Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

মেয়ে হিসেবে মা-বাবার আদর যত্নের কমতি ছিলো তা বলতে পারবোনা, বরং মেয়েদের জন্য অন্য অনেক মায়ের থেকে যত্ন-আত্তি ছিলো অনেক দিক থেকে বাড়াবাড়ি রকমের। আমার মায়ের ছেলের অনেক শখ ছিলো, একথা সে কোনদিনও লুকায়নি; তার এই সততা আমাকে মুগ্ধ করে। অনেকে মনে মনে ছেলে কামনা করলেও মুখে স্বীকার করেনা, অনেকে আছে এমন ছেলে বাচ্চা কামনা করাই যাবেনা বলে জোর দাবী জানায় (fanatical); আমার মায়ের সেসবের বালাই ছিলোনা। মা বলতো ছোটবেলা থেকেই তার ছেলে বাচ্চাদের প্রতি বিশেষ ভালোলাগা কাজ করতো, ছেলে বাচ্চা মনে মনে wish করতো। দুই মেয়ের পর আরেকটা মেয়ে হলে অনেকে এসে চুকচুক করে বলতো আহারে ছেলের আশায় নিলো, আবারো মেয়েই হলো; অনেকে এসে বলতো আহা মেয়েরাই ভালো, মেয়ে বাচ্চা ছেলেদের থেকেও ভালো। এসব হা-হুতাশ ও স্বান্তনা শুনে শুনে বড় হয়েছি বলে এই নিয়ে বিভ্রমও (illusion) কেটে যায় অনেক আগেই। আমাদের সমাজে মোটামুটি বেশিরভাগ মানুষই মনে মনে ছেলে বাচ্চা চায়, ছেলে বাচ্চা থাকলে পরে মেয়ে বাচ্চা কামনা করে। ছেলে বাচ্চা থাকলে যখন কেউ মেয়ে বাচ্চা কামনা করে তখন সেটা হয় গৌরবের ব্যাপার; তবে কারো যদি মেয়ে বাচ্চা থাকে আর সে যদি ছেলে বাচ্চা কামনা করে তাহলে সেটা অবমাননাকর,লজ্জার ব্যাপার। অনেকে গর্ব করে যখন বলে তারা মেয়ে বাচ্চা কামনা করে তখন মনে হয় এ যেনো গরিবি নিয়ে গৌরব করার মতো ব্যাপার-সেপার। গরীবের দল থেকে কেউ যদি ধনি হওয়ার স্বপ্ন দেখে তখন যেমন তাকে মানুষ মেনে নিতে পারেনা, তেমনি মেয়ে বাচ্চার মা-বাবা যদি ছেলে সন্তান কামনা করে সেটাও সমাজ বাঁকা চোখেই দেখে। সমাজের মানুষকে খুশি করার একটা চাপ, কিংবা ছেলে বাচ্চা আকাঙ্ক্ষা করার মতো দুর্বলতা থেকে অনেক উপরে থাকার বাসনা হয়তো সবার মাঝেই থাকে। এই ব্যাপারে মানুষের নানারকম ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া দেখে দেখে মনে হয় যাদের সন্তান নেই কিংবা সন্তান থাকলেও সুস্থ নয় তারা তাহলে কোথায় যাবে?! এ যেনো অনাহারীর সামনে পিঠা সেরা নাকি পায়েস এই নিয়ে অযথা বাক-বিতন্ডা।
মেয়ে আর ছেলে বলে কথা নেই, একেক বাচ্চা একেক রকম। কোন বাচ্চা সহজ, তো আবার কোন বাচ্চা কঠিন। অনেকে আফসোস করে বলে থাকে মেয়ে বাচ্চা লালন-পালন করা অনেক সহজ ব্যাপার, ছেলে বাচ্চা পালন অনেক কঠিন বিষয়। মানুষের নানা থিওরি শুনে মনে হয় এরা বেশিরভাগই বিশেষজ্ঞের মতো মতামত দিতে পছন্দ করলেও আসলে সবই ফাকা বুলি। যুগের পরিবর্তনে অনেককিছু পাল্টালেও বাচ্চা লালন-পালনের দক্ষতা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ন। এক গ্রীক মহিলা মিউনিখে আসার পর থেকেই পরিচয় (বয়সে ছোট ও বন্ধুসুলভ) একবার আমায় বলেছিলো, “আসলে সমস্যা বাচ্চাদের মধ্যে না, সমস্যা হলো গিয়ে বড়দের মধ্যে'”। অনেক মা-বাবার কোন রকমের দক্ষতা নেই নিজেকে মানসিকভাবে শান্ত করার, নিজেকে সংযত করার, নিজের যত্ন নেয়ার সেই মা-বাবা কি করে তাদের সন্তানদের শান্ত করবে? কি করে যত্ন নিবে, কি করে সংযমী আচরণ শেখাবে? চিন্তা ও মননে অপরিণত মা-বাবার মনের মতোই তাদের চারপাশের পরিবেশেও দেখা যায় চরম বিশৃঙ্খলা। কোন এক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের এক মহিলা মেয়ে নিয়ে এসেছে এক গ্রুপে। সে গ্রুপে এমন সব বাচ্চারা আসে যাদের কিন্টাগার্টেনে জায়গা হয়নি, কিংবা কিন্টারগার্টেন থেকে difficult বলে বের করে দিয়েছে; যারা কিছুটা সময় কিছু একটিভিটিজ করবে, কিন্টাগার্টেন/স্কুলের জন্য রেডি হবে, যে সময়টা মায়েরা একটু অবসর পাবে। বলা যেতে পারে সেই আফগানী মহিলা জার্মান ভাষা পারেনা, তার সাথে গুগল ট্রানস্লেশন ব্যাবহার করেও তেমন কথাবার্তা চালানোর সুযোগ নেই। সেই গ্রুপে ভলান্টিয়ার কাজ করছিলাম আমি, মহিলার কথা ঠিকমতো না বুঝে মেয়েকে রেখে মহিলাকে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম; পরে তাকে ডেকে আনানো হয়। জানানো হয় প্রথম কিছুদিন তাকে মেয়ের সাথে গ্রুপে থাকতে হবে, তারপর মেয়ে যখন গ্রুপে অভ্যস্ত হয়ে যাবে তখন সে চলে যেতে পারবে। মহিলা যতক্ষণ ছিলো ততক্ষণ মেয়ে বাচ্চাটি ক্রমাগত কান্না করে যাচ্ছিলো, পরে মহিলাকে পাঠিয়ে দেয়া হলো বাচ্চাসহ। এরপরের সেশনে মহিলাসহ মেয়ে গ্রুপে ছিলো অনেকক্ষণ, বাচ্চা খেলছিলো অন্য বাচ্চাদের সাথে, আবার কান্নাও করছিলো কিছুক্ষণ পরপর। দেখা গেলো মহিলাটি তার মেয়ের কান্না থামাতে পারছেনা বরং মহিলা যখন মেয়ের কান্না থামাতে যায় বাচ্চা আরও জোরে কান্না শুরু করে দেয়। সেই সেশনের মাঝ পর্যায়ে মেয়েসহ মাকে ফেরত পাঠানো হলো। আমি কাজ করছিলাম মেলানির (Melanie) অধীনে। মেলানি আমাকে জিজ্ঞেস করলো যে, সেই মহিলা কেনো বাচ্চাকে সামলাতে পারলো না বলে আমার মনে হয়? আমিও ওকে জানালাম আমার কি মনে হয়, বলতে বলতে ওকে জানালাম আসলে আমার জার্মান ভাষায় অতটা দক্ষতা এখনও আসেনি যে, আমি ঠিকমতো বোঝাতে পারবো। তারপরও ওকে জানালাম হয়তো মহিলার এখানে কোন আত্নীয়-স্বজন নেই, বাচ্চা কান্না করলে সাধারণত আমাদের মতো দেশগুলোতে অন্যরা (পরিবারের অন্য সদস্যরা, প্রতিবেশী) এগিয়ে আসতো, যে সময়টা মায়েরা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতো। তাই বাচ্চা যখন কান্না করে তখন সেই মহিলা নিজেই চাপে পড়ে যায়, নিজেকে শান্ত করতে পারেনা, অসহায় হয়ে পড়ে(helpless feel করে), কোন উদ্ধারকারী(rescuer)নেই বলে। মেলানি বয়সে আমার ছোট ও বন্ধুসুলভ। ওর উপস্থিতি এমন যেখানে কোন রকমের ভাণ (performenc) নেই, অকৃত্রিম (authentic)। বয়সে ওর বড় হয়েও ওর পাশে কখনও এমন অনুভব করিনি যে ও কচি কামিলি, আর আমি বুড়ি থুড়থুড়ি; social worker হয়েও মন ভোলানো মিষ্টি আলাপ, আলগা পিরিতি বা খাতির জমানোর কোন চেষ্টা যেমন ওর মধ্যে দেখিনি শুরু থেকে, এরপর ওর অধীনে কাজ করার সময়েও আচরণে কোনরকমের ঔদ্ধত্যতা দেখিনি কখনও। শুরু থেকেই ও আচরণে বেশ সদয় দেখিয়েছে, কাছের করে নিয়েছে। ও বললো যে তোমাকে জিজ্ঞেস করার কারন হলো তোমারও কিছুটা verbally communicate করার চর্চা (practice) হলো। আমিও খেয়াল করলাম কেবল পর্যবেক্ষণ (observe) করেছি তাই নয়, সেটা নিয়ে কারো সাথে আলোচনা করছি। মেলানি কিছু জানায়নি আমার পর্যবেক্ষণ সঠিক কিনা, তবে ওকে যতটুকু জেনেছি, ভুল বুঝলে ও আমাকে শুধরে দিতো সুন্দর করে। কিংবা এও হতে পারে ও এই ব্যাপারটায় শুধুমাত্র আমার সম্যগদর্শন (insight) জানতে চেয়েছে।
(প্রকৃত নাম ও দেশগুলো উল্লেখিত ব্যাক্তিদের গোপনীয়তা রক্ষার্থে গোপন রাখা হয়েছে)