার দাদীর সাথে, যে কিনা ছিলো বড় দাদীর বাবার বন্ধুর মা মরা মেয়ে। বাবার যে দাদী সে মহিলা এমনভাবে সংসার আগলে রেখেছিলেন যাতে করে দাদার আগের পক্ষের ছেলেদের কোন সমস্যা না হয়। বড়মা (বাবার দাদী) গাছ-পালা চিনতেন ভালো, অনেক দূর দূরান্ত থেকে অনেকে বড়মার কাছে আসতেন নানা সমস্যা নিয়ে, তার কাছে অনেক কিছুর সমাধান পাওয়া যেতো বলে। বাবার বিয়ে দেখে যাওয়ার তার খুব শখ ছিলো। মার কাছে শুনেছি সেই বড়মা নতুন নাতবৌকে চিঠি পর্যন্ত লিখিয়েছিলেন। বড়মা অবশ্য আমার মাকে দেখে যেতে পারেনি, মা কে বাড়িতে নেয়ার আগেই তিনি পরপারে চলে গিয়েছিলেন বলে শুনেছি।

বাবার মুখে তার (বড়মা) দাদীর গল্প শুনেছি অনেক, আশেপাশের অনেকের কাছ থেকেও তার কথা শুনেছি, যত শুনেছি ততই তাকে জানার আগ্রহ জন্মেছে। তবে এইসব গল্প শোনার মধ্যদিয়ে একজন নারীর জীবন অবলোকন করেছি যে জীবনের চড়াই উতরাই পার করেছে একা হাতে। যে গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় নারী দূর্বল একথা যারা বারবার বলে যায়, যারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাঁদের উদ্দেশ্য আর কিছু নয়, কেবল নিজের দূর্বলতা ঢাকতেই ওমন বলে। আমার বাবা খুব সুন্দর করে গল্প করতেন, আসর জমাতে পছন্দ করতেন। এই গল্পগুলো বলে হয়তো ইচ্ছে করেই তিনি বাল্যকাল থেকে আমাদের মনে গেঁথে দিতে চেয়েছিলেন যে, সমাজ-সংসার যে যাই বলুক না কেনো আমরা (তার মেয়েরা) যেনো আমাদের অন্তর্নিহিত শক্তির কথা ভুলে না যাই।

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 91