Unity of being-অস্তিত্বের একত্ব

অবিভক্ত ভারতে পশ্চিম বাংলা ও পূর্ব বাংলা নিয়ে বাংলা প্রদেশ। এই প্রদেশে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায় যেমন হিন্দু শাসকের অধীনে শাসিত হয়েছে, তেমনি শাসিত হয়েছে মুসলিম শাসকের অধীনে। বড় রকমের বিবাদ ছাড়াই দুই সম্প্রদায়ের লোকজন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে এসেছে। তাহলে কি এমন হয়েছিলো যে কারনে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বাদ-বিবাদ শুরু হয়ে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যেতে হলো? সারা ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বাদ-বিবাদ শুরু হয়েছিলো ব্রিটিশ শাসনামলে। তৃতীয়পক্ষের আগমনে যেমন অনেক সোনার সংসার ভেঙ্গে গিয়েছে, তেমনি অবিভক্ত ভারত ব্রিটিশদের আগমনে হিন্দু-মুসলিমে ভাগ হয়ে গিয়েছিলো। এই বিভাজনের জন্য আমরা ব্রিটিশ সরকারকে দোষারোপ করতে পারি, মৌলবাদী চেতনার লোকজনের বদনাম করতে পারি, কিন্তু এসবে আসলে কোন লাভ নেই। যে সম্পর্ক বা সংসার ভাঙ্গার তা ভাঙবেই, তৃতীয়পক্ষ এখানে উছিলা মাত্র। সম্পর্ক ভাঙ্গে কেনো? সে প্রসঙ্গে আসলে বলতে হয় সবই ভগবানের লীলাখেলা! প্রসঙ্গের খাতিরে পারস্য কবি রুমি চলে আসে স্বভাবতই। রুমির বিখ্যাত এক বাণী আছে তাহলো “He who blames others has a long way to go on his journey. He who blames himself is halfway there. He who blames no one has arrived।” ভারত বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশ হওয়ারই ছিলো এবং তাই হয়েছে। এই বিভাজনে ব্রিটশদের যেমন প্রভাব আছে, তেমনি আমাদের দায় এড়ানোরও কোন উপায় নেই। আর যা হওয়ার তা হয়েই গেছে, কাউকে গালাগালি করে লাভ নেই। এখন কথা হচ্ছে আমরা কি চাই এখন? আমরা কি আবার সেই অবিভক্ত ভারত চাই? আবারো সেই পাকিস্তানের অংশ হতে চাই? নাকি স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবেই একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে চাই? দেশের মধ্যে স্পষ্ট দুই ভাগ দেখা যায়ঃ ১) পাকিস্তানপন্থী ২) ভারতপন্থী। যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আমি কি চাই? তাহলে বলবোঃ আমি অবিভক্ত ভারতের অংশ হতে চাই। কিন্তু এই ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষেরা কি ধর্ম-জাত-পাতের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে এক হতে প্রস্তুত?

tamziadmin
tamziadmin
Articles: 91