Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124
Physical Address
304 North Cardinal St.
Dorchester Center, MA 02124

যতসব আবোল-তাবোল লোকজন ক্ষমতায় বসে আছে। উদাহরণস্বরূপঃ আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথা যদি বলি, মানে আর কি আমেরিকা তো বলতে গেলে সারা দুনিয়ার মডেল। যে লোক কথাবার্তায় পুরাই নির্বোধ, কেবল বাজে বকে(‘grab them by the pussy’, ‘they are eating the cats they are eating the dogs’); কাজ কারবারের কথা নাহয় নাই তুললাম, সে লোক ক্ষমতায় আসীন । ব্যাপারটা অবাক করার মতো নয়কি?! অনেকের মাথায় এইসব চিন্তা ভাবনা এসেছে এবং মনে মনে হতাশ হয়েছে। অনেকের হয়তোবা আত্নবিশ্বাস ফিরে এসেছে কারন এরা যদি এরকম ব্যক্তিত্ব নিয়ে অত বড় ক্ষমতাধর হতে পারে, তাহলে তারা কেনো পারবো না? এইসব লোকজনও মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে বৈকি! এই যে বর্তমান সমস্যা সেটা নতুন কিছু নয়। যুগে যুগে এরকম সমস্যা ছিলো, আছে, থাকবে। যতসব অযোগ্য, বেহায়া, দূর্বল চরিত্রের লোকগুলাকে ক্ষমতায় দেখা যায় বেশীরভাগ সময়। অথচ যারা যোগ্য, বিনয়ী, চরিত্রের দিক থেকে শক্তিশালী তাদের কেনো যেনো ক্ষমতার জায়গাগুলোয় কদাচিৎ দেখা যায়।
দূর্বল চরিত্রের লোক কারাঃ
১) পাবলিক ইমেজ নিয়ে খুব সচেতনতা, ক্ষমতালোভী
২) দায় এড়িয়ে গিয়ে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানো
৩) প্রশংসায় আকাশে উঠে গিয়ে অন্যদের তুচ্ছজ্ঞান করা
৪) সমালোচনায় পাতালে নেমে গিয়ে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে অন্যকে পাতালে নামানোর জন্য
৫) সব সময় সেরা বলে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করা
৬) অন্যদের মনোযোগ কাড়তে ব্যস্ত হয়ে থাকে, স্পটলাইটে থাকার মনোবাসনা
৭) আকাজ-কুকাজ করে(corruption), বাজে বকে হলেও প্রাসঙ্গিক(limelight) থাকার ইচ্ছা
৮) মানুষকে অগুরুত্বপূর্ণ-অপ্রাসঙ্গিক দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বিশৃঙ্খল ও নাটুকে পরিবেশ তৈরি করা , কারন বিশৃঙ্খলা ও নাটক(chaos & drama) এদের জীবনীশক্তি
৯) আবেগতাড়িত( ভয়, শঙ্কা, উদ্বেগ, দুঃচিন্তা, লোভ, হিংসা, নিরাপত্তাহীনতার চক্রে ) হয়ে অন্যদেরকেও আবেগের জোয়ারে ভাসানোর আকাঙ্ক্ষা
১০) নার্সিসিটিক পার্সোনালিটি ডিস-অর্ডারঃ একদিকে অনিশ্চয়তা ও হীনমন্যতায় (insecure & low self-esteem) ভোগে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষমতাধর (important & powerful) হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে তৎপর।
১১) অন্যের গুন বা সৌন্দর্য তুচ্ছজ্ঞান করতে চাওয়া বিপরীতে তাদের সীমাবদ্ধতা বা ক্ষুতগুলো বড় করে তুলে ধরা। ইত্যাদি ইত্যাদি
প্রখ্যাত পারস্য মরমী কবি রুমির রচনা “সিংহের চামড়া পরা গাধা” এক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারেঃ
এক গাধা ছিলো বনে, কেউই তাকে পাত্তা দেয় না, নূন্যতম সম্মান দেখায় না, উল্লেখযোগ্য কোন অবদান বা যোগ্যতাও নেই তার। সেই গাধার মনে ছিলো অনেক দুঃখ। মনে মনে সে চাইতো সবাই তাকে সমীহ করে চলুক, তার অস্তিত্ব স্বীকার করুক! এইসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে গাধা বনের ভিতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো। সেই পথের ধারে সে পেয়ে গেলো একটা সিংহের চামড়া, চামড়া পেয়ে কিছু না ভেবেই আশেপাশে খানিকটা তাকিয়ে দেখে সে তা গায়ে জড়িয়ে নিলো। এভাবেই সে কিছুক্ষণ হাটছিলো। কিছুদূর যেতেই সে খেয়াল করলো বনের কিছু পশু তাকে দেখে দূরে সরে যাচ্ছে। এমনটা কখনোই হয়নি। বনের আরও গভীরে যেতেই সে দেখতে পেলো পশু-পাখিরা তাকে দেখে ছুটে পালাচ্ছে, নাহয় সামনে ঝুঁকে মাথা নোয়াচ্ছে। ব্যাপারটায় সে খুব মজা পেলো, তাই সে ঠিক করলো সিংহের চামড়া পড়েই সে থাকবে। যদিও ভেতর ভেতর সে একই দূর্বল গাধা, বাইরে থেকে কেউ বলতে পারবেনা যে সে সিংহ নয়। সবাই তাকে দেখে ভয় পায়, মাথা নোয়ায়, নাহয় চুপচাপ তাকিয়ে দেখে। জীবনে এই প্রথম গাধা নিজেকে খুব ক্ষমতাধর হিসেবে আবিষ্কার করলো যেনো। কিছু তেলবাজ শেয়াল-হায়েনারা তাকে তেল দিয়ে যাচ্ছে, কিছু গরু-ছাগল-হরিণ তাকে দেখে পালাচ্ছে, পাখিরা চুপ হয়ে গেছে, কেউ কেউ তাকে আবার ছায়ার মতো অনুসরণ করছে। এতোকিছু একসাথে ঘটে যাওয়াতে গাধা তার আসল পরিচয় ভুলে গেলো, নিজেকে সে সিংহই ভাবতে শুরু করেছে। দিন এভাবেই যেতে লাগলো, না তার প্রতি কোন প্রশ্ন তোলার কেউ থাকলো, না তর্ক জুড়ে দেয়াড় কেউ রইলো! বনেতে সবার মনেতে ভয় বাড়তেই লাগলো। গাধা যখন নিজের পরিচয় পুরোপুরি ভুলতে বসেছে সেই সময় হঠাৎই এক কাণ্ড ঘটে গেলো, মনের খেয়ালে সিংহের মতো হুংকার দিতে যাবে সেই সময় সিংহের সেই চিরচেনা গর্জন আর তার মুখ থেকে বের হয়না। বনের পশু-পাখিরা কেবল গাধার কর্কশ আওয়াজ শুনতে পেলো। সবাই বুঝে ফেললো গাধার আসল পরিচয়।
রুমির এই গল্প থেকে আমরা কি বুঝি? কেবল ঠাট দেখিয়ে আর বড় বড় বুলি ঝাড়লেই নেতা বনে যায় না কেউ, নেতার থাকা দরকার ধীশক্তি, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও ব্যাক্তিত্ববোধ। যে নেতা ভাষণ দেয় তোমরা আমাকে বিদায় দিতে ভিড় করোনা, তাহলে বিদেশের মাটিতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে (ইমেজ নিয়ে সচেতনতা), যে নেতার যোগ্যতার মাপকাঠি মা-বাবা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (low self-esteem), যে নেতার অতীত ইতিহাস কুকীর্তিতে (record of corruption-alleged violence against opossiton party to wipe them out and 10% on government contract and business deal) ভরা সেই নেতাকে ঘিরে দেশের মানুষের উৎসাহ উদ্দীপনা চিন্তা উদ্রেগকারী বটে। এতো বড় দেশে নেতৃত্ব দেয়ার মতো কেউই নেই সেই আওয়ামীলীগ আর বিএনপি (AL & BNP)ছাড়া?! অবশ্য সময়ের সাথে সাথে মানুষও বদলায়; বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিবেচনাবোধ বাড়ে, প্রজ্ঞা বাড়ে, ব্যাক্তিত্বের গঠন হয়। মন্দের ভালো হিসেবে বর্তমান নেতার প্রতি নীতিগত সমর্থন আছে। দেশের যে বর্তমান অরাজক পরিস্থিতি তা একমাত্র স্থিতিশীল সরকার ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়েই সম্ভব।