Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

পশ্চিমা দেশে এসে অনেকেই মনে করে এখানে যা খুশি তাই করা যায়। এখানকার মানুষের কোন কিছুতেই কোন সীমা নেই, সীমাহীন স্বাধীনতা এদের জীবনে। যেমন এরা এলকোহল খায় ইচ্ছে মতো, নারী-পুরুষ অবাধ মেলামেশা করে, জামাকাপড়ের ঠিক নেই, পশু-পাখির মতোই এদের জীবন। আফগানি এক লোক বিবাহিত হয়েও পশ্চিমা মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করে, নিজের সন্তান সংসার গোপন করে নিজেকে সিঙ্গেল দাবী করে। সে এক ফাঁকে এসে এও বলে এদের সাথে যা খুশি তাই করা যায়, এরা সবকিছুতে ওপেন। কিন্তু আমার অভজারভেশনে মনে হয়েছে এইসবই হচ্ছে ওই লোকের ধারণা। আমার সাথে যাদের পরিচয় হয়েছে এদের অনেকে জীবনে মদ পর্যন্ত ছুঁয়ে দেখেনি, পোশাকে-আচারে শালীন। হ্যাঁ অনেকে আছে যারা smoke করে, অনেকে আছে একটু খোলামেলা ড্রেস পরে তার মানে এই নয় তারা slut, যার যা ইচ্ছা তাই তাঁদের সাথে করার অধিকার রাখে। এখানে মেয়েরা যেরকম নিরাপদে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে তা আমাদের উপমহাদেশে কল্পনারও বাইরে।
আমার ছেলের বয়স তখন আড়াই বছরের একটু বেশি হবে। জার্মানিতে এসেই ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট পেয়ে যাই। ছোট এক জায়গায় ডাক্তারের ছোটখাটো চ্যাম্বারে যখন ছেলেকে নিয়ে যাই তখন খেয়াল করে দেখি সেখানে জায়গায় জায়গায় গামী বিয়ার (gummy bear), চকোলেট বার, লজেন্স ইত্যাদি ছড়ানো ছিটানো আছে, বাচ্চারা ওসব ঠিক চেনে। ছেলে এইসব দেখে আমার কাছে আবদার করে, আমি ওকে বোঝাই যে ওগুলো তো ডাক্তার দিলে তখন নিতে হয়, আমরা চাইলেই নিতে পারবো না। ছেলে কি মনে করে চুপ হয়ে যায়, আমিও মনে মনে স্বস্তি পাই প্রথম প্রথম কিছুটা বিরক্ত হলেও। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তরের রুমে ঢুকলে প্রাথমিক কিছু কথা বার্তার পর ওর সাথে কথা বলা শুরু করে। সুড়ুতেই ওকে gummy bear একটা দিতে চায়, দিতে চেয়ে পরে আবার ওকে জানায় যে তখনই না নিয়ে একটু পরে যদি নেয় তাহলে ও দুইটা gummy bear পাবে। ছেলে কি বুঝে রাজি হয়ে যায়। অনেক পরে ডাক্তার ওকে দুই পিস gummy bear দিলে ছেলে খুশি মনে তা নিয়ে নেয়।
ঠিক তখনই কিছু না বুঝলেও পরে জানতে পারি ওইটা এক ধরণের পরীক্ষা। ওই বয়সে একটা বাচ্চা কতটা যুক্তি দিয়ে চিন্তা করে, কতটা ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা রাখে সেটার পরীক্ষা। হ্যাঁ বড় হয়ে গেলে অনেকেই সেই ট্রেইনিং পেয়ে যায়, তখন বোঝা যায় না আসলে inherently কার reasoning capability আছে। আড়াই বা তিন বছরের বাচ্চার সেই ট্রেইনিং হয়না, সে যা চায় তাই পেয়ে যায়, অনেক সময় চাওয়ার আগেই তা পেয়ে যায়। এই ছোট্ট একটা পরীক্ষা থেকে একজন বাচ্চার ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে সেটাও আন্দাজ করে ফেলে এরা অনেক সময়।
আমাদের উপমহাদেশে একাকী একটি মেয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেনা। একটা মেয়ে ওড়না ছাড়া ঘুরলে, বড় গলার পোশাক পরলে পরে তাকে হ্যারেজ হতে হয়, অনেক সময় কথায়, অনেক সময় খারাপ স্পর্শে। আর যারা পশ্চিমা পোশাক পরে চলাফেরা করে তাঁদের তো পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ওঠারই উপায় নেই। অনেকে ওইসব মেয়েকে খারাপ ট্যাগ লাগায়, অনেকে ওইসব মেয়েছেলের সাথে যা খুশি তাই করা যায় বলে দাবী করে, কারন ওরকম পোশাক পরে তারা গোবেচারা পুরুষদের provoke করে থাকে বলেই তাদের দাবী। অনেক মহিলারাই তাঁদের পরিবারের পুরুষ সদস্যদের/পুরুষদের কুকর্মের পক্ষ নিয়ে ওইসব মেয়েদের দায়ী বলে চিহ্নিত করে থাকে।
এখন আসি সেই চকোলেট প্রসঙ্গে, এখানে অনেক মাই খুব বিরক্ত হবে কেনো ওইভাবে চকোলেট ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে ডাক্তারের চ্যাম্বারে। সেইসব মা বাচ্চার পক্ষ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করতে পারে, বাচ্চার চাহিদায় লাগাম না টানতে পেরে ক্ষেপে যেতে পারে। কিন্তু নিজে শান্ত হয়ে বাচ্চাকে না বুঝিয়ে blame shift করা শেখাতে পারে, অথবা নিজেদের ভিক্টিম হিসেবে দাবী করতে পারে। আরও যা কিছু করতে পারে তাহলো সেই ডাক্তারের কাছে যাওয়াই বাদ দিতে পারে খারাপ অভিজ্ঞতার জন্য। আচরণে অসংযত হয়ে বাচ্চার reasoning capability উন্নয়নের যে ব্যাক্তিগত দায় তা এড়িয়ে গিয়ে ছেলের চারিত্রিক গঠনের প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করে দিতে পারে।
যেসব মায়েরা পুরুষতান্ত্রিক যন্ত্রের দাস তারা পুরুষদের উপর কোন দায়িত্ব চাপাতে নারাজ। তারা মনে করে মেয়েদের যত বিপদ-আপদ বা ভোগান্তি তার সবই তাঁদের দায় ছেলেদের যত অপকর্ম তার পেছনে বড় কারণ মেয়েদের অসংযত, উদ্ধত ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ। ‘হরিণ যদি বাঘের সামনে ঘোরাঘুরি করে এলো চুলে তাহলে বাঘের দোষ নাকি হরিণের?’ এই উদাহরণ দিয়ে তারা সবকিছু থামিয়ে দিতে চায়। অথচ একটা মেয়েকে হরিণ আর ছেলেকে বাঘ বানানোর পেছনে রহস্য কি? বাঘ আছে বাঘিনী নেই? বাঘিনী কি পুরুষ-নারী হরিণে ভেদাভেদ করে? যে ব্যাক্তি আচরণে পশুসুলভ সে নারী হোক কিংবা পুরুষ হোক মনুষ্য সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা থাকার কথা নয়, সে আচরণের জন্য তার শাস্তি হওয়াই উচিত কিংবা তার সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা উচিত। এখানে সমর্থনের নামে পদলেহনের মানে দেখিনা। নারী শরীর পুরুষের কাছে লোভনীয় হতেই পারে কিন্তু তাকে খাবারের সাথে সাথে তুলনা করে অবজেক্টিফাই করার সময় খুব ঘৃণা লাগে তাও যদি আবার হয় ধর্মীয় মজলিশে, ওয়াজ-মাহফিলে। অথচ কিনা ধর্মীয় নির্দেশনায় পুরুষ-নারীর উভয়ের দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশনা আছে, একে অপরকে দোষারোপ করার কথা কোথাও নেই। একজন মেয়ে যদি খোলা শরীরেও চলাফেরা করে তাহলেও তার গায়ে কোন ভদ্রলোকের হাত দেয়ার কথা না, দোষারোপ করা তো দূরের কথা। এই টপিকে এলেই কে কত বড় ধার্মিক সে পরিচয় বের হয়ে আসে। অবশ্য ধর্মের নামে যা যা হয় তার বেশীরভাগই তো অধর্ম!