Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

প্রভু মজুমদার, klartext এ জার্মান B2 কোর্সের শিক্ষক, ফিলোসোফার, লেখক। উনার ক্লাশে প্রথমদিন আলোচনার পর জানতে পারি যে উনি ভারতীয়। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে উনি জার্মানিতেই বাস করেন। এখানেই প্রেমে পড়েছেন, বিয়ে-শাদি করেছেন, এখানেই ওনার ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি বাস করে। মূলত তিনি একজন ফিলোসফার, তবে পড়াশুনা শুরু করেছিলেন দিল্লীতে ফিজিক্সে। ওনার জার্মান পাড়ি জমানোর কাহিনী বেশ চমকপ্রদ। ফিজিক্স পড়ার সময় এক ধরনের উপলদ্ধি আসে যেখানে ওনার মনে হয়েছিলো, “দুইটি পরমাণুর আলাদা অস্তিস্ত্ব কিভাবে নির্ণয় করা যাবে?” সেখান থেকেই ফিলোসোফিতে উনার আগ্রহ জন্মে। বড়বোন জার্মান ভাষা শেখার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলো, কিন্তু আরও অনেক কোর্স নিয়ে ব্যাস্ত বড়বোনের জায়গায় ভাষা শিক্ষার কোর্স শুরু করেন তিনি। সেই কোর্স চলাকালীন সময়ে জার্মান ভাষা শিক্ষকের ব্যাক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে ফিলোসোফি নিয়ে জার্মানের হামবুর্গ শহরে চলে আসেন। এখানে এসে জার্মান ভাষা রপ্ত করেন, ফিলোসোফি পড়তে গিয়ে ফ্রেন্স ভাষা শেখার প্রয়োজন মনে করেন, এবং সেই ভাষাও মোটামুটি রপ্ত করে ফেলেন।ফরাসি ফিলোসোফার (Michel Foucault) ফুকোর মতাদর্শে তিনি বিশেষভাবে প্রভাবিত বলেই তিনি জানান। বয়সে প্রবীণ হয়েও ওনাকে তরুণদের থেকেও প্রাণবন্ত মনে হয়। তার চাহনিতে উজ্জ্বলতা, জ্ঞানের প্রদীপ যেনো জ্বলজ্বল করছে, ব্যাক্তিত্বে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায় না। ওনার সাথে মেশার সময় প্রায় সময় যেমন মনে হয়েছে ভালো যে উনি বয়সে প্রবীণ তা নাহলে ওনার প্রেমে পড়ে যেতে পারতাম, পরক্ষনেই মনে হয়েছে আরে এখনও তো ওনার প্রেমে পড়া যায়, গ্যারান্টি দেওয়া যায় কোন?! মোটেও না। ক্লাশের শুরুতেই পরিচয়পর্বে উনি যখন জানতে পেরেছেন কে কোন দেশ থেকে এসেছে তখন উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তাহলে তুমি বাংলা বলতে পারো ?” আমি মোটামুটি হতভম্ব হয়ে জানাই হ্যাঁ পারি, তখনই জানতে পারি উনিও একজন বাঙালি। সবার প্রতিই তিনি স্নেহশীল, এর মধ্যে আমার প্রতি তার স্নেহের মাত্রা যেনো একটু বেশীই বোঝা যায়। এতে করে একটু বিব্রত হই, অন্যরা না আবার মনে করে প্রভুদা পক্ষপাতদুষ্ট। প্রভুদা যে লেখালিখি করেন তা জানতে পেরে ওনার নাম গুগলে সার্চ দিয়ে দিলাম, ওনার কাজ নিয়ে মোটামুটি ধারণা পেয়ে গেলাম, সেটা নিয়ে ক্লাশেও ওনার সাথে আলোচনা হয়েছিলো খানিকটা মনে পড়ে। কোর্স চলাকালীন সময়ে ওনার সাথে ইনফরমাল আলোচনা করারও সুযোগ হয়, সে সময় ওনার তখনকার কাজের বর্ণনা করেন বিপুল উৎসাহে উদ্বেলিত হয়ে, জানতে পারি ফিলোসোফি ওনার জীবনে বেঁচে থাকার মানে, আর পাশাপাশি এই যে শিক্ষকতা করেন সেটা মূলত জীবিকা নির্বাহের তাগিদে। ক্লাশে যাবার পথে উনার সাথে ট্রেনে দেখা হলে গল্প জুড়ে দেই, একটা ক্যাফেতে ওনাকে প্রতিদিন সকালেই দেখা যাবে, ক্লাশের আগের সময়টুকু সেখানে বসে উনি কফি নিয়ে লিখালিখি করেন, সেখানে ওনার সাথে আলোচনায় বসে যাই। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর তাঁকে দেখা যায় সারাক্ষণ কাজের মধ্যেই আছেন। ওনাকে দেখে বোঝা যায় এই জীবনীশক্তির উৎস কি হতে পায়ে, মোটিভেশনাল স্পিচ কিংবা বাইরের কোন উৎস হতে পারেনা, এ যেনো স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা থেকে পাওয়া শক্তি। চিরতরুণ প্রভুদা জানতে পারেন আমিও লিখালিখি করি, আমিই তাঁকে জানাই। একথা জানার পর উনি নিজের লিখা সবচেয়ে পছন্দের কবিতা দেখতে চান। উনাকে “যে মাতাল সেই জানে” কবিতাটি পড়তে দিয়েছিলাম। কবিতা পড়ে নিয়ে উনি তার ভালোলাগা প্রকাশ করেন। এরপর উনি আমার কয়েকটি বাঁছাই করা কবিতা ওনার বন্ধু আনিস ভাইয়েকে ই-মেইলে পাঠাতে বলেন, দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে আনিস ভাইকে পাঁচটি কবিতা পাঠিয়ে দেই। আনিস ভাই জার্মানিতে বাংলা ম্যাগাজিন বের করছে। আনিস ভাই হলেন অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার ও বাংলাদেশী। প্রভুদার উৎসাহে অনেকটা লিখা ছাপাতে সম্মত হই, যদিও এইসবে আমার অসস্ত্বি। কোন ক্যারিয়ার নেই, ইনকাম নেই, জামাইয়ের ঘাড়ে বসে খাই, কেনো চাকরী খুঁজে নেই না একটা? এইসব নিয়ে যখন নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি, মানুষজনের সরাসরি আক্রমণের শিকার হয়েছি, আজেবাজে মন্তব্য শুনেছি, সেখানে প্রভুদা আমাকে জানান “আশা তুমি যেমন আছো তেমনই থাকবে, একদম বদলাবেনা।” বলেছিলেন মানুষের আজেবাজে কথা যেনো একদম গায়ে না মাখি। কিছু করিনা বলে অনেকে নানা রকম ভয়-ভীতি দেখায় সে কথা জানালে বলে, ওসব আলোচনায় যেনো আমি অংশ না নেই। জন্মদিনে প্রভুদা যখন আমাকে উইশ করছিলো ক্লাশে সে সময় উনার স্নেহভরা দৃষ্টিতে নিজের বাবার প্রতিচ্ছায়া দেখেছিলাম। বাবার আসনে কাউকে বসাতে চাইনি, তাই ওনার থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিলাম। কিন্তু এই প্রবাস জীবনে এসে উনার সাথে, ইরিসের সাথে, এরকম আরও অনেকের সাথে পরিচয়ের পর মনে হয়েছে ” Finally people are getting me!”। ইরিসের কথাও ওনাকে আমি বলেছিলাম, ইরিসের kunst therapy তে আমার কি উপকার হয়েছে, কি করে ইরিস আমাকে আমার দূর্বলতাগুলো অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। বিরগিটের(Birgit) কথাও জানিয়েছিলাম উনাকে, যার কারনে আমার জার্মান ভাষায় বেশ সাবলীলতা ছিলো অন্য অনেকের চেয়ে; যদিও প্রভুদা নিজ তাগিদে এক্সট্রা সময় নিয়ে আমার অনেক উচ্চারণ ঠিক করেছিলেন(এখনও অবশ্য improvement এর অনেক জায়গা আছে!)। বিদেশবিভূঁইয়ে এসে মনে হয়, দেশেও তো এতোটা গ্রহণীয়তা ছিলো না। এইসব মানুষের সাথে পরিচয়ের পর মনে হয়েছে- It’s not about nationality, religion, language, skin colour, race, family background, gender, money, wealth, dress, face, age…; it’s about frequency. It’s about energy we carry or hold that brings us together. Finally I think that I found my group of people. Or maybe we all are a part of grand plan we don’t know about.